ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভোটার তালিকা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ: ইসি সচিব রাতের আঁধারে অসুস্থ স্বামীকে রাস্তায় ফেলে গেলেন স্ত্রী সাজাপ্রাপ্ত আসামির মন্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় সরকারের নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের সব মানুষের অর্জন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন স্থগিত খুনোখুনি পছন্দ না আমার, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই: ট্রাম্প চট্টগ্রামে অভিমানী স্ট্যাটাস দিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তরুণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না: ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের আহ্বান অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সবুজ শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খালেদা-তারেককে মাইনাস করতে মাঠে নেমেছেন বিএনপির ভাড়াটে নেতারা’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও বর্ণচোরা রাজনৈতিক নেতারা গণতন্ত্রের নামে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১৪ দল সমাবেশ করবে বলে জানান এ মুখপাত্র।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচিত্র এ দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের লালনপালনকারী, বঙ্গবন্ধু খুনিদের সুযোগ-সুবিধাদানকারী, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করেন যারা এবং বর্ণচোরা ১/১১ সরকারের কুশীলবরা একই মঞ্চে বসে নাটক করলেন।

তিনি বলেন, তারা একই মঞ্চে বসে গণতন্ত্রের নামে নতুন করে একটি ঘোষণা দিয়েছে। এ গণতন্ত্রের কথা বলেই এক-এগারো সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১-১১ কুশীলবরা এ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মানুষ চিনে এবং জানে। তারা এক-এগারো সৃষ্টি করে মূলত শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা দেশের জনগণের কাছে পরাস্ত হয়েছিল।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১-১১ সরকারের আগেও এ রকম নাগরিক সমাবেশ, বুদ্ধিজীবী সমাবেশের নামে এ ধরনের নাটক করা হয়েছিল। ওই সময় একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ইঙ্গিতে করা হয়েছিল। আবারো সেই চক্রান্তের অশুভ ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, কেউ নির্বাচন করতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই, জোট, মহাজোট করে নির্বাচন করেন কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে কোনো চক্রান্ত ও ফন্দি করবেন না। এটা আমরা সহ্য করব না।

জাতীয় ঐক্যের নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা দুর্নীতিবাজ, দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে কেন নেমেছেন তা আমরা বুঝতে পারছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রায় হবে। তখন আপনারা তড়িঘড়ি বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জনগণকে অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। তা কখনোই হবে না।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নিজেরা এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছে যে, এখন অন্য নেতৃত্বকে ভাড়া করতে হচ্ছে। বিএনপিকে এখন জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করতে হচ্ছে এটা বড়ই দুর্ভাগ্য। এমনকি তারা এখন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে, অন্য নেতাদের ভাড়া করে এনে তারা নিজেদের দুই নেতাকে মাইনাস করার মাঠে নেমেছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ বই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো প্ররোচনায় তিনি যে জুডিশিয়াল ক্যু করতে চেয়েছিলেন, সেটা পারেননি বলে ওনার হার্টটাই এখন ব্রোকেন হয়ে গেছে, তাই তিনি এ বইটা লিখেছেন। উনি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা ছেড়েছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুডিশিয়াল ক্যু ষড়যন্ত্রের মঞ্চে যারা ছিলেন, তারা আজকে ডুবন্ত বিএনপিকে উদ্ধার করার জন্য মাঠে নেমেছেন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং খুনের হাওয়া ভবন তৈরি করার জন্য।

ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যিনি আইনের কথা এবং আইনের শাসনের কথা বলেন। তিনি আজকে চান আবার দুর্নীতিবাজ, ২১ আগস্টের হত্যাকারীদের সহায়তাকারীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে।

নাসিম বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে তারা নির্বাচনকে শুধু বিলম্বিতই করতে চায় না, নির্বাচনকে ধ্বংস ও নস্যাৎ করতে চায়। কিন্তু আমরা বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে, এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।

১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতে আমরা থাকব। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে জোটের আহ্বায়ক বলেন, আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের কে কত আসন পাবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম মিয়া, গণআজাদী লীগের এস কে সিকদার প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটার তালিকা পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ: ইসি সচিব

খালেদা-তারেককে মাইনাস করতে মাঠে নেমেছেন বিএনপির ভাড়াটে নেতারা’

