ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

সকালে করোনামুক্ত ঘোষণার পর সন্ধ্যায় মারা গেলেন শাহ আলম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) নামে এক ব্যক্তিকে সকালে করোনামুক্ত ঘোষণা করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তার অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে চিকিৎসক নিয়ে তার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। মাহামুদুল হাসান আরও বলেন, তার পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল শাহ আলমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বাড়ি ফিরে তার সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তার স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়। ইউএনও বলেন, উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

সকালে করোনামুক্ত ঘোষণার পর সন্ধ্যায় মারা গেলেন শাহ আলম

আপডেট সময় ০৪:২১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) নামে এক ব্যক্তিকে সকালে করোনামুক্ত ঘোষণা করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তার অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে চিকিৎসক নিয়ে তার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। মাহামুদুল হাসান আরও বলেন, তার পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল শাহ আলমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বাড়ি ফিরে তার সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তার স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়। ইউএনও বলেন, উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না।