ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের চাঁদাবাজি-মাস্তানি করলে এখনই বিএনপি থেকে বের হয়ে যান: আমীর খসরু আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য মার্কিন ভিসা কার্যক্রম স্থগিত একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে: নজরুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপি নেতা সাজুকে বহিষ্কার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ পাবে: আলী রীয়াজ গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে বিজয়ী করতে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ডাকসুর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেই অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ছয় জনের মৃত্যু

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯শ’ গ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে চার শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন।

এদিকে সিলেট জেলার ৯ উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মোট ৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমির আউশ ফসল। ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ।

কক্সবাজারে ৬ জনের মৃত্যু:  গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চকরিয়া উপজেলায় ৩ লাখ, কক্সবাজার সদরে অন্তত ১ লাখ, রামুতে ১ লাখ, উখিয়ায় ১ লাখ, টেকনাফে ১ লাখ, পেকুয়ায় ৫০ হাজার, কুতুবদিয়া ১ লাখ ও মহেশখালী উপজেলায় ১ লাখসহ আট উপজেলায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বহু জনপদ। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের। জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

রামু উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চালাইন্নাপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে শাহিন (১০) ও ফাহিম (৮)। অপরদিকে উখিয়ায় পাহাড়ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়ার সরওয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন (৭) এবং রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যম রত্নাপালং এলাকার অমূল্য বড়ুয়ার ছেলে ইতন বড়ুয়া (১৩)। এছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের জাফর আলমের কন্যা কোটবাজার আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদরাসার ছাত্রী ছমিরা আক্তারের (১৪) লাশ গতকাল দুপুরে স্থানীয় খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মা নিহত ও মেয়ে আহত হয়েছে। উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজু খাইয়া ফকির পাড়া গ্রামে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল মাজিদের স্ত্রী ছেমুনা খাতুন (৪৫) নিহত ও মেয়ে আমেনা খাতুন (২৫) আহত হন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান জানান, বাকঁখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বেড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বন্যা কবলিত মানুষকে সহযোগিতা করা হবে।

সিলেটে সাড়ে ৫ লাখ লোক পানিবন্দি:সিলেট অফিস জানায়, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া বন্যার সাথে যুদ্ধ করতে করতে যেন বানভাসি মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে ঘর-দুয়ারে পানি উঠায় দুর্গতরা রয়েছেন কষ্টে। কোন কোন এলাকায় সরকারিভাবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেগুলোতে অনেক বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষ বাড়িঘর, হাস-মুরগী, গরু-ছাগলের মায়ায় বাড়ি ছেড়ে আসছেন না।

গোলাপগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীর স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে বসতভিটা হারিয়ে পরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। অনেক অসহায় মানুষ স্থান পরিবর্তনের জায়গা না পেয়ে নদীর কিনারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঢলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অর্ধশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

