ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানে ভারী তুষারপাতে ৩৫ জনের মৃত্যু সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে নেপালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ সৈয়দপুরে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আসামি ছিনতাই ফরিদপুরকে বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের মব ভায়োলেন্স বলে কোন কিছু নেই,পুলিশের মধ্যে কোন ভীতি কাজ করছে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ন্যায় বিচার সকলের মৌলিক অধিকার: জোনায়েদ সাকী ছেলের মুক্তি মেলেনি প্যারোলে, বাবার লাশ গেল কারাগারে নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ চায় এনসিপি এবার ইউক্রেনের ‘হত্যা তালিকায়’ ফিফার প্রেসিডেন্ট ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ঈগলের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ ভোট’ দিতে হবে: ফুয়াদ

যুদ্ধে কখনোই জিতবে না যুক্তরাষ্ট্র!

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই জিতবে না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার শুরু হয়েছে। আফগান যুদ্ধে তালেবান সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে খবরে প্রকাশ হয়।

গত বছরের এক জরিপে দেখা যায় আফগানিস্তানের ৬৬ শতাংশ এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের সরাসরি উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত। দেশটিতে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার।

বিবিসি তাদের এক সমীক্ষায় দেখাচ্ছে বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর বাস তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। সেখান থেকেই তাদের যুদ্ধ পরিচালনা থেকে সব রকমের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২০১১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে এক লাখ সেনা থাকলেও বর্তমানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতারোহণের পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরও ১০০০ সেনা পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

যেখানে ১ লাখ সেনা ছিল সে অবস্থা রেখে কীভাবে সম্ভব ১৪ হাজার সেনা দিয়ে আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণের। বিশ্লেষকরা বলছে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সিনিয়র সম্পাদক কৃষ্ণাব ক্যালামুরের মতে, বর্তমানে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনের রেকর্ড যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তালেবানরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

‘ইউএস অ্যাফর্টস টু কাউন্টার টেররিজম ইন সাউথ এশিয়া’ বইয়ের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছে, যা ছিল খুবই যুক্তিসঙ্গত।

ওই বইয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এখনো আফগানিস্তানে কেন অবস্থান করছে, সেখানে আমেরিকার যুক্তিগ্রাহ্য কী স্বার্থ রয়েছে এবং যুদ্ধ কিভাবে শেষ হবে?’

গত বছরে আফগানিস্তানে মোতায়েন এক মার্কিন শীর্ষ কমান্ডার বক্তব্যে এসব প্রশ্নের উপসংহার টেনেছেন এভাবে, ‘আফগানিস্তানের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান তো হয়নি, এটা এখনো চলমান রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে অসমর্থ যে, তার বাহিনী প্রকৃতপক্ষে কী অর্জন করতে যাচ্ছে।

কোনো কোনো পর্যবেক্ষক ভিন্ন কথা বলছেন। তারা মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সাহস জুগিয়েছে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী তুলে আনার সময়সীমা ঘোষণা করে।

আমেরিকার সঙ্গে ১৬ বছরের যুদ্ধে তালেবানরা টিকে গেছে। তারা যে কোনো অবস্থার মোকাবেলা করতে সক্ষম।

কারণ হিসেবে ধরা হয় ১৬ বছরে আমেরিকার সেনারা তালেবান যোদ্ধাদের নিঃশেষ করতে পারেনি। তারা তাদের যুদ্ধের জন্য প্রতিনিয়ত যোদ্ধা জুগিয়েছে। মূলত আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি দেখা যায় তালেবান যোদ্ধাদের আক্রমণের শিকার হয়ে আফগানিস্তানে ৯৫ জনকে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫৮ জন।

এরপর থেকেই ট্রাম্প তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। লরেল ম্যুলার আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাস্তবভিত্তিক প্রস্থান কৌশলটি প্রণয়ন করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে আসাই মার্কিনিদের জন্য সমাধান।’

কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী পাকিস্তানের ভূমিকে তাদের রসদ সরবরাহে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। এটা খুবই সস্তায় করা য়ায়। পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার না করে অন্য কোনো উপায়ে আফগানিস্তানে রসদ ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়ে গেলে প্রচুর খরচ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে আফগানিস্তানে আক্রমণ করতে হলে পাকিস্তানকে লাগবে। ট্রাম্প যেভাবে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছেন তাতে ক্ষতি ছাড়া উপকার হয়নি। কারণ হিসেবে দেখা গেছে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের রয়েছে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। চীন পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

এমন সময়ে আমেরিকা যদি পাকিস্তানকে কিছু করতে হয়, তাহলে চীনকে মাথায় রেখে করতে হবে। আর বর্তমান বিশ্বে চীন এক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব কারণ থেকেই বোঝা যায়, আমেরিকা কতটুকু ব্যয় ও শক্তি খাটিয়ে তালেবান সেনাদের রুখবে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধে কখনোই জিতবে না যুক্তরাষ্ট্র!

