ঢাকা ০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিএসটিসির সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সুশৃঙ্খল নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। বরং অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপদ্ধতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরায় স্বাভাবিক ও কার্যকর করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি স্বাভাবিক হলে কোনো অনিয়ম আর নিয়মে পরিণত হবে না। সবকিছু আইনের শাসন ও নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান গুরুত্ব পাবে এবং সবাই যেন গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—‘এ দেশ আমার’—সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

ফারজানা শারমীন বলেন, অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কোথাও জবাবদিহিতা ছিল না। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদে পাঠিয়েছে। বর্তমান সংসদে সরকারের পাশাপাশি কার্যকর বিরোধী দলও রয়েছে। সংসদে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পুরো পরিবারকে সেবা দেওয়া এই নারী যেন ওষুধ কেনা বা অন্য কোনো প্রয়োজন মেটাতে কারও মুখাপেক্ষী না হন। তিনি যেন পরিবারের অবহেলার শিকার না হন এবং অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকতে পারেন। পরিবার থেকে শুরু করে দেশের সব মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংখ্যা একসময় ছিল ৭২ হাজার। সক্রিয় না থাকায় তা কমে বর্তমানে ৫৬ হাজারে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এটি দুই থেকে তিন হাজারে সীমিত হতে পারে। যারা প্রকৃত অর্থে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে, তারাই টিকে থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ও কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল রয়েছে। তাই প্রকৃত জনকল্যাণে নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে সরকার ভবিষ্যতেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গত ৪৮ বছর ধরে দেশের জনস্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) যে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

পিএসটিসির কোষাধ্যক্ষ মো. বদরুল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের জন্য একটি গর্বের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পিএসটিসির সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় কোনো সুশৃঙ্খল নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি। বরং অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার কর্মপদ্ধতি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে পুনরায় স্বাভাবিক ও কার্যকর করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি স্বাভাবিক হলে কোনো অনিয়ম আর নিয়মে পরিণত হবে না। সবকিছু আইনের শাসন ও নিয়মের মধ্যেই পরিচালিত হবে। দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান গুরুত্ব পাবে এবং সবাই যেন গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—‘এ দেশ আমার’—সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

ফারজানা শারমীন বলেন, অতীতে স্বেচ্ছাচারিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছিল। কোথাও জবাবদিহিতা ছিল না। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদে পাঠিয়েছে। বর্তমান সংসদে সরকারের পাশাপাশি কার্যকর বিরোধী দলও রয়েছে। সংসদে জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পুরো পরিবারকে সেবা দেওয়া এই নারী যেন ওষুধ কেনা বা অন্য কোনো প্রয়োজন মেটাতে কারও মুখাপেক্ষী না হন। তিনি যেন পরিবারের অবহেলার শিকার না হন এবং অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে স্বস্তিতে থাকতে পারেন। পরিবার থেকে শুরু করে দেশের সব মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংখ্যা একসময় ছিল ৭২ হাজার। সক্রিয় না থাকায় তা কমে বর্তমানে ৫৬ হাজারে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এটি দুই থেকে তিন হাজারে সীমিত হতে পারে। যারা প্রকৃত অর্থে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে, তারাই টিকে থাকবে। সরকারের লক্ষ্য ও কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর উদ্দেশ্যের মধ্যে মিল রয়েছে। তাই প্রকৃত জনকল্যাণে নিয়োজিত সংগঠনগুলোকে সরকার ভবিষ্যতেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, গত ৪৮ বছর ধরে দেশের জনস্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গসমতা, কিশোর-কিশোরীদের উন্নয়ন এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে পপুলেশন সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি) যে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে, তা আগামী দিনগুলোতে আরও বেগবান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

পিএসটিসির কোষাধ্যক্ষ মো. বদরুল মুনীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পিএসটিসির নির্বাহী পরিচালক ড. নূর মোহাম্মদ।