ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির খন্দকার লুৎফরকে বহিষ্কার, জাগপার নতুন সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথে: জিএম কাদের মুখে বালিশ চেপে ধরে কিশোরীকে অচেতন, ধর্ষণের পর ফেলে যায় চৌবাচ্চায় এনসিপির মাসব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ ৬ জুলাই শুরু অহংকার যে একটি দেশ ও দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা গুলিস্তানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আহত ‘আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয়’, পিডিকে প্রশ্ন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সেই ভুল আর করা চলবে না: শামা ওবায়েদ চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে: গণপূর্ত মন্ত্রী

আদালতের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যের প্রতিফলন: ফখরুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল প্রকাশিত দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে-তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি।’

শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে-১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয় বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। কিন্তু লক্ষণীয় হলো-১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় চার জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃন্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হোল কোন যুক্তিতে?

‘১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা বিএনপি’র কোনো নেতাকে অভিযুক্ত- এমনকি সম্পৃক্তও করেনি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাহলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের দুটি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে। অন্যদিকে হুজি নেতা মুফতি হান্নান দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তা’ তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরেও তারই জবানবন্দীকে ভিত্তি করে তারেক রহমান এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়াটা কতটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কিংবা আইনসঙ্গত হয়েছে তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।’

ফখরুল বলেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে-তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত। আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চীনের করিডর প্রস্তাব সরকার ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

আদালতের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্যের প্রতিফলন: ফখরুল

আপডেট সময় ০১:৫৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতের পর্যবেক্ষণকে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, ‘গতকাল প্রকাশিত দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় হামলা বলে আদালতের পর্যবেক্ষণের যে খবর প্রচারিত হয়েছে-তাতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক বক্তব্যের হুবহু প্রতিফলন দেখে দেশের জনগণের মতো আমরাও বিস্মিত হয়েছি।’

শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে-১৯৭১ এর পরাজিত শক্তি এদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালাতে থাকে। পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে স্বাধীন বাংলাদেশের উন্নয়নের গতিকে রোধ করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র থেমে না গিয়ে বহমান থাকে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য করার হীন চেষ্টা চালানো হয় বলেও আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হুবহু এক। কিন্তু লক্ষণীয় হলো-১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ড, জেলখানায় চার জাতীয় নেতার বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো ঘৃন্য অপরাধকে একসূত্রে গাঁথার যুক্তি সঠিক হলে বিএনপি কিংবা বিএনপি পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপরাধী বলা হোল কোন যুক্তিতে?

‘১৯৭৪ সালে বিএনপি’র জন্মও হয়নি এবং ১৫ আগস্ট কিংবা ৩ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারে কোনো আদালতই বিএনপি কিংবা বিএনপি’র কোনো নেতাকে অভিযুক্ত- এমনকি সম্পৃক্তও করেনি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাহলে ২১ আগস্টের ঘটনার বিচারের পর্যবেক্ষণে আগের দুটি ঘটনার উল্লেখ কতটা প্রাসঙ্গিক? দল বিশেষের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণ মিলে যাওয়া কোন স্বাভাবিক ঘটনা নয় বলেই জনগণ মনে করে। অন্যদিকে হুজি নেতা মুফতি হান্নান দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের মুখে যে জবানবন্দী দিয়েছিলেন তা’ তিনি প্রকাশ্য আদালতে লিখিতভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরেও তারই জবানবন্দীকে ভিত্তি করে তারেক রহমান এবং অন্যান্য বিএনপি নেতাকে অভিযুক্ত করে শাস্তি দেয়াটা কতটা মানবিক ও যুক্তিযুক্ত কিংবা আইনসঙ্গত হয়েছে তা উচ্চ আদালত বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করি।’

ফখরুল বলেন, ‘আদালতের পর্যবেক্ষণে বিরোধী দলের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের প্রত্যাশিত আচরণ সম্পর্কে যেসব বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে-তা বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারি দলের আচরণের ঠিক বিপরীত। আমরা আশা করবো সরকার আদালতের এসব পর্যবেক্ষণ মান্য করবে।’