অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
১৯৭৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের কথা। ১৪ জন ক্রুসহ ১৩৭ জন যাত্রী নিয়ে মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে আকাশে ডানা মেলল জাপান এয়ারলাইন্স বা জালের ফ্লাইট ৪৭২ এর ডিসি ৮ বিমানটি।
ঠিক ১২ মিনিটের মাথায় ছিনতাই হয় বিমানটি। এ বিমান ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে আছে বাংলাদেশ ও এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা।
কেননা ছিনতাইকারীরা এ ফ্লাইটটি মুম্বাই থেকে উড়িয়ে সোজা তৎকালীন ঢাকা তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রায় দেড় সপ্তাহের শ্বাসরুদ্ধকর এক নাটকীয়তার পর ঢাকায় নিয়ে আসা এ জাপানি বিমান ছিনতাই এর ঘটনার অবসান হয়েছিল ৫ অক্টোবর।
ছিনতাইকারীদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সকল জিম্মিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।
সে ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন জাপানের তৎকালীন পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই তার বইয়ে।
সম্প্রতি বইটি বাংলায় অনুদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। বইটির নাম: ‘ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাই ১৯৭৭: জাপানি মন্ত্রীর স্মৃতিকথা।’
ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাই ১৯৭৭: জাপানি মন্ত্রীর স্মৃতিকথা
বইতে প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই লিখেছেন, যাত্রীবাহী ওই বিমানটি প্যারিস থেকে ভারতের মুম্বাই হয়ে ব্যাংকক যাচ্ছিল।
বিমানটি কীভাবে ঢাকায় অবতরণ করানো হয় সে প্রসঙ্গে উদ্ধারকৃত এক যাত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করের তিনি, ছিনতাইকারীরা ফ্লাইট ম্যাপ দেখতে দেখতে নির্দেশ দিতে থাকে কত উচ্চতায় কোন রুট দিয়ে যেতে হবে।
বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে তাদের ভুল ধারণা দেওয়া ছিল একেবারেই অসম্ভব।
সন্ত্রাসীরা ম্যাপে লাল কালি দিয়ে ঢাকা বিমানবন্দর পর্যন্ত পথ দেখিয়ে বলল, এই রুট দিয়ে যেতে হবে।
তখন পাইলট ঢাকা বিমানবন্দর সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা নেই জানালে ছিনতাইকারীরা ঢাকা শহরের ম্যাপ বের করে দেখায়।
তারাই বলে দেয় ঢাকার বিমানবন্দরের (পুরাতন) রানওয়ে দক্ষিণ থেকে উত্তরে বিস্তৃত এবং দৈর্ঘ্যে ৯ হাজার ফুট।
২৮শে সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিমানটি ঢাকার আকাশে পৌঁছায়।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অবতরণের অনুমতি না পাওয়ায় বিমানটি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আকাশে চক্কর দেয়।
তারপর সাড়ে এগারোটার দিকে নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের আদেশ উপেক্ষা করে বিমানটি রানওয়েতে নেমে আসে।
সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার বিমানবন্দর বন্ধ করে দেয় এবং কয়েকশত পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সেনা মোতায়েন করে।
ছিনতাইকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য
সবার আগে যে প্রশ্ন আসে, কারা বা কোন সংগঠন আর কেন এ বিমান ছিনতাই করেছিল?
