ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্লেব্যাক থেকে বিদায় নিলেন অরিজিৎ, জানালেন একাধিক কারণ জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা গতকালের ঘটনার পরে অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছি: নাহিদ ইসলাম কাজ দেওয়ার নামে রাশিয়ায় নিয়ে পাঠানো হয় যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনও পক্ষ নেবে না : মার্কিন রাষ্ট্রদূত দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে হামলার শিকার কংগ্রেস সদস্য ইলহান শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড নওগাঁয় বিএনপির প্রচারণা চালিয়ে চাকরি হারালেন মুয়াজ্জিন বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী নিহত

পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে: মান্নান

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারত কিংবা চীন নয় শুধু, বাংলাদেশ পৃথিবীর যে কোনও দেশের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ‘ইমপরটেন্স অব বিআরআই এন্ড বিবিআইএন ফর সাউথ এশিয়া’শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ সব দিক থেকেই নতুন একটা দেশ। এই বাংলাদেশ প্রতিবেশি দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে। তাই দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চীন ও ভারতের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়। কারণ ভারত ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে এই সরকার কাজ করছে।’

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান বলেন, ‘চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই দুই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চায় সরকার। বর্তমান সরকার আমলে আন্তঃযোগাযোগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগকে প্রাধান্য দিচ্ছে।’

‘সে কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল, সড়ক, বিমান, নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। একইসঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও যোগাযোগ বেড়েছে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের আগ্রহের কথাও জানান।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজনে সেমিনারের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন শ্রীলংকার রিজিওনাল সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক গামিনী কিরাওয়ালা।

নেপালের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ এর পরিচালক নিশ্চল পান্ডে তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ববাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে গালিভার টাইপের দেশগুলোকে মোকাবেলা করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দক্ষিণ এশিয়ার লিলিপুট রাষ্ট্রগুলোকে আঞ্চলিক সংযোগের ছাতায় আসতে হবে। এজন্য এসব দেশেগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলোর অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। রোডগুলোকে সচল রাখতে হবে।’

‘এতে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কম সময়ে সহজ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও সুলভ দাম পাওয়া যাবে। যার মাধ্যমে দূরের দেশগুলোর সঙ্গে এ অঞ্চলের বাণিজ্য কমে আসবে এবং প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে বলে আমি মনে করি।’

এ সময় তিনি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর যোগাযোগ দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ‘দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। তারা প্রতিবেশী দেশ বাদ দিয়ে চলে যায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। এতে করে তাদের সবকিছুতেই ব্যয় বেড়ে যায়।’

সম্মলেনে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বিআরআই চীনের উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা পূর্ব দিকে যোগাযোগ বাড়াতে পারবো। আর বিবিআইএন প্রতিবেশি দেশগুলোর উদ্যোগ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।’

দুই দিনব্যাপী সেমিনারে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্লেব্যাক থেকে বিদায় নিলেন অরিজিৎ, জানালেন একাধিক কারণ

পৃথিবীর সব দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে: মান্নান

আপডেট সময় ০৬:০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ভারত কিংবা চীন নয় শুধু, বাংলাদেশ পৃথিবীর যে কোনও দেশের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আবদুল মান্নান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী এক আঞ্চলিক সম্মেলনে ‘ইমপরটেন্স অব বিআরআই এন্ড বিবিআইএন ফর সাউথ এশিয়া’শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ সব দিক থেকেই নতুন একটা দেশ। এই বাংলাদেশ প্রতিবেশি দেশ থেকে শুরু করে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে। তাই দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে চীন ও ভারতের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগ ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তিত নয়। কারণ ভারত ও চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে এই সরকার কাজ করছে।’

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) প্রসঙ্গে আবদুল মান্নান বলেন, ‘চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই দুই উদ্যোগের বাস্তবায়ন চায় সরকার। বর্তমান সরকার আমলে আন্তঃযোগাযোগ ও আঞ্চলিক যোগাযোগকে প্রাধান্য দিচ্ছে।’

‘সে কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল, সড়ক, বিমান, নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। একইসঙ্গে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও যোগাযোগ বেড়েছে।’

এ সময় প্রতিমন্ত্রী চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের আগ্রহের কথাও জানান।

ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজনে সেমিনারের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন শ্রীলংকার রিজিওনাল সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ এর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক গামিনী কিরাওয়ালা।

নেপালের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ এর পরিচালক নিশ্চল পান্ডে তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ববাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে গালিভার টাইপের দেশগুলোকে মোকাবেলা করে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে দক্ষিণ এশিয়ার লিলিপুট রাষ্ট্রগুলোকে আঞ্চলিক সংযোগের ছাতায় আসতে হবে। এজন্য এসব দেশেগুলোর যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলোর অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। রোডগুলোকে সচল রাখতে হবে।’

‘এতে এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে কম সময়ে সহজ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি ও সুলভ দাম পাওয়া যাবে। যার মাধ্যমে দূরের দেশগুলোর সঙ্গে এ অঞ্চলের বাণিজ্য কমে আসবে এবং প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে বলে আমি মনে করি।’

এ সময় তিনি দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর যোগাযোগ দূরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ‘দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। তারা প্রতিবেশী দেশ বাদ দিয়ে চলে যায় থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে। এতে করে তাদের সবকিছুতেই ব্যয় বেড়ে যায়।’

সম্মলেনে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বিআরআই চীনের উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে আমরা পূর্ব দিকে যোগাযোগ বাড়াতে পারবো। আর বিবিআইএন প্রতিবেশি দেশগুলোর উদ্যোগ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।’

দুই দিনব্যাপী সেমিনারে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিশেষজ্ঞরা অংশ নেয়।