ঢাকা ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান, সরকারকে এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এরশাদ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার উত্তর বাংলাদেশ এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমাদের মতো দেশের পক্ষে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় না দিয়েও আমরা পারি না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, এই আর্তমানবতার পাশে আমাদের অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে, সেবা ও চিকিৎসা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে, তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নিজ নাগরিকদের এমনভাবে হত্যা-নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া সভ্য দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এরশাদ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের ফেরত এবং তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ, প্রয়োজনে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে তার বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান তানের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান, সরকারকে এরশাদ

আপডেট সময় ০৩:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এরশাদ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার উত্তর বাংলাদেশ এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমাদের মতো দেশের পক্ষে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় না দিয়েও আমরা পারি না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, এই আর্তমানবতার পাশে আমাদের অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে, সেবা ও চিকিৎসা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে, তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নিজ নাগরিকদের এমনভাবে হত্যা-নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া সভ্য দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এরশাদ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের ফেরত এবং তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ, প্রয়োজনে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে তার বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান তানের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।