ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দিতে দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ সমাধান না হওয়াটা দুঃখজনক’:মোহাম্মদ ইউসুফ ‘বাপ-দাদাদের জমি বিক্রি করে রাজনীতি করি,আপনাদের আমানতের খেয়ানত করবো না’:মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নয়, সরকার অপরাধীদের জামিনের বিরুদ্ধে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার ত্রুটির বিষয়ে ইসির নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ: নজরুল ইসলাম ৪৫ হাজার কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্র উত্তরণের প্রধান শর্ত: সুজন সম্পাদক ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের সমালোচনার মধ্যে থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন হবে না: তারেক রহমান

মোটরসাইকেল শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি বহালের সুপারিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মোটরসাইকেল শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এটি পুনর্বহাল করা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহতি সুবিধা না দেয়া হলে দেশে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।

উল্টো আট হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ আমলে নিয়ে প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে লকডাউন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দেশের শিল্প খাত কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের স্বার্থে এপিআই, রিএজেন্ট উৎপাদন, ফ্রিজ, এসি, কম্প্রেসার, লিফট ও মোবাইল ফোনসেট উৎপাদনের মতো স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও কিছু দিন বহাল রাখা প্রয়োজন।

তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণপরিবহনকে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই গণপরিবহনের বিকল্প দ্রুতগামী ও নিরাপদ যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহার হতে পারে।

তাই কম মূল্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মোটরসাইকেল সরবরাহ করার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, রানার অটোমোবাইল, নিউ গ্রামীণ মটরস ও রোডমাস্টার মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে। এছাড়া হোন্ডা, বাজাজ, হিরো, টিভিএসের মতো ব্র্যান্ড দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে। সামগ্রিকভাবে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আট হাজার কোটি টাকা।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি বছরই মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে চার লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। ২০১৯ সালে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬০ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে ছয় লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর স্থানীয় মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়ছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে মোটরসাইকেল শিল্প ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করে আসছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে দেশের অন্যসব শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হলেও মোটরসাইকেল শিল্পে তা প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল করতে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে সুপারিশ করে। ট্যারিফ কমিশনও শিল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। অর্থ মন্ত্রণালয় ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের আলোকে ভ্যাট অব্যাহতির প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ বাড়াতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এনবিআর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। পরে অর্থমন্ত্রীর কাছে সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএমইএবি) তথ্য মতে, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দুই মাসে এ শিল্পে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। যা আগামী এক বছর সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা হতে পারে।

এতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় পাঁচ লাখ লোক এখন জীবিকা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত ও দিশাহারা। ফলে সরকারের প্রত্যক্ষ নীতিসহায়তা ছাড়া এ খাত টিকিয়ে রাখাই দুরূহ হয়ে পড়বে।

সংগঠনটির সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেন, স্থানীয় উৎপাদকরা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাওয়ায় কম দামে ক্রেতাদের মোটরসাইকেল দিতে পারত। এখন সেই সুবিধা প্রত্যাহার করায় দেশি মোটরসাইকেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে সরকার স্থানীয় শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি বাতিল করলেও সিকেডি মোটরসাইকেলের শুল্ক হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ট্যারিফ পার্থক্য কমে আসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়েছে।

এছাড়া আমদানির চেয়ে স্থানীয় উৎপাদনে সুবিধা দেয়া না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। তখন দেশে নতুন শিল্পও গড়ে উঠবে না। কর্মসংস্থান ও শিল্পে বিনিয়োগ চাইলে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে, বিশ্বের সব দেশ তাই করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন না করে মোটরসাইকেল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন করা উচিত। প্রতি বছর এনবিআর প্রজ্ঞাপন না করে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ন্যূনতম পাঁচ বছর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হলে এ শিল্পে নতুন আরও বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির সমাবেশে অসুস্থ হয়ে কিশোরের মৃত্যু, আহত আরও ২ চমেকে ভর্তি

