অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন এবং মোংলা বন্দর ও কাস্টম হাউসের আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘মোংলা বন্দর ও কাস্টম হাউস এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন: আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়ায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোংলা বন্দর দিয়ে গাড়ি আমদানিতে ঘুষ দিতে হয় ব্যবসায়ীদের। সব নথিপত্র ঠিকঠাক থাকার পরেও গাড়ির শুল্কায়নে মোংলা কাস্টমস হাউসে ঘুষ দিতে হয়।
টিআইবির গবেষণা বলছে, কেবল গাড়ি নয়; দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মোংলা দিয়ে যে কোনো পণ্য আমদানি-রফতানিতে ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ টাকা দিতে হয়। আমদানি পণ্যের প্রতি চালানের (বিল অব এন্ট্রি) বিপরীতে শুল্কায়নের জন্য কাস্টমস হাউসকে ৩৫ হাজার ৭০০ টাকা ঘুষ দিতে হয়। সেই পণ্য বিকাল পাঁচটার মধ্যে ছাড় করতে হলে ৬ হাজার টাকা এবং এর পরে ছাড় করতে হলে আরও ১ হাজার ২০০ টাকা ঘুষ দিতে হয় ব্যবসায়ীদের।
এ ছাড়া বন্দরে প্রতিটি জাহাজ আগমন ও বহির্গমনে কাস্টমস হাউসে ৮ হাজার ৩৫০ টাকা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ২১ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয় বলেও টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ সালে মোংলা কাস্টম হাউস ১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ আদায় করেছে।
এই সময়ে আমদানি করা গাড়ির শুল্কায়নের ক্ষেত্রে কাস্টম হাউসে প্রতি গাড়ি ৪ হাজার টাকা এবং গাড়ি ছাড়ের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দরে এক হাজার ৭১৫ টাকা ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ ব্যবসায়ীদের দিতে হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোংলা কাস্টম হাউসে জাহাজ আগমন-বহির্গমনের সময় ৮ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেয়া হয়। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ নেয় ২১ হাজার টাকা। এছাড়া পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে বন্দরে বিকাল পাঁচটার আগে ৬ হাজার এবং পরে ৭ হাজার ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
বুড়িমারী স্থল বন্দরের শুল্ক স্টেশন ওই সময় আমদানি ও রফতানির জন্য বিল অব এন্ট্রিতে দুই কোটি ৮৫ লাখ টাকা ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ আদায় করা হয়েছে এবং স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ ৪৮ লাখ টাকা নিয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য আমদানি-রফতানির সময় ব্যবহৃত ট্রাক থেকে বুড়িমারীর মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন চাঁদা নিয়েছে ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুটি বন্দরেই দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সিন্ডিকেটের কারণে সেবাগ্রহীতারা দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। এসব দুর্নীতি নিয়ে কর্তৃপক্ষও অবগত। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কারণ তারাও সুবিধা পায়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 






















