ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নড়াইলে ‘এস এম সুলতান প্রাণ আপ নৌকাবাইচ’

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘এস এম সুলতান প্রাণ আপ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতু এলাকা থেকে এসএম সুলতান সেতু পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ জুড়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন আয়োজনে এবং প্রাণআপের সহযোগিতায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু প্রমুখ। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দ-উৎসব।

বৈঠারটান, ঢাক-ঢোলের শব্দ ও কাঁসা-পিতলের ঝংকারে চিরচেনা চিত্রার রূপ যেন হঠাৎ বদলে যায়। মাঝিমাল্লাদের ‘হেইয়্যা’ ‘হেইয়্যা’…হর্ষধ্বনির আওয়াজ ছিল আরো বেশি ছন্দময়। নৌকাবাইচে নারীদের চারটি এবং পুরুষদের ১৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

শনিবার বিকেলে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ শুরু হলেও সকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার মানুষ নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন। বিকেলে নৌকাবাইচ শুরুর আগেই চিত্রা নদীর দুইপাড়, বাসাবাড়ি ও রূপগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদসহ গাছে গাছে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নদীতে নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোটে করে বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ উপভোগ করেন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এর আগে চিত্রা নদীতে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ উপলক্ষে চিত্রা নদীর পাড়ে, বাঁধাঘাটে এবং বিভিন্ন স্থানে মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করতে পেরে খুশি আয়োজকরা।

পুলিশ সুুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন করা লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থ্ াজোরদার করা হয়।

এদিকে, নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে চারদিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ শনিবার শেষ হয়েছে। উৎসবে চিত্রপ্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, রেইনবো পেইন্টস ও রানার অটোর সহযোগিতায় সুলতান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নড়াইলে ‘এস এম সুলতান প্রাণ আপ নৌকাবাইচ’

আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ৯৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘এস এম সুলতান প্রাণ আপ নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বিকেলে চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতু এলাকা থেকে এসএম সুলতান সেতু পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার অংশ জুড়ে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা প্রশাসন ও এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন আয়োজনে এবং প্রাণআপের সহযোগিতায় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকু প্রমুখ। নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে চিত্রা নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দ-উৎসব।

বৈঠারটান, ঢাক-ঢোলের শব্দ ও কাঁসা-পিতলের ঝংকারে চিরচেনা চিত্রার রূপ যেন হঠাৎ বদলে যায়। মাঝিমাল্লাদের ‘হেইয়্যা’ ‘হেইয়্যা’…হর্ষধ্বনির আওয়াজ ছিল আরো বেশি ছন্দময়। নৌকাবাইচে নারীদের চারটি এবং পুরুষদের ১৮টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া হয়।

শনিবার বিকেলে নড়াইলের চিত্রা নদীতে নৌকাবাইচ শুরু হলেও সকাল থেকেই বিভিন্ন পেশার মানুষ নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন। বিকেলে নৌকাবাইচ শুরুর আগেই চিত্রা নদীর দুইপাড়, বাসাবাড়ি ও রূপগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ছাদসহ গাছে গাছে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। নদীতে নৌকা, ট্রলার, স্পিডবোটে করে বিভিন্ন বয়সের হাজারো মানুষ উপভোগ করেন নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এর আগে চিত্রা নদীতে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বাইচ উপলক্ষে চিত্রা নদীর পাড়ে, বাঁধাঘাটে এবং বিভিন্ন স্থানে মিষ্টিসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসেছিল। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে প্রতিযোগিতা শেষ করতে পেরে খুশি আয়োজকরা।

পুলিশ সুুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা গেছে। সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে নৌকাবাইচ সম্পন্ন করা লক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থ্ াজোরদার করা হয়।

এদিকে, নড়াইলের সুলতান মঞ্চ চত্বরে চারদিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’ শনিবার শেষ হয়েছে। উৎসবে চিত্রপ্রদর্শনী, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংস, রেইনবো পেইন্টস ও রানার অটোর সহযোগিতায় সুলতান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ অবস্থায় ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর নড়াইলে তাকে শায়িত করা হয়। চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে ১৯৮২ সালে ‘একুশে পদক’, ১৯৮৪ সালে ‘রেসিডেন্ট আর্টিস্ট’ ১৯৮৬ সালে ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা’ এবং ১৯৯৩ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ পেয়েছেন। এছাড়াও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার লাভ করেন।