ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : ওবায়দুল কাদের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুষ্টুকে দমন আর শিষ্টকে পালন করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গুজব সন্ত্রাস, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার রুখতেই আইনটি পাস করেছে সরকার। যারা ক্রাইম করবে না তাদের কোনো ভয় নেই।

সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক উপ-কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেন করা হয়েছে- তার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলেন, মনে আছে- গুজব সন্ত্রাস; লাইভ পোস্টিং এক মহিলা কালো কাপড় ঢাকা, সে আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসে আছে, তাকে রেপ করা হচ্ছে! আমাকে বাঁচাও, আমাকে রক্ষা করো! তো কি করতে হবে? পরে তো ধরা পড়েছে আরেক নায়িকা। এসব নাটক সাজিয়েছে তারা (বিএনপি)।

‘গুজব সন্ত্রাস’কে আন্দোলনের চেয়েও ভয়াবহ আখ্যায়িত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এই কাজটি বিএনপি করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালানোর পর এই পোস্টগুলো তারা করে যাচ্ছে। দেশে একটি সরকার আছে। তার পরও কি সব এভাবেই চলতে থাকবে? যারা ক্রাইম করছে না, তাদের কোনো ভয় নেই। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন। তাই বলে কি দুষ্টকে দমন করব না? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দুষ্টকে দমন করার জন্য, শিষ্টকে পালন করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডিজিটাল ক্রাইমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি কি থাকবে না? অরাজকতা আর একদলীয় শাসন এটাও অপপ্রচার। শালীনতা বলতে এই দলের কিছু নেই। একজনতো নয়াপল্টনের অফিসে বসে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের সব নেতার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে। এই যে আমাদের এইচটি ইমাম, প্রবীণ মানুষ তার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য, অশালীন ভাষায় কথা বলে। তার পরও তো আমরা তাকে গ্রেফতার করিনি। মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারই বিএনপির একমাত্র ক্যাপিটাল। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এ কথা আগেও বলেছি, এখনও বলছি; পানি আর তেলে মেশে না। এই জগাখিচুড়ি ঐক্যের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ১০ বছরে যারা ১০ মিনিট রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না, এখন এক মাসে কি কান্দে (কাঁধে) উঠবে? এটা হাস্যকর। তিনি আরও বলেন, কাকে নিয়ে আন্দোলন করবেন? জনগণকে নিয়ে, জনগণ কেন আসবে? জনগণ আসার মতো কোনো অবজেক্টিভ কন্ডিশন বাংলাদেশের নেই। রোজার ঈদ চলে গেল, তারপর কোরবানি ঈদ, এখন তো আর ঈদ নেই। আরেক ঈদ আসবে ২০১৯ সালে, তখন আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা করতে পারেন। তার আগে আর আন্দোলনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। মরা গাঙে জোয়ার আসে না। ১০ বছরে পারেন নাই, আর এক মাসে আন্দোলন। সড়ক পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে চলমান পরিবহন ধর্মঘটন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আমরা সময় নিয়েছি, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে আইনটি আমরা পাস করেছি।

এখন আবার ধর্মঘট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা বসছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলেছি, এটা সদ্য প্রণীত একটি আইন; যদি বিধি প্রণয়ন করা যায়, বিধি প্রণয়ন করে তাদের জন্য কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে আমরা করব। ধর্মঘট প্রত্যাহার করুক, তারপর আইনে তাদের জন্য কোনো বিধিবিধান করা যায় কিনা দেখব। আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : ওবায়দুল কাদের

আপডেট সময় ০১:১৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুষ্টুকে দমন আর শিষ্টকে পালন করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গুজব সন্ত্রাস, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার রুখতেই আইনটি পাস করেছে সরকার। যারা ক্রাইম করবে না তাদের কোনো ভয় নেই।

সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক উপ-কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেন করা হয়েছে- তার ব্যাখ্যায় ওবায়দুল কাদের বলেন, মনে আছে- গুজব সন্ত্রাস; লাইভ পোস্টিং এক মহিলা কালো কাপড় ঢাকা, সে আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসে আছে, তাকে রেপ করা হচ্ছে! আমাকে বাঁচাও, আমাকে রক্ষা করো! তো কি করতে হবে? পরে তো ধরা পড়েছে আরেক নায়িকা। এসব নাটক সাজিয়েছে তারা (বিএনপি)।

‘গুজব সন্ত্রাস’কে আন্দোলনের চেয়েও ভয়াবহ আখ্যায়িত করে সেতুমন্ত্রী বলেন, এই কাজটি বিএনপি করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালানোর পর এই পোস্টগুলো তারা করে যাচ্ছে। দেশে একটি সরকার আছে। তার পরও কি সব এভাবেই চলতে থাকবে? যারা ক্রাইম করছে না, তাদের কোনো ভয় নেই। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে বলেছেন। তাই বলে কি দুষ্টকে দমন করব না? ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দুষ্টকে দমন করার জন্য, শিষ্টকে পালন করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ডিজিটাল ক্রাইমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি কি থাকবে না? অরাজকতা আর একদলীয় শাসন এটাও অপপ্রচার। শালীনতা বলতে এই দলের কিছু নেই। একজনতো নয়াপল্টনের অফিসে বসে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের সব নেতার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলে। এই যে আমাদের এইচটি ইমাম, প্রবীণ মানুষ তার বিরুদ্ধে অশ্রাব্য, অশালীন ভাষায় কথা বলে। তার পরও তো আমরা তাকে গ্রেফতার করিনি। মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারই বিএনপির একমাত্র ক্যাপিটাল। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি এ কথা আগেও বলেছি, এখনও বলছি; পানি আর তেলে মেশে না। এই জগাখিচুড়ি ঐক্যের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। ১০ বছরে যারা ১০ মিনিট রাস্তায় দাঁড়াতে পারে না, এখন এক মাসে কি কান্দে (কাঁধে) উঠবে? এটা হাস্যকর। তিনি আরও বলেন, কাকে নিয়ে আন্দোলন করবেন? জনগণকে নিয়ে, জনগণ কেন আসবে? জনগণ আসার মতো কোনো অবজেক্টিভ কন্ডিশন বাংলাদেশের নেই। রোজার ঈদ চলে গেল, তারপর কোরবানি ঈদ, এখন তো আর ঈদ নেই। আরেক ঈদ আসবে ২০১৯ সালে, তখন আন্দোলনের চিন্তা ভাবনা করতে পারেন। তার আগে আর আন্দোলনের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। মরা গাঙে জোয়ার আসে না। ১০ বছরে পারেন নাই, আর এক মাসে আন্দোলন। সড়ক পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে চলমান পরিবহন ধর্মঘটন উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, তিন বছর আমরা সময় নিয়েছি, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে আইনটি আমরা পাস করেছি।

এখন আবার ধর্মঘট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারা বসছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমি বলেছি, এটা সদ্য প্রণীত একটি আইন; যদি বিধি প্রণয়ন করা যায়, বিধি প্রণয়ন করে তাদের জন্য কোনো সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে আমরা করব। ধর্মঘট প্রত্যাহার করুক, তারপর আইনে তাদের জন্য কোনো বিধিবিধান করা যায় কিনা দেখব। আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, উপ-কমিটির সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ।