ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৬ জুলাই ঘিরে গোপালগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন মালয়েশিয়ায় ইসরাইলি নাগরিক শনাক্ত হলে সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কার আল্টিমেটাম দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ কোনোভাবেই উগ্রবাদকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার:প্রধানমন্ত্রী অহংকারী মনোভাব বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকারের বসা উচিত:নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৬ কার্যদিবসের বাজেট অধিবেশন সমাপ্ত, ১০ সরকারি বিল পাস এমপিরা পৃষ্ঠপোষক না হলে দুর্নীতি কানে ধরে বিদায় নেবে:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চালু হবে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুধু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাই নয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কখনো নিজ বাসভবনে, কখনো জনসভায় আবার কখনো তার গাড়ি বহরে।

শেখ হাসিনা প্রথম হামলার শিকার হন ১৯৮৭ সালে ১০ নভেম্বর সচিবালয়ের সামনে। স্বৈরাচার বিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন মারা যান। ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জনসভা করতে গিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রিনরোডে তিনি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেন মার্চ করার সময় ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে তাকে বহনকারী ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর পান্থপথে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় কার্জন হল থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল।

২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্র সেখানে বোমা পুঁতে রাখে। গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে। ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে বিএনপি-জামায়াত চক্র ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে বিএনপি-জামায়াতের ঘাতক চক্র। তাকে হত্যার জন্য সবচেয়ে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে। এখানেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। তিনি যে ট্রাকটিতে উঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, সেই ট্রাকে নিক্ষেপ করা গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনিসহ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেঁচে গেছেন। তবে প্রাণ গেছে ২৪ জন নেতাকর্মীর। আহত ও জীবনের তরে পঙ্গু হয়েছেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

শেখ হাসিনাকে হত্যার সর্বশেষ চেষ্টা হয় গত ১৫ আগস্ট। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার থেকে দুইশ গজ দূরেই একটি হোটেলে অবস্থান নিয়েছিল এক আত্মঘাতী জঙ্গি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেই টের পেয়ে তাকে ঘিরে ফেলায় জঙ্গিটি সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি আরবের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল

আপডেট সময় ১২:৩৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

শুধু একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলাই নয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২০ বার হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। কখনো নিজ বাসভবনে, কখনো জনসভায় আবার কখনো তার গাড়ি বহরে।

শেখ হাসিনা প্রথম হামলার শিকার হন ১৯৮৭ সালে ১০ নভেম্বর সচিবালয়ের সামনে। স্বৈরাচার বিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন মারা যান। ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জনসভা করতে গিয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারীরা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেখ হাসিনা তখন ওই বাসাতেই থাকতেন।

১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রিনরোডে তিনি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেন মার্চ করার সময় ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে তাকে বহনকারী ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে রাজধানীর পান্থপথে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় কার্জন হল থেকে অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল।

২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্র সেখানে বোমা পুঁতে রাখে। গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে। ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে বিএনপি-জামায়াত চক্র ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি।

২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে গুলিবর্ষণ করে বিএনপি-জামায়াতের ঘাতক চক্র। তাকে হত্যার জন্য সবচেয়ে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশস্থলে। এখানেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। তিনি যে ট্রাকটিতে উঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, সেই ট্রাকে নিক্ষেপ করা গ্রেনেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনিসহ আওয়ামী লীগের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেঁচে গেছেন। তবে প্রাণ গেছে ২৪ জন নেতাকর্মীর। আহত ও জীবনের তরে পঙ্গু হয়েছেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

শেখ হাসিনাকে হত্যার সর্বশেষ চেষ্টা হয় গত ১৫ আগস্ট। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার থেকে দুইশ গজ দূরেই একটি হোটেলে অবস্থান নিয়েছিল এক আত্মঘাতী জঙ্গি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগেই টের পেয়ে তাকে ঘিরে ফেলায় জঙ্গিটি সুইসাইড ভেস্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।