ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎস ব্যবহারের পরিকল্পনা : এ্যানি এনসিপির সমাবেশে হামলায় কঠোর ব্যবস্থা: সংসদে আইনমন্ত্রী ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন অর্থনীতির গতি বাড়াতে বীমা খাতকে আইনি কাঠামোয় আনার তাগিদ তথ্যমন্ত্রীর ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে: সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী গণভোট না মানলে রাজনীতি সংঘাতের দিকে যেতে পারে: ১১ দলীয় ঐক্যের হুঁশিয়ারি স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত তদন্তের নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর

নিয়মের বালাই নেই, করোনা ঝুঁকিতে গাবতলি হাট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না রাজধানীর গাবতলি গবাদি পশুর হাটে। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। ব্যবহার করছেন না মাস্ক। এতে বাড়ছে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি।

সোমবার গাবতলি হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য গবাদি পশু বিক্রেতা ও বেপারিরা কোনো ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই হাটে অবস্থান করছেন। হাটে ক্রেতা সমাগম কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে তারা আড্ডা দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোনো সামাজিক দূরত্ব মানার চিত্র চোখে পড়েনি।

এদিকে বেপারিদের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি হাটে আসা ক্রেতাদেরও। করোনা সংক্রমণের কারণে যেকোনো ধরনের উৎসব নিষিদ্ধ করার কারণে ব্যক্তিগতভাবে গবাদি পশু কেনার হার আগের তুলনায় অনেকাংশেই কমে গেছে। হাটের এখনকার মূল ক্রেতা রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীরা। হাটে পশু কিনতে আসা এসব মাংস বিক্রেতাদের বেশির ভাগই আসছেন মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়া। মানছেন না সামাজিক দূরত্বও।

স্থানীয়রা জানান, গাবতলি গবাদি পশু বিক্রির হাট কোরবানির আগে জমজমাট হয়ে উঠলেও এটি মূলত সারা বছরের হাট। বছরের প্রতিটি দিন এখানে লোক সমাগম হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও হাটে আগের তুলনায় ক্রেতা কমলেও লোক সমাগম ঠিকই আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সজীব সরকার দৈনিক আকাশকে জানান, হাটে জনসমাগম, আড্ডা আর কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া চলাচলের চিত্র নিয়মিত। তিনি বলেন, ‘হাটে যারা থাকে তারা প্রতিদিনই এভাবে জড়ো হয়। কারো মধ্যে কোনো সামাজিক দূরত্ব থাকে না। বেশির ভাগ লোকজনই মাস্ক পরে না। চায়ের দোকান সব খোলা, আড্ডা চলে।’

রাজধানীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবকিছু সেভাবেই চলছে। কিন্তু গাবতলি গবাদি পশুর হাট চলছে রাত ১২টার পরেও। খোলা থাকছে চায়ের দোকান। চলছে আড্ডা।

গাবতলি এলাকার ট্রাক চালক সাদ্দাম হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘হাটের লোকজন কী করব, বসে চা-পানি খাই। এখন তো আমরাগোও ওইভাবে ট্রিপ নাই। বাসায় সারাদিন কী করুম। অনেকেই বিকাল থেকে হাটে আসে, বসে, গল্প গুজব করে। দূরে বইসা বইসা কি কথা কওয়া যায় নাকি! রোজা শুরুর পর থেকে ইফতারের পরই মানুষ বেশি আসে। কেউ কেউ হাটেই ইফতারি করে।‘

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গাবতলি হাট সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে ট্রাক শ্রমিকদের আড্ডা, লুডু লেখা, তাস খেলা নিত্য দিনের বিষয়। যা এখনো চলমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদ অধিবেশন দেখতে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

নিয়মের বালাই নেই, করোনা ঝুঁকিতে গাবতলি হাট

আপডেট সময় ০৯:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হলেও তা মানা হচ্ছে না রাজধানীর গাবতলি গবাদি পশুর হাটে। হাটের ক্রেতা-বিক্রেতারা সবাই স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করছেন। ব্যবহার করছেন না মাস্ক। এতে বাড়ছে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি।

সোমবার গাবতলি হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু, ছাগল, মহিষসহ অন্যান্য গবাদি পশু বিক্রেতা ও বেপারিরা কোনো ধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই হাটে অবস্থান করছেন। হাটে ক্রেতা সমাগম কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে তারা আড্ডা দিচ্ছেন। এক্ষেত্রে কোনো সামাজিক দূরত্ব মানার চিত্র চোখে পড়েনি।

এদিকে বেপারিদের পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি হাটে আসা ক্রেতাদেরও। করোনা সংক্রমণের কারণে যেকোনো ধরনের উৎসব নিষিদ্ধ করার কারণে ব্যক্তিগতভাবে গবাদি পশু কেনার হার আগের তুলনায় অনেকাংশেই কমে গেছে। হাটের এখনকার মূল ক্রেতা রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীরা। হাটে পশু কিনতে আসা এসব মাংস বিক্রেতাদের বেশির ভাগই আসছেন মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ছাড়া। মানছেন না সামাজিক দূরত্বও।

স্থানীয়রা জানান, গাবতলি গবাদি পশু বিক্রির হাট কোরবানির আগে জমজমাট হয়ে উঠলেও এটি মূলত সারা বছরের হাট। বছরের প্রতিটি দিন এখানে লোক সমাগম হয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতেও হাটে আগের তুলনায় ক্রেতা কমলেও লোক সমাগম ঠিকই আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সজীব সরকার দৈনিক আকাশকে জানান, হাটে জনসমাগম, আড্ডা আর কোনো নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া চলাচলের চিত্র নিয়মিত। তিনি বলেন, ‘হাটে যারা থাকে তারা প্রতিদিনই এভাবে জড়ো হয়। কারো মধ্যে কোনো সামাজিক দূরত্ব থাকে না। বেশির ভাগ লোকজনই মাস্ক পরে না। চায়ের দোকান সব খোলা, আড্ডা চলে।’

রাজধানীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সবকিছু সেভাবেই চলছে। কিন্তু গাবতলি গবাদি পশুর হাট চলছে রাত ১২টার পরেও। খোলা থাকছে চায়ের দোকান। চলছে আড্ডা।

গাবতলি এলাকার ট্রাক চালক সাদ্দাম হোসেন দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘হাটের লোকজন কী করব, বসে চা-পানি খাই। এখন তো আমরাগোও ওইভাবে ট্রিপ নাই। বাসায় সারাদিন কী করুম। অনেকেই বিকাল থেকে হাটে আসে, বসে, গল্প গুজব করে। দূরে বইসা বইসা কি কথা কওয়া যায় নাকি! রোজা শুরুর পর থেকে ইফতারের পরই মানুষ বেশি আসে। কেউ কেউ হাটেই ইফতারি করে।‘

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গাবতলি হাট সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে ট্রাক শ্রমিকদের আড্ডা, লুডু লেখা, তাস খেলা নিত্য দিনের বিষয়। যা এখনো চলমান।