ঢাকা ০৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

কর্মসূচিহীন রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইতিহাসে মর্মান্তিক এক কালো অধ্যায়ের নাম রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে নয় তলা রানা প্লাজা ভবনধসে এর নিচে চাপা পরে নিহত হন হাজারের অধিক শ্রমিক। আহত প্রায় কয়েক হাজারের মধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। আর নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি ছয় বছরেও।

আজ ২৪ এপ্রিল। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাত বছর পূর্ণ হলো। প্রতিবছরে এই দিনটিতে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এ বছর দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তিতে সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজেদের বাসায় উপস্থিত থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে রানা প্লাজায় হতাহতদের স্মরণ করেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার ও আশুলিয়া ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সাথে বৈঠক করেন তারা।

এ ব্যাপারে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণে রানা প্লাজার সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা রোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশা করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবে সবাই।

বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, নিহতদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে গিয়ে সকল শ্রমিকদের ও আহত, নিহত শ্রমিক পরিবারকে শ্রদ্ধা, সমবেদনা জানানো থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আহবানের পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারী থেকে সুরক্ষায় ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের সাথে বৈঠক শেষেএই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব শেষ রানা প্লাজা ও তাজরীনের হতাহত পরিবারের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন চেয়ারম্যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মসূচিহীন রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তি

আপডেট সময় ১১:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ইতিহাসে মর্মান্তিক এক কালো অধ্যায়ের নাম রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে নয় তলা রানা প্লাজা ভবনধসে এর নিচে চাপা পরে নিহত হন হাজারের অধিক শ্রমিক। আহত প্রায় কয়েক হাজারের মধ্যে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকেই। আর নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি ছয় বছরেও।

আজ ২৪ এপ্রিল। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাত বছর পূর্ণ হলো। প্রতিবছরে এই দিনটিতে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জানান আহত শ্রমিক, নিহতদের স্বজন, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এ বছর দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির বর্ষপূর্তিতে সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিজেদের বাসায় উপস্থিত থেকে মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে রানা প্লাজায় হতাহতদের স্মরণ করেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার ও আশুলিয়া ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এর আগে আশুলিয়ার ধামসোনা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের সাথে বৈঠক করেন তারা।

এ ব্যাপারে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশ, জাতি ও শ্রমিকদের কল্যাণে রানা প্লাজার সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা রোধে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আশা করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাবে সবাই।

বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সারোয়ার হোসেন বলেন, নিহতদের স্মরণে রানা প্লাজার সামনে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে গিয়ে সকল শ্রমিকদের ও আহত, নিহত শ্রমিক পরিবারকে শ্রদ্ধা, সমবেদনা জানানো থেকে বিরত থাকার আহবান জানান। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের আহবানের পাশাপাশি নিজেদের নৈতিক অবস্থান থেকে রানা প্লাজা ধসে নিহতদের স্মরণে যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, করোনা মহামারী থেকে সুরক্ষায় ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাভার ও আশুলিয়ার ২৫টি শ্রমিক সংগঠনের সাথে বৈঠক শেষেএই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব শেষ রানা প্লাজা ও তাজরীনের হতাহত পরিবারের জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিদের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন চেয়ারম্যান।