ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোস্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী রক্তের শর্করা কমাবে ডায়াবেটিসের নতুন ইনজেকশন লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান, সরকারকে এরশাদ

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এরশাদ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার উত্তর বাংলাদেশ এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমাদের মতো দেশের পক্ষে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় না দিয়েও আমরা পারি না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, এই আর্তমানবতার পাশে আমাদের অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে, সেবা ও চিকিৎসা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে, তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নিজ নাগরিকদের এমনভাবে হত্যা-নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া সভ্য দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এরশাদ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের ফেরত এবং তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ, প্রয়োজনে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে তার বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান তানের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান, সরকারকে এরশাদ

আপডেট সময় ০৩:২১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই সঙ্গে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ শনিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এরশাদ এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার উত্তর বাংলাদেশ এমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমাদের মতো দেশের পক্ষে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া খুবই কঠিন। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের আশ্রয় না দিয়েও আমরা পারি না। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এরশাদ বলেন, এই আর্তমানবতার পাশে আমাদের অবশ্যই দাঁড়াতে হবে। তাদের আশ্রয় দিতে হবে, সেবা ও চিকিৎসা দিতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার সেনাবাহিনীর মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে অত্যাচার-নির্যাতন চালাচ্ছে, তা আদিম বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। নিজ নাগরিকদের এমনভাবে হত্যা-নির্যাতন, নারীদের ধর্ষণ, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া সভ্য দুনিয়ায় কল্পনাও করা যায় না। মিয়ানমার সরকারের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এরশাদ বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে দেশত্যাগী রোহিঙ্গাদের ফেরত এবং তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন বন্ধ করতে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ, প্রয়োজনে অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার বাহিনীর অবরোধের মুখে গত ২৪ আগস্ট মধ্যরাতের পর রোহিঙ্গা যোদ্ধারা অন্তত ২৫টি পুলিশ স্টেশনে হামলা ও একটি সেনাক্যাম্পে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। একের পর এক রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয় স্থলমাইন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ উঠে। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি বয়োবৃদ্ধ নারী এবং শিশুরাও। প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে তার বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) মুখপাত্র ভিভিয়ান তানের জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। আর ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।