জাপানের উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী জাপানিজ রেড আর্মির জঙ্গিরা বিমানটি অপহরণ করেছিল বলে বইতে উল্লেখ করেছেন হাজিমে ইশিই।
উগ্রপন্থিদের দাবি ছিল, জাপানে কারারুদ্ধ রেড আর্মির সদস্যসহ ৯ জন ব্যক্তির মুক্তি এবং ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
ছিনতাইয়ের দায় স্বীকার রেড আর্মির পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল।
ঢাকায় বিমানটি অবতরণ করার পরপরই রেড আর্মির প্রচারিত বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয় যে তাদের ঢাকা-কমান্ডো গ্রুপ বিমানটিকে ছিনতাই করেছে।
এই বিবৃতিতে ৮০ হাজার পাউন্ডের পেট্রল সরবরাহের দাবি জানায় তারা।
বিবৃতির পরদিনই জাপান সরকার ঘোষণা করে, রেড আর্মির ৯জন কারাবন্দীকে মুক্তি ও মুক্তিপণ দিতে জাপান সরকার রাজি হয়েছে।
এ কথা জানার পরপর ছিনতাইকারীরা ১৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হাতে টাকা ও বন্দিদের তুলে দিতে দাবি করে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তখন বাংলাদেশে উত্তেজনাকর এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ছিনতাইকারীদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্বে পান বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ।
সেদিন দুপুরে পাঁচজন জিম্মিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, বাংলাদেশ সরকারের নীতি ছিল রক্তপাত এড়িয়ে নিজেদের হাতে জিম্মিদের অক্ষত উদ্ধার করা।
কেননা জাপান সরকার গোপনে বাংলাদেশকে জাপান থেকে সন্ত্রাস দমনের জন্যে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল যা বাংলাদেশ সরকার প্রত্যাখ্যান করে।
১ অক্টোবর সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে জাপানের সরকারি প্রতিনিধি দল।
প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই মুক্তির দাবিকৃত ৬জন কয়েদিকে নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিল তিনটি বস্তা ভর্তি মোট ৬০ লাখ ডলার।
জাপানি প্রতিনিধি দলের বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করলে বাংলাদেশ সেনা সদস্যরা এই বিমানটিকে ঘিরে ফেলে।
কোনো মতেই যেন বিমানে সংরক্ষিত টাকা ও সাবেক কয়েদিরা যেন ছিনতাইকারীদের কাছে না পৌঁছায় সে দিকে সর্তক অবস্থান নিয়েছিল বাংলাদেশে সেনাবাহিনী।
জঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে হাজিমে ইশিই বইতে লিখেছেন, জাপানিজ রেড আর্মির জঙ্গীদের সঙ্গে মি. মাহমুদ নিজের ইচ্ছেমতো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। জাপান সরকারের পরামর্শ তিনি আদৌ শুনতে চাননি।
২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গত তিনদিন নির্ঘুম জঙ্গিদের সঙ্গে বেতার যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ।
জঙ্গীরা ৫২ জন জিম্মিকে ছেড়ে দেয়ার কথা বলে। কিন্তু মি. মাহমুদ একের পর এক অনুরোধে জঙ্গিরা ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে মোট ৮২ জনকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়।
হাজিমে ইশিই মি. মাহমুদকে জানান যে, তিনি যেভাবে ব্যাপারটাকে এগিয়ে নিতে চাইছেন, সেটা জাপানের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মি. মাহমুদ চাইছিলেন কিছু যাত্রীর এখানেই মুক্তি দেওয়া হোক। আর বাকিদের অন্য জায়গা নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিলেও চলবে। কিন্তু জাপান সরকার চাইছিল সবাইকে ঢাকাতেই মুক্ত করতে।
এক সময় তাদের দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়।
ইতোমধ্যে জাপান সরকার মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২১টি দেশ এবং যাত্রীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি গ্রহণের অনুরোধ করে।
কিন্তু কোনো দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় হতাশায় ডুবে যান জাপান সরকার।
এ সময় অনন্যোপায় হয়ে হাজিমে ইশিই নিজেই জিম্মি হয়ে সব আরোহীদের মুক্তি চান। জঙ্গীরা তার এ আবেদনে রাজি হয়নি।
উল্টো বিমানটি রানওয়ের মাঝামাঝি জায়গায় চলে যায়। তখন বিমানটিকে বাধা দেওয়া হলে ককপিটের জানালা খুলে একজন জঙ্গি পিস্তল বের করে চারটি গুলি ছোড়ে। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দু’জন সৈন্য আহত হন।
তৎকালীন জাপানের পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাজিমে ইশিই
বন্দী বিনিময়
পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ছিনতাইকারীদের সাথে আবার আলোচনা শুরু হলে তারা বিমানটির মুখ ঘুরিয়ে আগের স্থানে চলে আসে। শুরু হয় জিম্মি হওয়া যাত্রীদের মুক্তির প্রক্রিয়া।
ওই রাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকেও ফুকুদার টেলিফোনে কথা বলেন তৎকালীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে।
