ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে দলীয় ১৫ নেতাকর্মী নিহত: টিআইবি বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রথম দায়িত্ব দেশ পুনর্গঠন করা: তারেক রহমান নোয়াখালীতে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি, দুই মামলায় শেখ হাসিনার ১০, টিউলিপের ৪ বছরের কারাদণ্ড কুষ্টিয়ায় দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে আ’লীগ কর্মীকে দলে নিলেন বিএনপি প্রার্থী ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাওয়া রহস্যজনক : রিজভী জামায়াতে ইসলামী দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: মির্জা ফখরুল ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জম্মু-কাশ্মীর তারেক রহমানের খুলনার সমাবেশে নেতাকর্মীদের ঢল বিএনপি জনগণের কাছে পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক দল: ড. মোশাররফ হোসেন

রাষ্ট্রদূত থেকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোস্তাফা আদিব

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন দেশটির জার্মানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোস্তাফা আদিব। রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের একটি দল তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য মনোনয়ন করে। খবর আল জাজিরার।

প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আজ (সোমবার) দেশটির রাষ্ট্রপতি মাইকেল অ্যাওনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সাবেক চার প্রধানমন্ত্রীর ওই দলটি লেবাননের পার্লামেন্টে সুন্নি মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সমীকরণ বলছে পরবর্তী যিনি ক্ষমতায় আসবেন তিনিও অবশ্যই সুন্নি মতাদর্শের হবেন।

আলোচনাটি হবে লেবাননের সাবেক তিন প্রধানমন্ত্রী ও হারারি সরকারের ফিওচার মুভমেন্ট ব্লকের সঙ্গে। যারা সবাই ইতিমধ্যে আদিবকে নির্বাচনের জন্য মনস্থির করেছেন। এছাড়া হেজবুল্লাহ, আমান মুভিমেন্ট এবং ‍ফ্রি পেটট্রিয়টিক মুভমেন্ট ব্লকও এই জার্মান রাষ্ট্রদূতের পক্ষে রায় দিবেন বলে জানা গেছে। ফলে সহজেই অধিকাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছেন মোস্তফা আদিব।

দলটির পক্ষে ফুয়াদ সিনোরা গণমাধ্যমে বলেন, ক্ষমতায় আসার পর আদিবের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে সংস্কার করা। বিশেষ করে বিস্ফোরণে বৈরুতের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনে কাজ করা।

হারারির পদত্যাগের পর লেবাননের পার্লামেন্টে ২৭ সুন্নি সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন অধ্যাপক হাসান দিয়াব। কিন্তু ক্ষমতার ছয় মাস যেতে না যেতেই বিস্ফোরণের ঘটনায় তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। ফলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের যে আশ্বাস তিনি দিয়েছিলেন তা অধরাই থেকে যায়।

বৈরুতের বিস্ফোরণের ঘটনার কয়েকদিন পর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাকরন দেশটির রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দেশটি সফরের কথা বলেন। তখন তিনি বলেছিলেন ‘সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে আপনাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে’। ম্যাকরনের সফরে বৈদেশিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়েও আলোচনার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বিস্ফোরণের ঘটনায় পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

যুগের পর যুগ রাজনীতিবিদদের ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশটিতে অর্থনীতিতে মন্দার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে হাজারো সমস্যা। যা জনগণকে বাধ্য করেছে রাস্তায় নামতে।

আদিব ক্ষমতায় এলে আশা করা যাচ্ছে আর্থিক ও বিদ্যুৎ খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের সাথে ১০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি করবেন। যেটা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাদের অনেক দিনের চাওয়া।

এক টু্ইট বার্তায় দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রামেজ দাগার বলেন, মোস্তাফা আদিব সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের মতো একজন শিক্ষাবিদ। তারা উভয়ই দেশটির জনগণের কাছে অপরিচিত মুখ। তারা দুজনেরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদিব ২০১০ সাল মিকাতি সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিল। আর দিয়াব ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

আইন এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানে পিএসডি করা আদিব ২০১০ সালে লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করেছিলেন।