আপডেট সময় ১০:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী ও বর্ণচোরা রাজনৈতিক নেতারা গণতন্ত্রের নামে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে ১৪ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১৪ দল সমাবেশ করবে বলে জানান এ মুখপাত্র।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর মহানগর নাট্যমঞ্চে একটি নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিচিত্র এ দেশ স্বাধীনতাবিরোধীদের লালনপালনকারী, বঙ্গবন্ধু খুনিদের সুযোগ-সুবিধাদানকারী, মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করেন যারা এবং বর্ণচোরা ১/১১ সরকারের কুশীলবরা একই মঞ্চে বসে নাটক করলেন।

তিনি বলেন, তারা একই মঞ্চে বসে গণতন্ত্রের নামে নতুন করে একটি ঘোষণা দিয়েছে। এ গণতন্ত্রের কথা বলেই এক-এগারো সৃষ্টি করা হয়েছিল। ১-১১ কুশীলবরা এ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মানুষ চিনে এবং জানে। তারা এক-এগারো সৃষ্টি করে মূলত শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা দেশের জনগণের কাছে পরাস্ত হয়েছিল।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১-১১ সরকারের আগেও এ রকম নাগরিক সমাবেশ, বুদ্ধিজীবী সমাবেশের নামে এ ধরনের নাটক করা হয়েছিল। ওই সময় একজন বিখ্যাত ব্যক্তির ইঙ্গিতে করা হয়েছিল। আবারো সেই চক্রান্তের অশুভ ইঙ্গিত আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, কেউ নির্বাচন করতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই, জোট, মহাজোট করে নির্বাচন করেন কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে নতুন করে কোনো চক্রান্ত ও ফন্দি করবেন না। এটা আমরা সহ্য করব না।

জাতীয় ঐক্যের নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা দুর্নীতিবাজ, দণ্ডিত ব্যক্তির পক্ষে কেন নেমেছেন তা আমরা বুঝতে পারছি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের রায় হবে। তখন আপনারা তড়িঘড়ি বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জনগণকে অন্যদিকে নিয়ে যাবেন। তা কখনোই হবে না।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নিজেরা এমন নেতৃত্ব সৃষ্টি করেছে যে, এখন অন্য নেতৃত্বকে ভাড়া করতে হচ্ছে। বিএনপিকে এখন জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ভাড়া করতে হচ্ছে এটা বড়ই দুর্ভাগ্য। এমনকি তারা এখন খালেদা জিয়াকে মাইনাস করার জন্য মাঠে নেমেছে, অন্য নেতাদের ভাড়া করে এনে তারা নিজেদের দুই নেতাকে মাইনাস করার মাঠে নেমেছে।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ বই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো প্ররোচনায় তিনি যে জুডিশিয়াল ক্যু করতে চেয়েছিলেন, সেটা পারেননি বলে ওনার হার্টটাই এখন ব্রোকেন হয়ে গেছে, তাই তিনি এ বইটা লিখেছেন। উনি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে ঢাকা ছেড়েছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জুডিশিয়াল ক্যু ষড়যন্ত্রের মঞ্চে যারা ছিলেন, তারা আজকে ডুবন্ত বিএনপিকে উদ্ধার করার জন্য মাঠে নেমেছেন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং খুনের হাওয়া ভবন তৈরি করার জন্য।

ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যিনি আইনের কথা এবং আইনের শাসনের কথা বলেন। তিনি আজকে চান আবার দুর্নীতিবাজ, ২১ আগস্টের হত্যাকারীদের সহায়তাকারীদের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করতে।

নাসিম বলেন, নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করে তারা নির্বাচনকে শুধু বিলম্বিতই করতে চায় না, নির্বাচনকে ধ্বংস ও নস্যাৎ করতে চায়। কিন্তু আমরা বলতে চাই, যে কোনো মূল্যে সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে, এর কোনো ব্যত্যয় হবে না।

১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিতে আমরা থাকব। কোনো ছাড় দেয়া হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে জোটের আহ্বায়ক বলেন, আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের কে কত আসন পাবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।

জোটের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জাসদের একাংশের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলাম মিয়া, গণআজাদী লীগের এস কে সিকদার প্রমুখ।