ওসমানীনগর  :  প্রধান নদনদীর পানি কিছুটার কমলেও বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের হাওর এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ফলে পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি কমছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক মাসের স্থায়ী বন্যায় বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছেন। লোকজন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। কোন মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউপির বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯শ’ গ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে চার শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। এদিকে সিলেট জেলার ৯ উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মোট ৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমির আউশ ফসল। ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজারে ৬ জনের মৃত্যু: গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চকরিয়া উপজেলায় ৩ লাখ, কক্সবাজার সদরে অন্তত ১ লাখ, রামুতে ১ লাখ, উখিয়ায় ১ লাখ, টেকনাফে ১ লাখ, পেকুয়ায় ৫০ হাজার, কুতুবদিয়া ১ লাখ ও মহেশখালী উপজেলায় ১ লাখসহ আট উপজেলায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বহু জনপদ। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের। জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । রামু উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চালাইন্নাপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে শাহিন (১০) ও ফাহিম (৮)। অপরদিকে উখিয়ায় পাহাড়ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়ার সরওয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন (৭) এবং রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যম রত্নাপালং এলাকার অমূল্য বড়ুয়ার ছেলে ইতন বড়ুয়া (১৩)। এছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের জাফর আলমের কন্যা কোটবাজার আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদরাসার ছাত্রী ছমিরা আক্তারের (১৪) লাশ গতকাল দুপুরে স্থানীয় খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মা নিহত ও মেয়ে আহত হয়েছে। উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজু খাইয়া ফকির পাড়া গ্রামে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল মাজিদের স্ত্রী ছেমুনা খাতুন (৪৫) নিহত ও মেয়ে আমেনা খাতুন (২৫) আহত হন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান জানান, বাকঁখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বেড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বন্যা কবলিত মানুষকে সহযোগিতা করা হবে। সিলেটে সাড়ে ৫ লাখ লোক পানিবন্দি:সিলেট অফিস জানায়, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া বন্যার সাথে যুদ্ধ করতে করতে যেন বানভাসি মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে ঘর-দুয়ারে পানি উঠায় দুর্গতরা রয়েছেন কষ্টে। কোন কোন এলাকায় সরকারিভাবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেগুলোতে অনেক বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষ বাড়িঘর, হাস-মুরগী, গরু-ছাগলের মায়ায় বাড়ি ছেড়ে আসছেন না। গোলাপগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীর স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে বসতভিটা হারিয়ে পরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। অনেক অসহায় মানুষ স্থান পরিবর্তনের জায়গা না পেয়ে নদীর কিনারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঢলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অর্ধশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। ওসমানীনগর : প্রধান নদনদীর পানি কিছুটার কমলেও বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের হাওর এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ফলে পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি কমছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক মাসের স্থায়ী বন্যায় বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছেন। লোকজন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। কোন মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউপির বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাজমুল পদত্যাগ না করলে খেলা বর্জনের হুমকি ক্রিকেটারদের

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ছয় জনের মৃত্যু

আপডেট সময় ১২:৪৮:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুলাই ২০১৭

অাকাশ নিউজ ডেস্ক:

কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯শ’ গ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে চার শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন।

এদিকে সিলেট জেলার ৯ উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মোট ৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমির আউশ ফসল। ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ।

কক্সবাজারে ৬ জনের মৃত্যু:  গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চকরিয়া উপজেলায় ৩ লাখ, কক্সবাজার সদরে অন্তত ১ লাখ, রামুতে ১ লাখ, উখিয়ায় ১ লাখ, টেকনাফে ১ লাখ, পেকুয়ায় ৫০ হাজার, কুতুবদিয়া ১ লাখ ও মহেশখালী উপজেলায় ১ লাখসহ আট উপজেলায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বহু জনপদ। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের। জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।

রামু উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চালাইন্নাপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে শাহিন (১০) ও ফাহিম (৮)। অপরদিকে উখিয়ায় পাহাড়ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়ার সরওয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন (৭) এবং রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যম রত্নাপালং এলাকার অমূল্য বড়ুয়ার ছেলে ইতন বড়ুয়া (১৩)। এছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের জাফর আলমের কন্যা কোটবাজার আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদরাসার ছাত্রী ছমিরা আক্তারের (১৪) লাশ গতকাল দুপুরে স্থানীয় খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মা নিহত ও মেয়ে আহত হয়েছে। উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজু খাইয়া ফকির পাড়া গ্রামে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল মাজিদের স্ত্রী ছেমুনা খাতুন (৪৫) নিহত ও মেয়ে আমেনা খাতুন (২৫) আহত হন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান জানান, বাকঁখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বেড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বন্যা কবলিত মানুষকে সহযোগিতা করা হবে।

সিলেটে সাড়ে ৫ লাখ লোক পানিবন্দি:সিলেট অফিস জানায়, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া বন্যার সাথে যুদ্ধ করতে করতে যেন বানভাসি মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে ঘর-দুয়ারে পানি উঠায় দুর্গতরা রয়েছেন কষ্টে। কোন কোন এলাকায় সরকারিভাবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেগুলোতে অনেক বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষ বাড়িঘর, হাস-মুরগী, গরু-ছাগলের মায়ায় বাড়ি ছেড়ে আসছেন না।

গোলাপগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীর স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে বসতভিটা হারিয়ে পরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। অনেক অসহায় মানুষ স্থান পরিবর্তনের জায়গা না পেয়ে নদীর কিনারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঢলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অর্ধশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত।

