ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ ২৫ হজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী জয়পুরহাট সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় পণ্ড মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করলেন বাবা-মা, নেপথ্যে ‘একাধিক ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক’ বালুর ব্যবসা বন্ধ করেছি, এবার পাহাড় কাটাও বন্ধ করব: হুমাম খুলনার তরুণীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, মেয়েকে হত্যার বর্ণনা দিলেন মা ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা যুক্তরাজ্যের হবু প্রধানমন্ত্রীর জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানের দিকে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা আছে: ট্রাম্প

স্বাস্থ্যের বিদায়ী ডিজির গ্রেপ্তার চেয়ে আইনি নোটিশ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে সদ্য পদত্যাগকৃত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

শুক্রবার অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ই-মেইল এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নানা সমালোচনার মুখে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দুই বছরের চুক্তিতে ছিলেন আবুল কালাম। আগামী বছরের ১৪ এপ্রিল তার সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। আবুল কালাম আজাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়।

আইনি নোটিশে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখে এটাই প্রমাণিত যে, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এত চরমে পৌঁছেছে। অধিকাংশ কোভিড-১৯ হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই এসব দুর্নীতি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজির আর্শিবাদপুষ্টদের কাছে করোনা যেন আশির্বাদরূপে আবির্ভাব হয়েছে। এর দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদত্যাগকারী সাবেক ডিজি এড়াতে পারেন না।

নোটিশে বলা হয়, করোনা মহামারির এই সংকটকালে পুরো জাতি যখন ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন, যখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, যখন সরকারি হিসাব মতেই দৈনিক প্রায় ৪০ জন করে করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন তখন স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল। স্বাস্থ্য খাতের জবাবদিহিতাহীন দুর্নীতির দায় অবশ্যই সদ্য পদত্যাগকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে বহন করতে হবে। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও রিজেন্ট হাসপাতালের চুক্তি স্বাক্ষরের দায় অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিতে হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকেই রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স অবৈধ জানা সত্ত্বেও হাসপাতালটিতে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে চুক্তি করল? ওই চুক্তি অনুষ্ঠানে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ কয়েকজন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বলে আমরা মিডিয়াতে দেখতে পেড়েছি। এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার প্রটোকল নেই।

তাই আইনি নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি-অনিয়ম ও প্রতারক সাহেদকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের দায়ে সদ্য পদত্যাগকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি আবুল কালামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান পূর্বক ফৌজদারি কার্যবিধির সুনির্দিষ্ট বিধান মতে নোটিশ গ্রহীতা কর্তৃক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। অন্যথায় জনস্বার্থে যথাযথ নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত থেকে বের হয়ে এনসিপি স্বতন্ত্র রাজনীতি না করলে নতুন বন্দোবস্তের আশা পুরোপুরি শেষ: রাশেদ

স্বাস্থ্যের বিদায়ী ডিজির গ্রেপ্তার চেয়ে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে সদ্য পদত্যাগকৃত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

শুক্রবার অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) ই-মেইল এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান।

নোটিশে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নানা সমালোচনার মুখে গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। চাকরির নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দুই বছরের চুক্তিতে ছিলেন আবুল কালাম। আগামী বছরের ১৪ এপ্রিল তার সেই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার তার পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। আবুল কালাম আজাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়।

আইনি নোটিশে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট দেখে এটাই প্রমাণিত যে, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা এত চরমে পৌঁছেছে। অধিকাংশ কোভিড-১৯ হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই। করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই এসব দুর্নীতি শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজির আর্শিবাদপুষ্টদের কাছে করোনা যেন আশির্বাদরূপে আবির্ভাব হয়েছে। এর দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদত্যাগকারী সাবেক ডিজি এড়াতে পারেন না।

নোটিশে বলা হয়, করোনা মহামারির এই সংকটকালে পুরো জাতি যখন ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন, যখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে, যখন সরকারি হিসাব মতেই দৈনিক প্রায় ৪০ জন করে করোনা রোগী মারা যাচ্ছেন তখন স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শামিল। স্বাস্থ্য খাতের জবাবদিহিতাহীন দুর্নীতির দায় অবশ্যই সদ্য পদত্যাগকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিকে বহন করতে হবে। জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা ও রিজেন্ট হাসপাতালের চুক্তি স্বাক্ষরের দায় অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নিতে হবে।

নোটিশে আরও বলা হয়, ২০১৪ সাল থেকেই রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স অবৈধ জানা সত্ত্বেও হাসপাতালটিতে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে চুক্তি করল? ওই চুক্তি অনুষ্ঠানে খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবসহ কয়েকজন সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বলে আমরা মিডিয়াতে দেখতে পেড়েছি। এই ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার প্রটোকল নেই।

তাই আইনি নোটিশের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি-অনিয়ম ও প্রতারক সাহেদকে অবৈধ সুযোগ প্রদানের দায়ে সদ্য পদত্যাগকারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি আবুল কালামের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রদান পূর্বক ফৌজদারি কার্যবিধির সুনির্দিষ্ট বিধান মতে নোটিশ গ্রহীতা কর্তৃক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনার অনুরোধ করছি। অন্যথায় জনস্বার্থে যথাযথ নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।