ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুরে পানিতে বিষ মিশিয়ে যৌথবাহিনী সদস্যদের হত্যাচেষ্টা! দেশে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান জনগণের স্বার্থের বিপরীতে কিছু করলে দায়ভার সরকারের ওপরই পড়বে: মান্না অস্ত্র প্রস্তুত, তবে ইরানকে ‘কিছুটা সময়’ দিচ্ছেন ট্রাম্প : মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিএনপি মো. সাহাবুদ্দিনকে ‘সেফ এক্সিট’ দিতে চায়: আখতার প্রতিমন্ত্রী ইশরাককে ঘিরে উত্তেজনা-ধস্তাধস্তি, বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান গণতন্ত্র যতবারই হোঁচট খেয়েছে, ততবারই মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে: ডা. জাহিদ বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়লো কুর্মিটোলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে, নিহত ১

মহানবী যেভাবে কুরবানির পশু জবাই করেছেন

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ত্যাগ-তিতিক্ষার অন্যতম ইবাদাত ঈদ-উল আজহায় পশু কোরবানি। কুরবানি আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নিদর্শন। বান্দার এবং আল্লাহর সঙ্গে প্রেমের বহিঃপ্রকাশও এ কুরবানি। এই কুরবানি করতে গিয়ে সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভিন্ন ভুল-ত্র“টি করে থাকি। এমনকি কুরবানির যে মূল উদ্দেশ্য “নিয়ত পরিশুদ্ধ করা” তাও অনেকেরই কাছে গুরুত্ত্বহীন হয়ে চক্ষুলজ্জা, লোকদেখানো ইত্যাদি প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-

‘আল্লাহর কাছে এদের (কুরবানির পশুর) গোশ্ত কিংবা রক্ত পৌঁছায় না; বরং তাঁর দরবারে তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছায়। [সুরা হজ্জ : আয়াত ৩৭]

কুরবানি আদায় প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর (কুরবানির) উটকে করেছি আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের অন্যতম। তোমাদের জন্য তাতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় ওগুলোর ওপর (কুরবানির করার সময়) আল্লাহর নাম স্মরণ কর। অতঃপর যখন ওরা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও সাহায্যপ্রার্থী অভাবগ্রস্তকে। এভাবেই আমি ওদেরকে (পশুগুলোকে) তোমাদের অধীন করে দিয়েছি। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৬)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন ও কুরবানি করুণ।’ [সুরা কাওসার : ২]

কুরবানির প্রসঙ্গে বান্দার প্রতি এ হলো আল্লাহ তাআলার নির্দেশ। এছাড়াও আরো অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কুরবানি করার নির্দেশ এবং উপদেশ প্রদান করেছেন।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির পশু জবাইয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। লক্ষ্য রেখেছেন পশু জবাইয়ের সময় যেন বেশি কষ্ট না পায়। সে জন্য জবাই করার যন্ত্র ধারালো হওয়ার কথা বলেছেন। হাদিসে এসেছে- হজরত শাদ্দাদ ইবনে আওছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর ওপর অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কোরবানির পশু) জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। প্রত্যেকেই তার ছুরিতে শান দেবে এবং তার পশুকে শান্তি দেবে। (মুসলিম)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কুরবানির পশু জবাই করেছেন। আবার কুরবানির পশু জবাইয়ের ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কিভাবে উটসহ অন্যান্য প্রাণীগুলোকে জবাই করতে হবে তার বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।

পশুগুলোকে কুরবানি করার নিয়মসমূহ

১. উটকে দাঁড়ানো অবস্থায় নহর বা কুরবানি করা সুন্নাত। জবাইয়ের সময় উটের বাম সামনের বাম পা বেঁধে জবাই করা। উটের জবাই (নহর) হবে গলার নিচের দিকে।

২. আর গরু ও ছাগলকে স্বাভাবিকভাবে জবাই করা। তবে জবাইয়ের সুবিধার্থে এর বিপরীতও করা যাবে এবং তা বৈধ। আর গরু ও ছাগলের জবাই (নহর) হবে গলার উপরিভাগে প্রায় কান বরাবর।

৩. গরু, ছাগল, দুম্বা ও ভেড়াকে বাম পার্শ্বের উপর ভর করে শোয়ানো এবং তার (পশুর) ঘাড়ের উপর ডান পা রেখে মাথা চেপে ধরে জবাই করা।

৪. জবাই (নহর) হালাল হওয়ার জন্য কণ্ঠনালী, খাদ্যনালী, বড় রগ দু’টি অথবা একটি কাটা এবং রক্ত প্রবাহিত হওয়াই যথেষ্ট।

জবাই বা নহর করার সময় বলবে- ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার’

এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুঠাম (দেহ) শিং বিশিষ্ট দু’টি দুম্বা দ্বারা কুরবানি করেছেন। তিনি নিজ হাতে উভয়টি জবাই করেছেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেছেন। অতঃপর নিজের পা তাদের (পশুর) ঘাড়ের ওপর রাখেন। (বুখারি ও মুসলিম)

আর কুরবানি দাতার জন্য নিজের হাতে কুরবানি আদায় করা হলো সুন্নাত। আর যদি কুরবানির পশু জবাই করতে না জানে বা জবাই করতে না পারে তবে উপস্থিত অন্য কাউকে দিয়ে কুরবানি করানো।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত-এনসিপির বক্তব্যে দেশপ্রেম নিয়ে আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না:পানিসম্পদ মন্ত্রী

