ঢাকা ০৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণকে দেওয়া হবে: তারেক রহমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না অভিনেত্রী চমক ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, সুনামি সতর্কতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: ইরান গুমের বিরুদ্ধে শক্ত আইন চায় জনগণ : রিজভী শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে হামের টিকার বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শুল্ক এড়াতে বিদেশে উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীনা কোম্পানি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। কয়েক দফায় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও শুল্কারোপ করে।

মার্কিন শুল্ক নিয়ে বেইজিংয়ের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। তাই ‘মেড ইন চায়না’ লেবেল এড়াতে ভিয়েতনাম, সার্বিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে দেশটির উদীয়মান কোম্পানিগুলো। খবর এএফপির।
টয় কোম্পানি হাসব্রো, ক্যামেরা প্রস্তুতকারক অলিম্পাস, সু ব্র্যান্ড ডেকার ও স্টিভ ম্যাডেনের মতো কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে দেশের বাইরে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত মাসে এক বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন, বর্তমানে আমাদের সব কোম্পানি চীনে উৎপাদন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে ভিয়েতনামে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা শুল্ক এড়াতে দেশ ছেড়ে অন্যত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে।

অনেকে ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম, সার্বিয়া ও মেক্সিকোতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। গত ৬ জুলাই ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে। চীনও সমমূল্যের পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করে।

দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র আরও ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করেছে। এখানেই থামেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন করে আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্কারোপের জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। চীনও জানিয়েছে তারা পাল্টা পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত আধিপত্য কেড়ে নিতে চায় চীন, এমন অভিযোগ করে দেশটির ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রযুক্তি চুরিরও অভিযোগ করা হচ্ছে।

এর আওতায় চীনা রফতানি পণ্যে ধারাবাহিকভাবে শুল্কারোপ করে দেশটি। এর ধারাবাহিকতায় চীনের আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে শুল্কারোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপের চিন্তা-ভাবনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের পরিকল্পনায় চীনের অন্তত ৪০ শতাংশ পণ্য রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। দেশটিতে চলমান একটি জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ শুল্কারোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্কারোপ করলে সে ক্ষেত্রে চীন আরও অন্তত ছয় হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্কারোপ করবে বলে পরিকল্পনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের খবর বাণিজ্যযুদ্ধকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ

শুল্ক এড়াতে বিদেশে উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীনা কোম্পানি

আপডেট সময় ০১:৪৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। কয়েক দফায় পাঁচ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও শুল্কারোপ করে।

মার্কিন শুল্ক নিয়ে বেইজিংয়ের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। তাই ‘মেড ইন চায়না’ লেবেল এড়াতে ভিয়েতনাম, সার্বিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের দিকে ঝুঁকছে দেশটির উদীয়মান কোম্পানিগুলো। খবর এএফপির।
টয় কোম্পানি হাসব্রো, ক্যামেরা প্রস্তুতকারক অলিম্পাস, সু ব্র্যান্ড ডেকার ও স্টিভ ম্যাডেনের মতো কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে দেশের বাইরে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত মাসে এক বিনিয়োগকারী জানিয়েছেন, বর্তমানে আমাদের সব কোম্পানি চীনে উৎপাদন করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এড়াতে ভিয়েতনামে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাপ্লাই চেইন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার রজার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা শুল্ক এড়াতে দেশ ছেড়ে অন্যত্র উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে।

অনেকে ইতিমধ্যে ভিয়েতনাম, সার্বিয়া ও মেক্সিকোতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। গত ৬ জুলাই ৩৪ বিলিয়ন ডলারের চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে। চীনও সমমূল্যের পণ্যে পাল্টা শুল্কারোপ করে।

দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র আরও ১৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানিতে শুল্কারোপ করেছে। এখানেই থামেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নতুন করে আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্কারোপের জন্য প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। চীনও জানিয়েছে তারা পাল্টা পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত আধিপত্য কেড়ে নিতে চায় চীন, এমন অভিযোগ করে দেশটির ওপর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ ছাড়া বুদ্ধিবৃত্তিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ নানা প্রযুক্তি চুরিরও অভিযোগ করা হচ্ছে।

এর আওতায় চীনা রফতানি পণ্যে ধারাবাহিকভাবে শুল্কারোপ করে দেশটি। এর ধারাবাহিকতায় চীনের আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের রফতানি পণ্যে শুল্কারোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ হারে শুল্কারোপের চিন্তা-ভাবনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের পরিকল্পনায় চীনের অন্তত ৪০ শতাংশ পণ্য রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়ে থাকে। দেশটিতে চলমান একটি জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ শুল্কারোপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্কারোপ করলে সে ক্ষেত্রে চীন আরও অন্তত ছয় হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে শুল্কারোপ করবে বলে পরিকল্পনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের খবর বাণিজ্যযুদ্ধকে উসকে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।