ঢাকা ১১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

লক্ষ্মীপুরে মেয়েকে হত্যা করে থানায় নিখোঁজের জিডি করে বাবা ফয়েজ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দেড় বছর বয়সী শিশু ফারহানা আক্তার রাহিমাকে হত্যা করেছে বাবা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। এরপর নিজেই থানায় গিয়ে মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে জিডি করেন।

লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে ফয়েজ জবানবন্দি দেয়। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন রায়হান চৌধুরী।

সোমবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের নির্দেশনায় শিশু রাহিমা হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

তিনি জানান, শিশুটিকে তার বাবা ফয়েজ খুন করে লাশ লুকিয়ে রেখেছিল। আসামি খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আসামি ফয়েজ সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।

খুনের ঘটনায় আদালতে আসামির দেয়া জবানবন্দির বিষয়ে পুলিশ জানায়, ফয়েজের সঙ্গে পাশের বাড়ির মতিনদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েও তাদের বিরোধ দেখা দেয়। এতে ফয়েজ নিজের মেয়েকে হত্যা করে মতিনদের মামলায় জড়ানোর ছক আঁকে।

গত ৫ মে শিশু রাহিমা বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় সবার অজান্তে তাকে কোলে তুলে ফয়েজ বাড়ি থেকে দূরে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঝোপের ভেতর লাশটি লুকিয়ে রাখে ফয়েজ। বাড়িতে ফিরে মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। কোথাও না পেয়ে ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় তিনি একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরে পুলিশসহ বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও শিশুটিকে পায়নি।

এদিকে গত শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে সবাই যখন ঘুমে তখন ঝোপের ভেতর থেকে ফয়েজ লাশটি উদ্ধার করে নিজ বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। শনিবার সকালে নিজেই থানা পুলিশকে অবহিত করেন, তার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে টয়লেটের ট্যাংকিতে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

লক্ষ্মীপুরে মেয়েকে হত্যা করে থানায় নিখোঁজের জিডি করে বাবা ফয়েজ

আপডেট সময় ০৬:১৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লক্ষ্মীপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে দেড় বছর বয়সী শিশু ফারহানা আক্তার রাহিমাকে হত্যা করেছে বাবা ফয়েজ আহাম্মদ মনু। এরপর নিজেই থানায় গিয়ে মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে জিডি করেন।

লক্ষ্মীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে ১৬৪ ধারায় খুনের দায় স্বীকার করে ফয়েজ জবানবন্দি দেয়। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন রায়হান চৌধুরী।

সোমবার রাতে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামানের নির্দেশনায় শিশু রাহিমা হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।

তিনি জানান, শিশুটিকে তার বাবা ফয়েজ খুন করে লাশ লুকিয়ে রেখেছিল। আসামি খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী রাশেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

আসামি ফয়েজ সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্ব রাজাপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে।

খুনের ঘটনায় আদালতে আসামির দেয়া জবানবন্দির বিষয়ে পুলিশ জানায়, ফয়েজের সঙ্গে পাশের বাড়ির মতিনদের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সম্প্রতি বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়েও তাদের বিরোধ দেখা দেয়। এতে ফয়েজ নিজের মেয়েকে হত্যা করে মতিনদের মামলায় জড়ানোর ছক আঁকে।

গত ৫ মে শিশু রাহিমা বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় সবার অজান্তে তাকে কোলে তুলে ফয়েজ বাড়ি থেকে দূরে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঝোপের ভেতর লাশটি লুকিয়ে রাখে ফয়েজ। বাড়িতে ফিরে মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে। কোথাও না পেয়ে ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় তিনি একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরে পুলিশসহ বাড়ির লোকজন বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও শিশুটিকে পায়নি।

এদিকে গত শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে সবাই যখন ঘুমে তখন ঝোপের ভেতর থেকে ফয়েজ লাশটি উদ্ধার করে নিজ বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। শনিবার সকালে নিজেই থানা পুলিশকে অবহিত করেন, তার মেয়ের লাশ পাওয়া গেছে টয়লেটের ট্যাংকিতে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।