ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন দলের দুঃসময়ের ত্যাগীদের মূল্যায়নের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে : ববি হাজ্জাজ প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিট ও লাউঞ্জসহ বিশেষ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হবে আরও ৪ শিশুর প্রাণ গেল, হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৮০০ ছুঁই ছুঁই মোদি-শাহ’র পদত্যাগ দাবি রাহুল গান্ধীর শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না: সরোয়ার তুষার বিএনপি সরকার হাওয়ায় ভেসে আসেনি: আযম খান

শেয়ারবাজারে ১৩ বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেয়ারবাজারে আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীদের। প্রতিদিনই কমছে লেনদেন। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ৩৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর এ লেনদেন গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল ৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।

একই অবস্থা দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। তবে লেনদেন কমলেও বাজারে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে সূচক ধরে রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজারের পরিভাষায় একে ফ্লোর প্রাইস বলে। বিশ্লেষক বলছেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে না দেয়ায় বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

জানা গেছে- করোনার কারণে টানা ৬৬দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১মে দেশের শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন চালু হয়। দীর্ঘ বন্ধের পর এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ১৬ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে একশ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫ কার্যদিবস। বাকি ১১ কার্যদিবস একশ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।

লেনদেন খরার বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ফ্লোর প্রাইসের (শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম) কারণে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে না। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের যে দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে, ওই দামে বিনিয়োগকারীরা কিনতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের লেনদেন খরা কাটানোর জন্য ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া উচিত। এতে হয়তো প্রথমদিকে দরপতন হবে। তবে কিছুদিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে কিছু টাকা তুলতে পারবেন। সেই টাকা দিয়ে নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন। এতে বাজারে গভীরতা বাড়বে।

এতদিন ফ্লোর প্রাইসের পক্ষে থাকলেও এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার পক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, একটি বিশেষ সময়ের প্রেক্ষিতে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। আমি মনে করি এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে রয়েছে। তারা শেয়ার বিক্রি করতে চাইলেও বিক্রি করতে পারছেন না। ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে তারা বিক্রি করার সুযোগ পাবেন এবং দাম কমলে নতুন করে কিনে সমন্বয় করতে পারবেন। সুতরাং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়া উচিত।

লেনদেন খরার বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে কমেছে, তার থেকে কম। ফলে সূচকের কিছুটা উত্থান হয়েছে। লেনদেন শেষে ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেড়ে ৩ হাজার ৯৬২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৯১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী

শেয়ারবাজারে ১৩ বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন

আপডেট সময় ০৭:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শেয়ারবাজারে আগ্রহ নেই বিনিয়োগকারীদের। প্রতিদিনই কমছে লেনদেন। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ৩৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ডিএসইর এ লেনদেন গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল ৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল।

একই অবস্থা দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। তবে লেনদেন কমলেও বাজারে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে সূচক ধরে রাখা হয়েছে। শেয়ারবাজারের পরিভাষায় একে ফ্লোর প্রাইস বলে। বিশ্লেষক বলছেন, ফ্লোর প্রাইস তুলে না দেয়ায় বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে না।

জানা গেছে- করোনার কারণে টানা ৬৬দিন বন্ধ থাকার পর গত ৩১মে দেশের শেয়ারবাজারে আবার লেনদেন চালু হয়। দীর্ঘ বন্ধের পর এখন পর্যন্ত শেয়ারবাজারে ১৬ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে একশ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫ কার্যদিবস। বাকি ১১ কার্যদিবস একশ কোটি টাকার কম লেনদেন হয়েছে।

লেনদেন খরার বিষয়ে ডিএসইর এক সদস্য বলেন, ফ্লোর প্রাইসের (শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম) কারণে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হচ্ছে না। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের যে দাম বেঁধে দেয়া হয়েছে, ওই দামে বিনিয়োগকারীরা কিনতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, শেয়ারবাজারের লেনদেন খরা কাটানোর জন্য ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া উচিত। এতে হয়তো প্রথমদিকে দরপতন হবে। তবে কিছুদিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে কিছু টাকা তুলতে পারবেন। সেই টাকা দিয়ে নতুন শেয়ার কিনতে পারবেন। এতে বাজারে গভীরতা বাড়বে।

এতদিন ফ্লোর প্রাইসের পক্ষে থাকলেও এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার পক্ষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, একটি বিশেষ সময়ের প্রেক্ষিতে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। আমি মনে করি এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়ার সময় এসেছে। তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইসের কারণে অনেক বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে রয়েছে। তারা শেয়ার বিক্রি করতে চাইলেও বিক্রি করতে পারছেন না। ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নিলে তারা বিক্রি করার সুযোগ পাবেন এবং দাম কমলে নতুন করে কিনে সমন্বয় করতে পারবেন। সুতরাং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এখন ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেয়া উচিত।

লেনদেন খরার বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে কমেছে, তার থেকে কম। ফলে সূচকের কিছুটা উত্থান হয়েছে। লেনদেন শেষে ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ২ পয়েন্ট বেড়ে ৩ হাজার ৯৬২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৯১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।