ঢাকা ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির খন্দকার লুৎফরকে বহিষ্কার, জাগপার নতুন সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথে: জিএম কাদের মুখে বালিশ চেপে ধরে কিশোরীকে অচেতন, ধর্ষণের পর ফেলে যায় চৌবাচ্চায় এনসিপির মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ ৬ জুলাই শুরু অহংকার যে একটি দেশ ও দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয়’, পিডিকে প্রশ্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সেই ভুল আর করা চলবে না: শামা ওবায়েদ চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

পলাতক খুনির প্রার্থী আর কেমন হবে: জয়

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, একজন পলাতক খুনির নির্বাচন করা প্রার্থী আর কেমনই বা হতে পারে।

সোমবার সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন।

জয় বলেন, বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই, যাদের তারা মনোনয়ন দিতে পারে।

তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় অপরাধী, না হয় দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি-এমনকি তাদের নামে হত্যা মামলাও আছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সহিংস আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে জয় বলেছেন, তাদের নেতাকর্মীরা শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। এদের জায়গা তো জেলখানা নয়, এদের জায়গা ফাঁসিকাষ্ঠে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশে হবহু তুলে ধরা হল-

জয় লিখেছেন-‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করেই যাচ্ছে বিএনপি। প্রথমে তারা অভিযোগ করল গ্রেফতার নিয়ে। তাদের কর্মীরা ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, আহত করেছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুকে।

এসব ঘটনার পেছনে চিহ্নিত বেশিরভাগ লোকেই এতদিন লুকিয়ে ছিল অথবা দেশের বাইরে পালিয়েছিল। এখন নির্বাচনের আগে তারা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে-এমনকি নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে। এদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কী করা উচিত? সামনে নির্বাচন বলে তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে না? এদের জায়গা তো জেলখানা নয়, এদের জায়গা ফাঁসিকাষ্ঠে।

এখন বিএনপি তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল নিয়ে অভিযোগ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভাইস চেয়ারপারসন দুজনেই আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। তারেক, একজন পলাতক আসামি এবং হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত, লন্ডনে বসে তার দলের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। একজন পলাতক খুনির হাতে নির্বাচিত প্রার্থী আর কেমনই বা হতে পারে?

তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় অপরাধী, না হয় দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি-এমনকি তাদের নামে হত্যা মামলাও আছে। যেমন আবুল কালাম মোহাম্মদ রিয়াজুল করিম, যিনি পিরোজপুর থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, ব্রিটিশ আদালতের চিহ্নিত ফেরারি আসামি!

নির্বাচন কমিশনের কি আসলেই উচিত ছিল এসব চিহ্নিত ফেরারি আসামি, ঋণখেলাপিদের নির্বাচন করতে দেয়া? বিএনপি মোট আসনের দ্বিগুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, প্রতিটি আসনে কমপক্ষে দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে তারা। কারণ তারা জানে, তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, না হয় ঋণখেলাপি এবং এরা নির্বাচনের অযোগ্য। এখন তারা নির্বাচন কমিশনকে কলঙ্কিত করতে এটাকে ব্যবহার করছে।

আসল কথা হচ্ছে-বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই, যাদের তারা মনোনয়ন দিতে পারে। তারা শেষ যে বার ক্ষমতায় ছিল, সেটি ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং দুর্নীতিপরায়ণ সরকার। অবশ্য-তখন তাদের সারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার হিসেবে কুখ্যাতিও ছিল।

যেসব প্রার্থীর দুর্নাম আছে, আইনি অভিযোগ আছে মাত্র-এমন প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধু জনমতের কারণে যেসব বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ আছে, আদালতে তা খারিজ হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি।

মানুষের জন্য কাজ করে যে দল, তাদের পক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

পলাতক খুনির প্রার্থী আর কেমন হবে: জয়

আপডেট সময় ০২:৪১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ ডিসেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, একজন পলাতক খুনির নির্বাচন করা প্রার্থী আর কেমনই বা হতে পারে।

সোমবার সজীব ওয়াজেদ জয় তার ফেসবুক পেজে দেয়া স্ট্যাটাসে এসব কথা লেখেন।

জয় বলেন, বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই, যাদের তারা মনোনয়ন দিতে পারে।

তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় অপরাধী, না হয় দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি-এমনকি তাদের নামে হত্যা মামলাও আছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সহিংস আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে জয় বলেছেন, তাদের নেতাকর্মীরা শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। এদের জায়গা তো জেলখানা নয়, এদের জায়গা ফাঁসিকাষ্ঠে।

সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাসটি পাঠকদের উদ্দেশে হবহু তুলে ধরা হল-

জয় লিখেছেন-‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে একের পর এক অভিযোগ করেই যাচ্ছে বিএনপি। প্রথমে তারা অভিযোগ করল গ্রেফতার নিয়ে। তাদের কর্মীরা ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক হাজার আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে, আহত করেছে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুকে।

এসব ঘটনার পেছনে চিহ্নিত বেশিরভাগ লোকেই এতদিন লুকিয়ে ছিল অথবা দেশের বাইরে পালিয়েছিল। এখন নির্বাচনের আগে তারা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসছে-এমনকি নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে। এদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কী করা উচিত? সামনে নির্বাচন বলে তাদের আইনের আওতায় আনা যাবে না? এদের জায়গা তো জেলখানা নয়, এদের জায়গা ফাঁসিকাষ্ঠে।

এখন বিএনপি তাদের মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল নিয়ে অভিযোগ করছে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভাইস চেয়ারপারসন দুজনেই আদালতে সাজাপ্রাপ্ত। তারেক, একজন পলাতক আসামি এবং হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত, লন্ডনে বসে তার দলের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। একজন পলাতক খুনির হাতে নির্বাচিত প্রার্থী আর কেমনই বা হতে পারে?

তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় অপরাধী, না হয় দুর্নীতিগ্রস্ত, ঋণখেলাপি, দুর্নীতি-এমনকি তাদের নামে হত্যা মামলাও আছে। যেমন আবুল কালাম মোহাম্মদ রিয়াজুল করিম, যিনি পিরোজপুর থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন, ব্রিটিশ আদালতের চিহ্নিত ফেরারি আসামি!

নির্বাচন কমিশনের কি আসলেই উচিত ছিল এসব চিহ্নিত ফেরারি আসামি, ঋণখেলাপিদের নির্বাচন করতে দেয়া? বিএনপি মোট আসনের দ্বিগুণ প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে, প্রতিটি আসনে কমপক্ষে দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছে তারা। কারণ তারা জানে, তাদের বেশিরভাগ প্রার্থীই হয় কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি, না হয় ঋণখেলাপি এবং এরা নির্বাচনের অযোগ্য। এখন তারা নির্বাচন কমিশনকে কলঙ্কিত করতে এটাকে ব্যবহার করছে।

আসল কথা হচ্ছে-বিএনপির ৩০০ জন যোগ্য প্রার্থী নেই, যাদের তারা মনোনয়ন দিতে পারে। তারা শেষ যে বার ক্ষমতায় ছিল, সেটি ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সহিংস এবং দুর্নীতিপরায়ণ সরকার। অবশ্য-তখন তাদের সারা পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার হিসেবে কুখ্যাতিও ছিল।

যেসব প্রার্থীর দুর্নাম আছে, আইনি অভিযোগ আছে মাত্র-এমন প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে আওয়ামী লীগ। শুধু জনমতের কারণে যেসব বর্তমান সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ আছে, আদালতে তা খারিজ হয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়নি।

মানুষের জন্য কাজ করে যে দল, তাদের পক্ষেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব।’