ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

মাকে নিয়ে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১ মে। ওই দিন মাকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো–

‘আমাদের ছিল অভাবের সংসার। অভাবী সংসারে কিছু কঠিন নিয়ম থাকে। আমাদেরও ছিল। যেমন- অতিরিক্ত মেধাবী হওয়ার কারণে ডিম পুরোটা পেত শুধু আমাদের বড় ভাই। আমাদের বাকি ভাইবোনের জন্য ডিম রান্না করা হতো ফেটে তরকারির মতো করে। কর্ন স্যুপের মতো। দেখতে লাল রঙের সেই তরকারি খুব প্রিয় ছিল আমাদের।

দুধের বেলায় নিয়ম ছিল আরও কড়া। দুধ পেত শুধু অসুস্থরা। অসুস্থ মানে মা আর আমার সবচেয়ে ছোট বোন।

ছোট বাসা। গোপন বলে কিছু থাকে না। প্রায়ই শুনতাম আম্মার সঙ্গে আব্বার রাগারাগি। যে দুধ বরাদ্দ থাকত তার জন্য, তা তিনি দিয়ে দিতেন পাড়ার এক হতদরিদ্র মহিলাকে।

আমার মায়ের আরও নানা বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমন- কারও উপার্জন নিয়ে সন্দেহ থাকলে তিনি তার থেকে কিছু খেতেন না। অসুখ-বিসুখে আমার এক মামাতো ভাই ফলমূল নিয়ে এলে তিনি তা কখনও স্পর্শ করতেন না।

আমার সেই মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পৃথিবীতে সবার মা সেরা। আমার মা-ও। পৃথিবীতে সব সন্তান অপদার্থ, আমি আরও বেশি। আজ ভোরে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এসেছিল, মনে হলো– শেষ দিনগুলোতেও মায়ের কাছে অল্প সময় থেকে চলে আসতাম। তিনি বলতেন- বাবারে আর তো পাবি না বেশি দিন।

মনে পড়ে আমার মায়ের রগ বের হওয়া শীর্ণ হাত, ঘষাকাচের কালো চশমা, সামনে ধরা পত্রিকা পড়ছেন খুটিয়ে খুটিয়ে। কিংবা চিরতরে চলে যাওয়ার পর তার চুপসে যাওয়া দেহ, আর সেই স্মিতহাস্য মুখ।

যাদের মা আছে, দিনরাত লেপ্টে থাকেন। প্রাণ ভরে সেবা করেন। মা চলে যাওয়ার পর তীব্র দুঃখ কিছুটা হয়তো কমবে তাতে। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

মাকে নিয়ে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস

আপডেট সময় ০১:৩৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গত ১ মে। ওই দিন মাকে নিয়ে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন তিনি।

স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো–

‘আমাদের ছিল অভাবের সংসার। অভাবী সংসারে কিছু কঠিন নিয়ম থাকে। আমাদেরও ছিল। যেমন- অতিরিক্ত মেধাবী হওয়ার কারণে ডিম পুরোটা পেত শুধু আমাদের বড় ভাই। আমাদের বাকি ভাইবোনের জন্য ডিম রান্না করা হতো ফেটে তরকারির মতো করে। কর্ন স্যুপের মতো। দেখতে লাল রঙের সেই তরকারি খুব প্রিয় ছিল আমাদের।

দুধের বেলায় নিয়ম ছিল আরও কড়া। দুধ পেত শুধু অসুস্থরা। অসুস্থ মানে মা আর আমার সবচেয়ে ছোট বোন।

ছোট বাসা। গোপন বলে কিছু থাকে না। প্রায়ই শুনতাম আম্মার সঙ্গে আব্বার রাগারাগি। যে দুধ বরাদ্দ থাকত তার জন্য, তা তিনি দিয়ে দিতেন পাড়ার এক হতদরিদ্র মহিলাকে।

আমার মায়ের আরও নানা বৈশিষ্ট্য ছিল। যেমন- কারও উপার্জন নিয়ে সন্দেহ থাকলে তিনি তার থেকে কিছু খেতেন না। অসুখ-বিসুখে আমার এক মামাতো ভাই ফলমূল নিয়ে এলে তিনি তা কখনও স্পর্শ করতেন না।

আমার সেই মায়ের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পৃথিবীতে সবার মা সেরা। আমার মা-ও। পৃথিবীতে সব সন্তান অপদার্থ, আমি আরও বেশি। আজ ভোরে যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি এসেছিল, মনে হলো– শেষ দিনগুলোতেও মায়ের কাছে অল্প সময় থেকে চলে আসতাম। তিনি বলতেন- বাবারে আর তো পাবি না বেশি দিন।

মনে পড়ে আমার মায়ের রগ বের হওয়া শীর্ণ হাত, ঘষাকাচের কালো চশমা, সামনে ধরা পত্রিকা পড়ছেন খুটিয়ে খুটিয়ে। কিংবা চিরতরে চলে যাওয়ার পর তার চুপসে যাওয়া দেহ, আর সেই স্মিতহাস্য মুখ।

যাদের মা আছে, দিনরাত লেপ্টে থাকেন। প্রাণ ভরে সেবা করেন। মা চলে যাওয়ার পর তীব্র দুঃখ কিছুটা হয়তো কমবে তাতে। আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।’