অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
রাজধানীর তুরাগে ঈদুল আজহার পর বিচ্ছিন্নভাবে ফেলে রাখা কোরবানির পশুর বর্জ্য স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, কোনো রকম নিয়মনীতি ছাড়াই অপরিকল্পিত ও বিচ্ছিন্নভাবে কোরবানির পশু জবাই করা হয়েছে।
রাস্তার পাশে ও জনবহুল জায়গায় পশু জবাই করার পর বর্জ্য পরিষ্কার না করায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এ দুর্গন্ধ থেকে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু বাতাসে মিশে জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
তুরাগের কামারপাড়া, রানাভোলা, ধউর, ধলিপাড়া, নয়ানগর, কালিবাজার, আহ্লিয়া হাবিব মার্কেট, ষোলাহার্টি, বাদালদীসহ বিভিন্ন জায়গায় আবদুল্লাহ্পুর টু আশুলিয়া সড়ক ও রাস্তার পাশে পশুর বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
কামারপাড়ার বাসিন্দা মো. অপু জানান, প্রতি বছরই দেখে আসছি তুরাগ এলাকায় ঈদের পশু জবাইয়ের পর থেকে এক মাস পর্যন্ত চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা বর্জ্য পরিষ্কার করার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যার কারণে এলাকায় অনেক রোগ দেখা দেয়। এ নিয়ে এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বলা হলেও কোনো কাজ হয় না।
সাধারণ মানুষ বলছে, এসব পরিষ্কার করার কেউ নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বর্জ্য পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকলেও ঈদে লোকবলের সঙ্কটের কারণে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, কোনো সময়ই স্থানীয় সরকারের লোকজন এগুলো পরিষ্কার করে না। বিশেষ করে পৌর এলাকার বাইরে কোরবানি পশুর মাঠ নিয়ন্ত্রণে কোনো নীতিমালাও নেই। এ ছাড়া পৌর এলাকায় একটি করে সরকারি পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারিত থাকলেও রাজধানীর তুরাগ এলাকায় পশু জবাই করার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই।
এসবের সঙ্গে প্রত্যকটি পশু জবাইয়ের আগে ডাক্তারি সনদ নেয়ার সরকারি বিধান বাধ্যতামূলক থাকলেও এ আইনের কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে বেশি সংখ্যক পশু জবাই হওয়ায় এ সময়ই রোগ জীবাণু সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।
এসব কারণে বাতাসে রোগ জীবাণু ছড়িয়ে ঈদুল আজহার সময় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে। এসব রোগের মধ্যে ডায়রিয়া, আমাশয় অন্যতম।
এ বিষয়ে টঙ্গী আহসান উল্লাহ্ মাস্টার ২৫০ শয্যা সরকারির জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পারভেজ আহম্মেদ যুগান্তরকে জানান, ঈদুল ফিতরের সময় রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। কোরবানির পশুর মাংস অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ও পরিত্যক্ত বর্জ্য পরিষ্কার না করায় রোগ জীবাণু ঈদুল আজহার সময় রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে দেয়। এ পর্যন্ত তুরাগ এলাকা থেকে ডায়রিয়া, আমাশয় রোগীর সংখ্যাই বেশি। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে তুরাগ হরিরামপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. দেলোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, তুরাগ এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো মাঠ নেই। বিশেষ করে পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করার জন্য তুরাগ ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা করা হয়নি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