মহানবী যেভাবে কুরবানির পশু জবাই করেছেন

আপডেট সময় ০৯:০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট ২০১৭

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

ত্যাগ-তিতিক্ষার অন্যতম ইবাদাত ঈদ-উল আজহায় পশু কোরবানি। কুরবানি আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নিদর্শন। বান্দার এবং আল্লাহর সঙ্গে প্রেমের বহিঃপ্রকাশও এ কুরবানি। এই কুরবানি করতে গিয়ে সঠিক নিয়ম-পদ্ধতি না জানার কারণে আমরা অনেকেই বিভিন্ন ভুল-ত্র“টি করে থাকি। এমনকি কুরবানির যে মূল উদ্দেশ্য “নিয়ত পরিশুদ্ধ করা” তাও অনেকেরই কাছে গুরুত্ত্বহীন হয়ে চক্ষুলজ্জা, লোকদেখানো ইত্যাদি প্রাধান্য পাচ্ছে। অথচ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন-

‘আল্লাহর কাছে এদের (কুরবানির পশুর) গোশ্ত কিংবা রক্ত পৌঁছায় না; বরং তাঁর দরবারে তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছায়। [সুরা হজ্জ : আয়াত ৩৭]

কুরবানি আদায় প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘আর (কুরবানির) উটকে করেছি আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের অন্যতম। তোমাদের জন্য তাতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মান অবস্থায় ওগুলোর ওপর (কুরবানির করার সময়) আল্লাহর নাম স্মরণ কর। অতঃপর যখন ওরা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা হতে আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে ও সাহায্যপ্রার্থী অভাবগ্রস্তকে। এভাবেই আমি ওদেরকে (পশুগুলোকে) তোমাদের অধীন করে দিয়েছি। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা হজ : আয়াত ৩৬)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নৈকট্য অর্জন ও তার ইবাদতের জন্য পশু জবেহ করাকে কুরবানি বলা হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবীকে কুরবানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন- ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়–ন ও কুরবানি করুণ।’ [সুরা কাওসার : ২]

কুরবানির প্রসঙ্গে বান্দার প্রতি এ হলো আল্লাহ তাআলার নির্দেশ। এছাড়াও আরো অনেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে কুরবানি করার নির্দেশ এবং উপদেশ প্রদান করেছেন।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানির পশু জবাইয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। লক্ষ্য রেখেছেন পশু জবাইয়ের সময় যেন বেশি কষ্ট না পায়। সে জন্য জবাই করার যন্ত্র ধারালো হওয়ার কথা বলেছেন। হাদিসে এসেছে- হজরত শাদ্দাদ ইবনে আওছ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা সব কিছুর ওপর অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কোরবানির পশু) জবাই করবে, তখন উত্তম পদ্ধতিতে জবাই করবে। প্রত্যেকেই তার ছুরিতে শান দেবে এবং তার পশুকে শান্তি দেবে। (মুসলিম)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে কুরবানির পশু জবাই করেছেন। আবার কুরবানির পশু জবাইয়ের ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কিভাবে উটসহ অন্যান্য প্রাণীগুলোকে জবাই করতে হবে তার বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।

পশুগুলোকে কুরবানি করার নিয়মসমূহ

১. উটকে দাঁড়ানো অবস্থায় নহর বা কুরবানি করা সুন্নাত। জবাইয়ের সময় উটের বাম সামনের বাম পা বেঁধে জবাই করা। উটের জবাই (নহর) হবে গলার নিচের দিকে।

২. আর গরু ও ছাগলকে স্বাভাবিকভাবে জবাই করা। তবে জবাইয়ের সুবিধার্থে এর বিপরীতও করা যাবে এবং তা বৈধ। আর গরু ও ছাগলের জবাই (নহর) হবে গলার উপরিভাগে প্রায় কান বরাবর।

৩. গরু, ছাগল, দুম্বা ও ভেড়াকে বাম পার্শ্বের উপর ভর করে শোয়ানো এবং তার (পশুর) ঘাড়ের উপর ডান পা রেখে মাথা চেপে ধরে জবাই করা।

৪. জবাই (নহর) হালাল হওয়ার জন্য কণ্ঠনালী, খাদ্যনালী, বড় রগ দু’টি অথবা একটি কাটা এবং রক্ত প্রবাহিত হওয়াই যথেষ্ট।

জবাই বা নহর করার সময় বলবে- ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহ আকবার’

এ প্রসঙ্গে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুঠাম (দেহ) শিং বিশিষ্ট দু’টি দুম্বা দ্বারা কুরবানি করেছেন। তিনি নিজ হাতে উভয়টি জবাই করেছেন। তিনি ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলেছেন। অতঃপর নিজের পা তাদের (পশুর) ঘাড়ের ওপর রাখেন। (বুখারি ও মুসলিম)

আর কুরবানি দাতার জন্য নিজের হাতে কুরবানি আদায় করা হলো সুন্নাত। আর যদি কুরবানির পশু জবাই করতে না জানে বা জবাই করতে না পারে তবে উপস্থিত অন্য কাউকে দিয়ে কুরবানি করানো।