ঢাকা ০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

সিজারের সময় অসতর্কতায় নবজাতকের পেট কর্তন, অতঃপর…

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে জেলা শহরের কাউতলী এলাকার দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। সিজার করা ফারজানা আক্তার (২২) নামের প্রসূতী জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাউতলা এলাকার তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পর হাসপাতালের সবাই পালিয়ে গেছে।

ফারজানার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রী ফারজানার প্রসব বেদনা উঠলে রবিবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে নিয়ে আসি। শহরে এসে পৌছার পর উপায় না পেয়ে এক দালালের খপ্পরে পরে দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে আমার স্ত্রীকে সিজার করতে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা চুক্তি করে। এরপর সেখানে মারুফা রহমান নামের একজন চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশন করলে আমার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু নবজাতকের পেটের একপাশে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা জানান, নাভি কাটকে গিয়ে কাচির আঘাত লেগেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে আসেন। তবে তাদের আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পালিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালটিতে যাই। হাসপাতালটির কোন লাইসেন্স নেই।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, শিশুটির পেটে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তেমন গুরুতর নয়। কিন্তু অদক্ষতার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। রবিবার সকালেও দুইটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রকার প্যাথলজি টেস্ট করা হয়। কিন্তু মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ হাসপালের ল্যাবে পাওয়া যায়। হাসপাতালটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটিকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

সিজারের সময় অসতর্কতায় নবজাতকের পেট কর্তন, অতঃপর…

আপডেট সময় ০৪:৫১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রসূতিকে সিজারিয়ান অপারেশন করতে গিয়ে নবজাতকের পেট কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকালে জেলা শহরের কাউতলী এলাকার দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। সিজার করা ফারজানা আক্তার (২২) নামের প্রসূতী জেলার আখাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাউতলা এলাকার তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী। ঘটনার পর হাসপাতালের সবাই পালিয়ে গেছে।

ফারজানার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম জানান, আমার স্ত্রী ফারজানার প্রসব বেদনা উঠলে রবিবার সকালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে নিয়ে আসি। শহরে এসে পৌছার পর উপায় না পেয়ে এক দালালের খপ্পরে পরে দি আল ফালাহ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাই। সেখানে আমার স্ত্রীকে সিজার করতে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা চুক্তি করে। এরপর সেখানে মারুফা রহমান নামের একজন চিকিৎসক সিজারিয়ান অপারেশন করলে আমার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু নবজাতকের পেটের একপাশে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা জানান, নাভি কাটকে গিয়ে কাচির আঘাত লেগেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে আসেন। তবে তাদের আসার খবর পেয়ে হাসপাতালের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পালিয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালটিতে যাই। হাসপাতালটির কোন লাইসেন্স নেই।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, শিশুটির পেটে ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে। তবে তেমন গুরুতর নয়। কিন্তু অদক্ষতার কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালটিতে নিয়মিত সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে। রবিবার সকালেও দুইটি সিজারিয়ান অপারেশন হয়। এছাড়াও এখানে বিভিন্ন প্রকার প্যাথলজি টেস্ট করা হয়। কিন্তু মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ হাসপালের ল্যাবে পাওয়া যায়। হাসপাতালটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটিকে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।