১ অক্টোবর রাত ১০টা হতে একজন কয়েদি ও ২০ লাখ ডলারের বিনিময়ে ১০ জন নারী যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
কয়েদি ও অর্থ ছিনতাই হওয়া বিমান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে এবং জঙ্গিদের হাতে তুলে দেয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের ওপর বর্তায়।
ছিনতাইকারীরা টাকা গুণে এবং জাপানি কয়েদিদের বুঝে নিয়ে কয়েক দফায় ৬১ জন যাত্রীকে মুক্তি দেয় জঙ্গীরা।
কিন্তু তখনও বিমানে থেকে গিয়েছিল ৭১ জন যাত্রী ও ৯ জন ক্রু।
ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান
এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে সে সময় ঘটে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঘটনা।
হাজিমে ইশিই তার বইতে লিখেছেন, পরদিন ভোর পাঁচটার দিকে তিনি বাজুকা কামান ও মেশিনগানের শব্দ শুনতে থাকেন।
কিন্তু তখনও তিনি বুঝতে পারেন নি যে কী হচ্ছিল। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন যে ঢাকা বিমানবন্দর সে সময় প্রায় বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু মি. মাহমুদ তাকে কিছুই বুঝতে দেননি।
হাজিমে ইশিই লিখেছেন, এই ব্যর্থ অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল স্থল ও বিমানবাহিনীর প্রায় ১০০ জন সেপাই।
এতে বিমানবাহিনীর একজন অফিসারসহ ২১ জন অফিসার ও সেনা নিহত হন।
বিদ্রোহী সেনা মিলে মোট ২০০ জনের বেশি এই ঘটনায় প্রাণ হারান বলে জানা গেছে।
অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা দমন করার পর বিমান ছিনতাইকারী জঙ্গিদের সাথে আবারও আলাপ আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে জঙ্গীদের কথাবার্তা অনেকটাই নরম হয়ে আসে।
২রা অক্টোবর সকালে হাজিমে ইশিই জাপানি প্রধানমন্ত্রী ফুকুদার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য বল হয় তাকে।
নির্দেশ মোতাবেক তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সাথে দেখা করতে তার বাসভবনে যান হাজিমে ইশিই।
সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মি. সাত্তার তাকে আশ্বস্ত করেন।
হাজিমে ইশিই আবার বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ফিরে আসেন।
দুপুরের দিকে জঙ্গীদের সঙ্গে আবার শুরু হয় নতুন আলোচনা। এক পর্যায়ে বিকাল সোয়া পাঁচটায় তারা আরও ৪২ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রুকে ছেড়ে দেয় তারা।
ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ঘটনার পর বদলে যেতে থাকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি।
ওই দিন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সামরিক আইন শাসক হিসেবে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেন।
কন্ট্রোল টাওয়ারে ফোন করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি আদেশ দেন বিমানটিকে অনতিবিলম্বে ঢাকা ত্যাগ করতে দেওয়ার জন্য।
বিমানটিকে আটকে রাখার জন্যে দাঁড় করিয়ে রাখা দমকল বাহিনীর গাড়িগুলো সরে যেতে শুরু করে।
এ ঘটনায় হাজিমে ইশিই খুব ভেঙে পড়েন। কেননা এখনও যে বিমানে ২৯ জন আরোহী রয়ে গেছেন।
বিমানটি আকাশে উড়ে যায়। মিশন সফল হয়েছে বলে বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানায় ছিনতাইকারীরা।
৩রা অক্টোবর সকালে বিমানটি গিয়ে পৌঁছায় কুয়েতে। সেখানে রাত ১টা ৪৩ মিনিটের দিকে ৬০ হাজার পাউন্ডের তেল নেওয়ার পর বিমানটি ২৯ জন আরোহী ও জঙ্গিদের নিয়ে বিমানটি দামেস্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে আরও ১০ জনকে ছেড়ে দেয় তারা। তখনও থেকে যায় ১৯ জন।
সেদিনই স্থানীয় সময় বিকেল চারটার পর বিমানটি আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠে আল বাইদা শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয় বাকি জিম্মিদের।
জাপানিজ রেড আর্মি টেরোরিস্ট
বিমান ছিনতাইকারী এ জঙ্গী গ্রুপটির ব্যাপারে লিখেছেন হাজিমে ইশিই।
১৯৭০ এর দশকে জাপানে খুবই সক্রিয় ছিল জাপানিজ রেড আর্মি জঙ্গি গ্রুপটি।
জাপানে বিপ্লব ঘটিয়ে জাপানসহ সারা বিশ্বে কমিউনিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছিল তাদের লক্ষ্য।
জাপানের বাইরেও তাদের কার্যক্রম বিস্তৃত ছিল। তাদের সঙ্গে যোগায়োগ ছিল আর্ন্তজাতিক আরও কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর।
এদেরকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৭২ সালে তেল আবিবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা চালায় রেড আর্মি। এ হামলায় ২০ জনেরও বেশি নিহত হয়।
১৯৭৫ সালে কুয়ালালামপুরে মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণ চালিয়ে অর্ধশত ব্যক্তিকে চারদিন ধরে জিম্মি করে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিল জাপানিজ রেড আর্মি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