মোটরসাইকেল শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি বহালের সুপারিশ

আপডেট সময় ০৬:৫৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

মোটরসাইকেল শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। এটি পুনর্বহাল করা না হলে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অব্যাহতি সুবিধা না দেয়া হলে দেশে নতুন বিনিয়োগ আসবে না।

উল্টো আট হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়বে। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ আমলে নিয়ে প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে লকডাউন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দেশের শিল্প খাত কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের স্বার্থে এপিআই, রিএজেন্ট উৎপাদন, ফ্রিজ, এসি, কম্প্রেসার, লিফট ও মোবাইল ফোনসেট উৎপাদনের মতো স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা আরও কিছু দিন বহাল রাখা প্রয়োজন।

তা না হলে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এতে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণপরিবহনকে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাই গণপরিবহনের বিকল্প দ্রুতগামী ও নিরাপদ যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহার হতে পারে।

তাই কম মূল্যে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মোটরসাইকেল সরবরাহ করার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোটরসাইকেলে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, রানার অটোমোবাইল, নিউ গ্রামীণ মটরস ও রোডমাস্টার মোটরসাইকেল উৎপাদন করছে। এছাড়া হোন্ডা, বাজাজ, হিরো, টিভিএসের মতো ব্র্যান্ড দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিনিয়োগ করছে। সামগ্রিকভাবে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আট হাজার কোটি টাকা।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতি বছরই মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে চার লাখ ৯০ হাজার ৮৫৫ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। ২০১৯ সালে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬০ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরে ছয় লাখ ইউনিট মোটরসাইকেল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছর স্থানীয় মোটরসাইকেলের বিক্রি বাড়ছে।

জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে মোটরসাইকেল শিল্প ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করে আসছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে দেশের অন্যসব শিল্পে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হলেও মোটরসাইকেল শিল্পে তা প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল করতে শিল্প মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে সুপারিশ করে। ট্যারিফ কমিশনও শিল্পের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অব্যাহতি সুবিধা পুনর্বহাল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে। অর্থ মন্ত্রণালয় ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশের আলোকে ভ্যাট অব্যাহতির প্রজ্ঞাপনের মেয়াদ বাড়াতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এনবিআর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। পরে অর্থমন্ত্রীর কাছে সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে সার-সংক্ষেপ পাঠানো হবে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদন পেলে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মোটরসাইকেল ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএমইএবি) তথ্য মতে, করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতায় দুই মাসে এ শিল্পে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। যা আগামী এক বছর সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা হতে পারে।

এতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এ শিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় পাঁচ লাখ লোক এখন জীবিকা হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত ও দিশাহারা। ফলে সরকারের প্রত্যক্ষ নীতিসহায়তা ছাড়া এ খাত টিকিয়ে রাখাই দুরূহ হয়ে পড়বে।

সংগঠনটির সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেন, স্থানীয় উৎপাদকরা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাওয়ায় কম দামে ক্রেতাদের মোটরসাইকেল দিতে পারত। এখন সেই সুবিধা প্রত্যাহার করায় দেশি মোটরসাইকেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, এবারের বাজেটে সরকার স্থানীয় শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি বাতিল করলেও সিকেডি মোটরসাইকেলের শুল্ক হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এতে ট্যারিফ পার্থক্য কমে আসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হয়েছে।

এছাড়া আমদানির চেয়ে স্থানীয় উৎপাদনে সুবিধা দেয়া না হলে কেউ বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। তখন দেশে নতুন শিল্পও গড়ে উঠবে না। কর্মসংস্থান ও শিল্পে বিনিয়োগ চাইলে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে হবে, বিশ্বের সব দেশ তাই করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ঘন ঘন নীতি পরিবর্তন না করে মোটরসাইকেল শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি নীতি প্রণয়ন করা উচিত। প্রতি বছর এনবিআর প্রজ্ঞাপন না করে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ন্যূনতম পাঁচ বছর ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেয়া হলে এ শিল্পে নতুন আরও বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।