ওসমানীনগর  :  প্রধান নদনদীর পানি কিছুটার কমলেও বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের হাওর এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ফলে পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি কমছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক মাসের স্থায়ী বন্যায় বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছেন। লোকজন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। কোন মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউপির বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার জেলার আট উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের প্রায় ৯শ’ গ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধসে চার শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে আরও একজন। এদিকে সিলেট জেলার ৯ উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেট, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের মোট ৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমির আউশ ফসল। ৫ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে সেগুলো বন্ধ রয়েছে। মৌলভীবাজারে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ৩ লক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজারে ৬ জনের মৃত্যু: গত পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টিতে চকরিয়া, রামু, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফসহ জেলার অধিকাংশ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, চকরিয়া উপজেলায় ৩ লাখ, কক্সবাজার সদরে অন্তত ১ লাখ, রামুতে ১ লাখ, উখিয়ায় ১ লাখ, টেকনাফে ১ লাখ, পেকুয়ায় ৫০ হাজার, কুতুবদিয়া ১ লাখ ও মহেশখালী উপজেলায় ১ লাখসহ আট উপজেলায় ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বহু জনপদ। তলিয়ে গেছে বীজতলাসহ ফসলী জমি, চিংড়ি ঘের। জেলার প্রধান নদী মাতামুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কোহালিয়া ও নাফ নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । রামু উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবে দুই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪ টার দিকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলো, উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের চালাইন্নাপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে শাহিন (১০) ও ফাহিম (৮)। অপরদিকে উখিয়ায় পাহাড়ধসে এবং বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমান পাড়ার সরওয়ারুল ইসলামের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন (৭) এবং রত্নাপালং ইউনিয়নের মধ্যম রত্নাপালং এলাকার অমূল্য বড়ুয়ার ছেলে ইতন বড়ুয়া (১৩)। এছাড়া জালিয়াপালং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি গ্রামের জাফর আলমের কন্যা কোটবাজার আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদরাসার ছাত্রী ছমিরা আক্তারের (১৪) লাশ গতকাল দুপুরে স্থানীয় খাল থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে পাহাড় ধসে মাটি চাপায় মা নিহত ও মেয়ে আহত হয়েছে। উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজু খাইয়া ফকির পাড়া গ্রামে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় আব্দুল মাজিদের স্ত্রী ছেমুনা খাতুন (৪৫) নিহত ও মেয়ে আমেনা খাতুন (২৫) আহত হন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.সবিবুর রহমান জানান, বাকঁখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় নদীতে পানি বেড়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, ‘বন্যা কবলিত মানুষকে সহযোগিতা করা হবে। সিলেটে সাড়ে ৫ লাখ লোক পানিবন্দি:সিলেট অফিস জানায়, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে শুরু হওয়া বন্যার সাথে যুদ্ধ করতে করতে যেন বানভাসি মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে ঘর-দুয়ারে পানি উঠায় দুর্গতরা রয়েছেন কষ্টে। কোন কোন এলাকায় সরকারিভাবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেগুলোতে অনেক বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ বন্যার্ত মানুষ বাড়িঘর, হাস-মুরগী, গরু-ছাগলের মায়ায় বাড়ি ছেড়ে আসছেন না। গোলাপগঞ্জে সুরমা-কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে। দুই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। নদীর স্রোতের তোড়ে নদী ভাঙন আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকে বসতভিটা হারিয়ে পরের বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। অনেক অসহায় মানুষ স্থান পরিবর্তনের জায়গা না পেয়ে নদীর কিনারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। ঢলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার অর্ধশত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। ওসমানীনগর : প্রধান নদনদীর পানি কিছুটার কমলেও বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগরের হাওর এলাকার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ফলে পানিবন্দি মানুষের ভোগান্তি কমছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক মাসের স্থায়ী বন্যায় বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দুই উপজেলার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ এখন পানিবন্দি রয়েছেন। লোকজন অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, সরকার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থেকে কাজ করছে। কোন মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষনাবন্দ ইউপির বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।