লেবানিস সেন্টার ফর পলিসি স্ট্যাডিসের প্রধান সামি আতাউল্লাহ বলেন, জনগণের কাছে অপরিচিত একজন লোককে আবারও ক্ষমতার মসনদে বসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ফলে সবকিছুই দিয়াব সরকারের মতোই হবে। কারণ দিয়াবের মতোই আদিবকে সুন্নিরা সংসদে সমর্থন দিচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘এখনই পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে বের করে দেয়ার সঠিক সময়’:ভারতের সাবেক ক্রিকেটার আতুল ওয়াসান

রাষ্ট্রদূত থেকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোস্তাফা আদিব

আপডেট সময় ০১:১১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: 

লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন দেশটির জার্মানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোস্তাফা আদিব। রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের একটি দল তাকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর জন্য মনোনয়ন করে। খবর আল জাজিরার।

প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে আজ (সোমবার) দেশটির রাষ্ট্রপতি মাইকেল অ্যাওনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সাবেক চার প্রধানমন্ত্রীর ওই দলটি লেবাননের পার্লামেন্টে সুন্নি মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই সমীকরণ বলছে পরবর্তী যিনি ক্ষমতায় আসবেন তিনিও অবশ্যই সুন্নি মতাদর্শের হবেন।

আলোচনাটি হবে লেবাননের সাবেক তিন প্রধানমন্ত্রী ও হারারি সরকারের ফিওচার মুভমেন্ট ব্লকের সঙ্গে। যারা সবাই ইতিমধ্যে আদিবকে নির্বাচনের জন্য মনস্থির করেছেন। এছাড়া হেজবুল্লাহ, আমান মুভিমেন্ট এবং ‍ফ্রি পেটট্রিয়টিক মুভমেন্ট ব্লকও এই জার্মান রাষ্ট্রদূতের পক্ষে রায় দিবেন বলে জানা গেছে। ফলে সহজেই অধিকাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছেন মোস্তফা আদিব।

দলটির পক্ষে ফুয়াদ সিনোরা গণমাধ্যমে বলেন, ক্ষমতায় আসার পর আদিবের উচিত হবে দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে সংস্কার করা। বিশেষ করে বিস্ফোরণে বৈরুতের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনর্গঠনে কাজ করা।

হারারির পদত্যাগের পর লেবাননের পার্লামেন্টে ২৭ সুন্নি সংসদ সদস্যদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসেন অধ্যাপক হাসান দিয়াব। কিন্তু ক্ষমতার ছয় মাস যেতে না যেতেই বিস্ফোরণের ঘটনায় তাকেও পদত্যাগ করতে হবে। ফলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের যে আশ্বাস তিনি দিয়েছিলেন তা অধরাই থেকে যায়।

বৈরুতের বিস্ফোরণের ঘটনার কয়েকদিন পর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাকরন দেশটির রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো দেশটি সফরের কথা বলেন। তখন তিনি বলেছিলেন ‘সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে আপনাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হতে পারে’। ম্যাকরনের সফরে বৈদেশিক সম্পর্ক বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়েও আলোচনার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বিস্ফোরণের ঘটনায় পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।

যুগের পর যুগ রাজনীতিবিদদের ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশটিতে অর্থনীতিতে মন্দার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে হাজারো সমস্যা। যা জনগণকে বাধ্য করেছে রাস্তায় নামতে।

আদিব ক্ষমতায় এলে আশা করা যাচ্ছে আর্থিক ও বিদ্যুৎ খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ডের সাথে ১০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিটি করবেন। যেটা আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাদের অনেক দিনের চাওয়া।

এক টু্ইট বার্তায় দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রামেজ দাগার বলেন, মোস্তাফা আদিব সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াবের মতো একজন শিক্ষাবিদ। তারা উভয়ই দেশটির জনগণের কাছে অপরিচিত মুখ। তারা দুজনেরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আদিব ২০১০ সাল মিকাতি সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিল। আর দিয়াব ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

আইন এবং রাষ্ট্র বিজ্ঞানে পিএসডি করা আদিব ২০১০ সালে লেবানন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করেছিলেন।

লেবানিস সেন্টার ফর পলিসি স্ট্যাডিসের প্রধান সামি আতাউল্লাহ বলেন, জনগণের কাছে অপরিচিত একজন লোককে আবারও ক্ষমতার মসনদে বসানোর চেষ্টা হচ্ছে। ফলে সবকিছুই দিয়াব সরকারের মতোই হবে। কারণ দিয়াবের মতোই আদিবকে সুন্নিরা সংসদে সমর্থন দিচ্ছে।