ঢাকা ০৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

সকালে করোনামুক্ত ঘোষণার পর সন্ধ্যায় মারা গেলেন শাহ আলম

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) নামে এক ব্যক্তিকে সকালে করোনামুক্ত ঘোষণা করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তার অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে চিকিৎসক নিয়ে তার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। মাহামুদুল হাসান আরও বলেন, তার পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল শাহ আলমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বাড়ি ফিরে তার সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তার স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়। ইউএনও বলেন, উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সকালে করোনামুক্ত ঘোষণার পর সন্ধ্যায় মারা গেলেন শাহ আলম

আপডেট সময় ০৪:২১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জমাদ্দারকান্দি গ্রামের শাহ আলম জমাদ্দার (৮৭) নামে এক ব্যক্তিকে সকালে করোনামুক্ত ঘোষণা করার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। তিনি হৃদরোগ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। গত এপ্রিলে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যান। ২৩ এপ্রিল সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর তিনি বাড়ি ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে তাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, সকালে প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মকর্তারা শাহ আলম জমাদ্দারের বাড়ি গিয়ে তাকে করোনামুক্ত হওয়ার খবর দিই। তখন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অনেক আনন্দিত হয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ তার অসুস্থ হওয়ার খবর শুনে চিকিৎসক নিয়ে তার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফোনে জানতে পারি, তিনি মারা গেছেন। মাহামুদুল হাসান আরও বলেন, তার পরপর দুবার করোনা পরীক্ষার প্রতিবেদন নেগেটিভ আসায় মৃত্যুর পর শাহ আলমের আর পরীক্ষা করা হয়নি। তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২৩ এপ্রিল শাহ আলমের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। বাড়ি ফিরে তার সংস্পর্শে আসা আটজনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে তার স্ত্রী ফতেজা বিবির (৭৫) করোনা শনাক্ত হয়। তাদের বাড়িতে আলাদা (আইসোলেশন) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তারা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। পরপর দুই দফায় তাঁদের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেনু দাস, জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম সরকারসহ কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করেন। তাদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। ফলমূলসহ উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়। বিকেলে শাহ আলম অসুস্থ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান।

শাহ আলমের ছেলে বাদল জমাদ্দার বলেন, বৃহস্পতিবার যখন ইউএনও, ওসি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসে মা–বাবার করোনা মুক্তির খবর দেন, সবাই খুশি হয়েছিলাম। বাবা খুশি হয়ে বলেছিলেন, এখন মরেও শান্তি পাব যে করোনা জয় করেছি। আল্লাহ হয়তো বাবার কথাই রেখেছেন, করোনা জয়ের পরই তিনি মৃত্যুবরণ করলেন। করোনা নিয়ে মারা গেলে সারা জীবন আমাদের আক্ষেপ থাকত। রাত ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে বাবাকে দাফন করা হয়। ইউএনও বলেন, উপজেলা সদর থেকে শাহ আলমের বাড়ি অন্তত ১৫ কিলোমিটার দূরে। ওই গ্রামে গিয়ে শাহ আলম ও তার স্ত্রী ফতেজাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। ৮-৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আনন্দ বেদনায় রূপ নিল। তিনি করোনা জয় করলেও মৃত্যুকে জয় করতে পারলেন না।