অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:
সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের ওপর তুরস্কের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুর্কি ধর্মপ্রচারক ফেতুল্লাহ গুলেনকে প্রত্যর্পণের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। ২০১৬ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের নেপথ্যে তার ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করছে তুরস্ক।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্ট এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছেন।
এনবিসি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুলেনকে তুরস্কের কাছে প্রত্যর্পণের উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও গুলেনের কাছে মার্কিন গ্রিনকার্ড রয়েছে।
ইস্তানবুলে কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডে সৌদি আরবের ওপর তুরস্কের চাপ কমাতেই গুলেনকে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লখ করা হয়।
হিদার নুয়ার্ট বলেন, তুরস্ক সরকারের কাছ থেকে গুলেনের বিষয়ে আমরা অনেক অনুরোধ পেয়েছি। বর্তমানে তাকে প্রত্যর্পণের যে অনুরোধ তুরস্ক করেছে, আমরা তার মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছি।
সৌদি আরবের ওপর তুরস্কের চাপ ও গুলেনের প্রত্যর্পণের অনুরোধের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এমন কোনো আলোচনায় হোয়াইট হাউস জড়িত নয়।
অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে এনবিসি বলেছে, ৭৭ বছর বয়সী ফেতুল্লাহ গুলেনকে তুরস্ক থেকে বের করে দিতে আইনগত উপায় খুঁজতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে বলেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
গত ২ অক্টোবর ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের প্রদায়ক সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে। তিনি এমবিএস নামে পরিচিত যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক ছিলেন।
তার হত্যাকাণ্ড নিয়ে সৌদি আরব একাধিকবার তাদের বিবৃতি পাল্টেছে। সবশেষে সৌদি আরব খাশোগি হত্যা পরিকল্পিত ছিল বলেও স্বীকার করে।
এ ঘটনায় সৌদি আরব পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের অনুরোধ করেছে। কিন্তু সৌদি সিংহাসনের উত্তরসূরি মোহাম্মদ বিন সালমানকে অভিযোগ থেকে রেহাই দিয়েছে।
খাশোগি হত্যাকাণ্ডে এমবিএস জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা। সমালোচকরাও বলছেন, তিনি এ খুনের ঘটনা জানতেন না তা হতে পারে না।
এদিকে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের একসময়ের মিত্র ফেতুল্লাহ গুলেনকে দায়ী করা হচ্ছে। ওই অভ্যুত্থানে অন্তত ২৫০ জন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনা নিয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে চিড় ধরে। গুলেনকে তুরস্কের কাছে হস্তান্তরে ব্যর্থতার জন্য দেশটি ওয়াশিংটনের ওপর নাখোশ হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