আপডেট সময় ০৮:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই জিতবে না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার শুরু হয়েছে। আফগান যুদ্ধে তালেবান সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলে খবরে প্রকাশ হয়।

গত বছরের এক জরিপে দেখা যায় আফগানিস্তানের ৬৬ শতাংশ এলাকায় তালেবান যোদ্ধাদের সরাসরি উপস্থিতি রয়েছে। সেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত। দেশটিতে ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলার।

বিবিসি তাদের এক সমীক্ষায় দেখাচ্ছে বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর বাস তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। সেখান থেকেই তাদের যুদ্ধ পরিচালনা থেকে সব রকমের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

২০১১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে এক লাখ সেনা থাকলেও বর্তমানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে মোতায়েন রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতারোহণের পর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরও ১০০০ সেনা পাঠানোর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

যেখানে ১ লাখ সেনা ছিল সে অবস্থা রেখে কীভাবে সম্ভব ১৪ হাজার সেনা দিয়ে আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণের। বিশ্লেষকরা বলছে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

সিনিয়র সম্পাদক কৃষ্ণাব ক্যালামুরের মতে, বর্তমানে আফগানিস্তানে আফিম উৎপাদনের রেকর্ড যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। তালেবানরা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

‘ইউএস অ্যাফর্টস টু কাউন্টার টেররিজম ইন সাউথ এশিয়া’ বইয়ের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছে, যা ছিল খুবই যুক্তিসঙ্গত।

ওই বইয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, ‘মার্কিন নীতিনির্ধারকরা এখনো আফগানিস্তানে কেন অবস্থান করছে, সেখানে আমেরিকার যুক্তিগ্রাহ্য কী স্বার্থ রয়েছে এবং যুদ্ধ কিভাবে শেষ হবে?’

গত বছরে আফগানিস্তানে মোতায়েন এক মার্কিন শীর্ষ কমান্ডার বক্তব্যে এসব প্রশ্নের উপসংহার টেনেছেন এভাবে, ‘আফগানিস্তানের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান তো হয়নি, এটা এখনো চলমান রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা সুনির্দিষ্ট করে বলতে অসমর্থ যে, তার বাহিনী প্রকৃতপক্ষে কী অর্জন করতে যাচ্ছে।

কোনো কোনো পর্যবেক্ষক ভিন্ন কথা বলছেন। তারা মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালেবানদের সাহস জুগিয়েছে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী তুলে আনার সময়সীমা ঘোষণা করে।

আমেরিকার সঙ্গে ১৬ বছরের যুদ্ধে তালেবানরা টিকে গেছে। তারা যে কোনো অবস্থার মোকাবেলা করতে সক্ষম।

কারণ হিসেবে ধরা হয় ১৬ বছরে আমেরিকার সেনারা তালেবান যোদ্ধাদের নিঃশেষ করতে পারেনি। তারা তাদের যুদ্ধের জন্য প্রতিনিয়ত যোদ্ধা জুগিয়েছে। মূলত আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি দেখা যায় তালেবান যোদ্ধাদের আক্রমণের শিকার হয়ে আফগানিস্তানে ৯৫ জনকে নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫৮ জন।

এরপর থেকেই ট্রাম্প তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। লরেল ম্যুলার আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাস্তবভিত্তিক প্রস্থান কৌশলটি প্রণয়ন করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আফগানিস্তান থেকে বের হয়ে আসাই মার্কিনিদের জন্য সমাধান।’

কারণ হিসেবে তিনি মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী পাকিস্তানের ভূমিকে তাদের রসদ সরবরাহে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে। এটা খুবই সস্তায় করা য়ায়। পাকিস্তানি ভূখণ্ড ব্যবহার না করে অন্য কোনো উপায়ে আফগানিস্তানে রসদ ও অন্যান্য সরবরাহ নিয়ে গেলে প্রচুর খরচ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে আফগানিস্তানে আক্রমণ করতে হলে পাকিস্তানকে লাগবে। ট্রাম্প যেভাবে পাকিস্তানকে হুমকি দিয়েছেন তাতে ক্ষতি ছাড়া উপকার হয়নি। কারণ হিসেবে দেখা গেছে পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের রয়েছে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। চীন পাকিস্তানকে বিভিন্নভাবে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

এমন সময়ে আমেরিকা যদি পাকিস্তানকে কিছু করতে হয়, তাহলে চীনকে মাথায় রেখে করতে হবে। আর বর্তমান বিশ্বে চীন এক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব কারণ থেকেই বোঝা যায়, আমেরিকা কতটুকু ব্যয় ও শক্তি খাটিয়ে তালেবান সেনাদের রুখবে?