ঢাকা ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে নাসীরুদ্দীনের ক্রমাগত মিথ্যাচার ভাইরাল হওয়ার কৌশল: মাহদী আমিন আমাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল, বের হয়েছি ইসলামের কল্যাণে: রেজাউল করীম ‘যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে, তারা বেঈমান’:আজহারুল ইসলাম ১২ ফেব্রুয়ারি রাজনীতির চেহারা পাল্টে দিতে পারে: রুমিন ফারহানা তারেক রহমানের ওপর বিশ্বাসে করে দেখেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ঠকবে না: পার্থ নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে–বিপক্ষে যাবেন না: ইসি আনোয়ারুল রাষ্ট্র পরিচালানার জন্য অভিজ্ঞতার দরকার আছে: নজরুল ইসলাম একটি দল ‘স্বৈরাচারী ভাষায়’ বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে: তারেক রহমান নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে: আইজিপি

ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আবারও বৈঠকে বসছেন শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের অভাবে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে দেরি হচ্ছে। তবে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচনে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এরপর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

গত ১১ এবং ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হয় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনের প্রথম দিন দেয়া ভাষণে সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা ভোটাভুটির বদলে সমঝোতায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দেশ দেন।

এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আবেদন করে মোট ৩২৩ জন। কাউন্সিল অধিবেশনে তাদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পেরে নেতৃত্ব নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি। কিন্তু সেখান থেকে কাউকে বাছাই করা হয়নি এখনও।

এর মধ্যে গত ৪ জুলাই রাতে পদপ্রত্যাশী সবাইকে গণভবনে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ওই রাতে কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

সেদিন সন্ধ্যা আটটা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা গণভবনে অবস্থান করেন। সেখানে শেখ হাসিনা যেমন কথা বলেন, তেমনি আড়াইশর মতো পদপ্রত্যাশী বক্তব্য রাখেন।

এ সময় শেখ হাসিনা জিজ্ঞেস করেন নেতা হিসাবে তাদের কোনো পছন্দের নাম আছে কি না। থাকলে নাম প্রস্তাব করতে বলেন।

তখন ছাত্রলীগ নেতা সমস্বরে বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে জানান। জবাবে শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘আমি যে সিদ্ধান্ত দেব তোমরা মেনে নেবে?’ জবাবে সবাই উচ্চস্বরে জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

কিন্তু এর পরেও কেটে গেছে ২০ দিন। সিদ্ধান্ত জানাননি শেখ হাসিনা। আর বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে।

বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা কবে, সে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ব্যস্ততার কারণে তিনি সময় দিতে পারছেন না বলে দেরি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা আবেদন করেছে তাদের বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। নতুন কমিটি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যারা আছে তাদের সঙ্গে আমি দ্রুত বসব।’

এই বিলম্বের কারণে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারাও নানাভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করছেন বিষয়টি। কিন্তু কেউই কোনো জবাব দিতে পারছেন না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বারবার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নানা আচরণ ও ভূমিকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল। তবে এবার জাতীয় সম্মেলনের আগে নতুন মডেলের ছাত্রলীগের ঘোষণা দেন।এই নতুন মডেল কী সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে তুমুল আলোচিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়েও খোঁজ নেয়া হয়েছে। এমনকি বংশের রাজনৈতিক পরিচয়ও যাচাই বাছাই করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া উচিত, এতেই সবার মঙ্গল: মান্না

ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে আবারও বৈঠকে বসছেন শেখ হাসিনা

আপডেট সময় ১০:৪৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সাংগঠনিক নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের অভাবে ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে দেরি হচ্ছে। তবে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনের নেতৃত্ব নির্বাচনে যে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এরপর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

গত ১১ এবং ১২ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হয় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সম্মেলনের প্রথম দিন দেয়া ভাষণে সংগঠনটির সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা ভোটাভুটির বদলে সমঝোতায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দেশ দেন।

এবার ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে আবেদন করে মোট ৩২৩ জন। কাউন্সিল অধিবেশনে তাদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পেরে নেতৃত্ব নির্বাচনের সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেয় ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি। কিন্তু সেখান থেকে কাউকে বাছাই করা হয়নি এখনও।

এর মধ্যে গত ৪ জুলাই রাতে পদপ্রত্যাশী সবাইকে গণভবনে ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ওই রাতে কমিটি ঘোষণার বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হয় সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

সেদিন সন্ধ্যা আটটা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা গণভবনে অবস্থান করেন। সেখানে শেখ হাসিনা যেমন কথা বলেন, তেমনি আড়াইশর মতো পদপ্রত্যাশী বক্তব্য রাখেন।

এ সময় শেখ হাসিনা জিজ্ঞেস করেন নেতা হিসাবে তাদের কোনো পছন্দের নাম আছে কি না। থাকলে নাম প্রস্তাব করতে বলেন।

তখন ছাত্রলীগ নেতা সমস্বরে বলেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে জানান। জবাবে শেখ হাসিনা জানতে চান, ‘আমি যে সিদ্ধান্ত দেব তোমরা মেনে নেবে?’ জবাবে সবাই উচ্চস্বরে জানিয়ে দেন, শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত।

কিন্তু এর পরেও কেটে গেছে ২০ দিন। সিদ্ধান্ত জানাননি শেখ হাসিনা। আর বিষয়টি নিয়ে কথা হয় সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে।

বৈঠকে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা কবে, সে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

বৈঠকে অংশ নেয়া একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ব্যস্ততার কারণে তিনি সময় দিতে পারছেন না বলে দেরি হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা আবেদন করেছে তাদের বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে। নতুন কমিটি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে যারা আছে তাদের সঙ্গে আমি দ্রুত বসব।’

এই বিলম্বের কারণে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে ইচ্ছুকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তারাও নানাভাবে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানার চেষ্টা করছেন বিষয়টি। কিন্তু কেউই কোনো জবাব দিতে পারছেন না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বারবার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নানা আচরণ ও ভূমিকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল। তবে এবার জাতীয় সম্মেলনের আগে নতুন মডেলের ছাত্রলীগের ঘোষণা দেন।এই নতুন মডেল কী সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে তুমুল আলোচিত অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পদপ্রত্যাশীদের বিষয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়েও খোঁজ নেয়া হয়েছে। এমনকি বংশের রাজনৈতিক পরিচয়ও যাচাই বাছাই করা হয়েছে।