ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোস্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী রক্তের শর্করা কমাবে ডায়াবেটিসের নতুন ইনজেকশন লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর আরও ‘নিখুঁত’ হামলার আহ্বান ট্রাম্পের উচ্চশিক্ষাকে দক্ষতানির্ভর ও কর্মমুখী করতে নতুন শিক্ষাকাঠামোর উদ্যোগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের পরমাণু অস্ত্র কখনোই ছাড়বে না উত্তর কোরিয়া, কিমের বোনের ঘোষণা গ্রামে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা সরকারে আসার ঝুঁকি এতটা ভয়াবহ হবে ভাবিনি: ফারুকী

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, সীমান্তে এমন পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। রোববার (৭ জুন) কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গ্রহণ না করায় তারা শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন। সংগঠনটি জানায়, এসব মানুষের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। তারা পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তাদের অবস্থান করতে হচ্ছে।

এপিডিআরের ভাষ্য, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাংলাদেশি বলে দায় এড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে থাকা মানুষগুলো কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

এ অবস্থাকে মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করে সংগঠনটি ভারতের কথিত তিন ডি নীতির সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন , চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও নাগরিক পরিচয় মুছে দেওয়ার এই নীতি ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সীমান্তের একাধিক স্থানে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখায় কয়েক ডজন মানুষ আটকে ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত সাড়া দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের কিছু গণমাধ্যম আবার সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশ করেছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

এরই মধ্যে পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে মিছিলের ডাক দিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা সব মানুষকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে জরুরি। সেই ভারসাম্য রক্ষা না হলে সীমান্তের এই সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

বহু নারী-শিশুকে অন্যায়ভাবে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ

আপডেট সময় ১১:২১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখার দিকে ঠেলে দিচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠন গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, সীমান্তে এমন পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ দিনের পর দিন অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। রোববার (৭ জুন) কলকাতায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের গ্রহণ না করায় তারা শূন্যরেখা এলাকায় আটকে পড়ছেন। সংগঠনটি জানায়, এসব মানুষের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও শিশুও রয়েছে। তারা পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন। রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই তাদের অবস্থান করতে হচ্ছে।

এপিডিআরের ভাষ্য, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাংলাদেশি বলে দায় এড়াচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বলছে তাদের বাংলাদেশি পরিচয়ের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ফলে দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকে থাকা মানুষগুলো কার্যত কোনো রাষ্ট্রের সুরক্ষা পাচ্ছেন না।

এ অবস্থাকে মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করে সংগঠনটি ভারতের কথিত তিন ডি নীতির সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন , চিহ্নিতকরণ, বহিষ্কার ও নাগরিক পরিচয় মুছে দেওয়ার এই নীতি ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যেও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ সামনে এসেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সীমান্তের একাধিক স্থানে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের বিভিন্ন শূন্যরেখায় কয়েক ডজন মানুষ আটকে ছিলেন। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে।

নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়ে ঢাকা দ্রুত সাড়া দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের কিছু গণমাধ্যম আবার সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টার খবরও প্রকাশ করেছে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দাবি করেছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।

এরই মধ্যে পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী ১১ জুন মালদা শহরে মিছিলের ডাক দিয়েছে এপিডিআর। সংগঠনটির দাবি, সীমান্তে আটকে থাকা সব মানুষকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসারে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।মানবাধিকার কর্মীদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নারী, শিশু ও অসহায় মানুষের মানবিক মর্যাদা রক্ষাও সমানভাবে জরুরি। সেই ভারসাম্য রক্ষা না হলে সীমান্তের এই সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।