ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার এই নির্বাচন দিকনির্দেশনা দেবে আগামীতে দেশ কোন দিকে পরিচালিত হবে: তারেক রহমান রাজধানীর উত্তরায় পার্কিং করা বাসে আগুন জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ গণভোটের পর সরকারের মেয়াদ বাড়ছে, এমন দাবি ভিত্তিহীন: প্রেস উইং মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অবৈধ অভিবাসী আটক ইসলামের নামে তারা মিথ্যাচার করছেন: চরমোনাই পীর নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো: শফিকুল আলম সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে তারেক রহমানকে দায়িত্ব নিতে হবে: আখতার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারাদেশে একটি দল জনগণকে প্রতারণা করছে: নাহিদ ইসলাম

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে ভূমিকায় ভারতের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির তিন নেতার ভারত সফর নিয়ে এখন বিএনপিতেই তোলপাড় চলছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অন্ধকারে রেখে আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর সাতদিন দিল্লিতে একাধিক বৈঠক করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন বলেছেন, ‘এই বৈঠকের ব্যাপারে তিনি কিছু্ই জানেন না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দিল্লী থেকে দেশে ফিরে এই তিন নেতা তাঁদের সতীর্থদের তোপের মুখে পড়েছেন। বিএনপির নেতারাই প্রশ্ন করেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে কি গোপন চুক্তি হলো বিএনপির?’ শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের নেতারাও প্রশ্ন করেছেন, ‘বিএনপি ভারতের কাছে কি মুচলেকা দিলো।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপি নেতাদের এই সফরকে ২০০১ এর জুনের সফরের সঙ্গে তুলনা করছে। ২০০১ সালের জুনে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে একটি দল ভারতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বক্তৃতায় অভিযোগ করেছেন যে, ‘গ্যাস বিক্রির দাসখত দিয়েই ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।’ তাই বিএনপির নেতারা রাখঢাক না রেখেই বলছেন, ‘এবারের ভারত সফর বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’

এই সফরের মূল উদ্যোক্তা হলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ভারতকে বোঝানো।’ মিন্টু বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ভারতকে বোঝাতে পেরেছি যে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশে ২০১৪ এর মতো নির্বাচন দেখতে চায়না।’

তবে, একাধিক সূত্র বলছে ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির তিন নেতা আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০০১-০৬ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। তাঁরা স্বীকার করেছেন, ‘এ সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি।’

সূত্রমতে, ভারত তিনটি বিষয়ে বিএনপির স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে, প্রথমত, বিএনপির সঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগাযোগ। আবার ক্ষমতায় এলে বিএনপি বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে কিনা।

দ্বিতীয়ত, জামাতসহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক। এই সম্পর্ক বিএনপি ত্যাগ করবে কিনা।

তৃতীয়ত, তারেক জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মত কী।

জানা গেছে, প্রথম দুটি বিষয়ে বিএনপি তাৎক্ষণিক জবাব দিলেও তারেক জিয়ার ব্যাপারে কোনো মতামত দেয়নি। তবে, অন্তত: দুটি বৈঠকে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আপাতত সরাসরি রাজনীতিতে তারেক থাকবেন না।

তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইলেও আগামীতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না – এমন প্রতিশ্রুতির গ্যারান্টি চায় ভারত।

কিন্তু বিএনপির নেতারা ঢাকায় এসে তাদের সতীর্থদের সঙ্গেই এই বৈঠক নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছেন। বিএনপির একাধিক নেতা বলেছে, বিএনপির রাজনীতির প্রধান শক্তিই হলো ভারত বিরোধিতা। আর এই শক্তি যদি তোষামোদে পরিণত হয়, তাহলে আর বিএনপি থাকলো কীভাবে?

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে ভূমিকায় ভারতের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বিএনপি

আপডেট সময় ১১:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির তিন নেতার ভারত সফর নিয়ে এখন বিএনপিতেই তোলপাড় চলছে। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অন্ধকারে রেখে আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং হুমায়ুন কবীর সাতদিন দিল্লিতে একাধিক বৈঠক করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশররফ হোসেন বলেছেন, ‘এই বৈঠকের ব্যাপারে তিনি কিছু্ই জানেন না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দিল্লী থেকে দেশে ফিরে এই তিন নেতা তাঁদের সতীর্থদের তোপের মুখে পড়েছেন। বিএনপির নেতারাই প্রশ্ন করেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে কি গোপন চুক্তি হলো বিএনপির?’ শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগের নেতারাও প্রশ্ন করেছেন, ‘বিএনপি ভারতের কাছে কি মুচলেকা দিলো।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপি নেতাদের এই সফরকে ২০০১ এর জুনের সফরের সঙ্গে তুলনা করছে। ২০০১ সালের জুনে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে একটি দল ভারতে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক বক্তৃতায় অভিযোগ করেছেন যে, ‘গ্যাস বিক্রির দাসখত দিয়েই ২০০১ এ বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল।’ তাই বিএনপির নেতারা রাখঢাক না রেখেই বলছেন, ‘এবারের ভারত সফর বাংলাদেশের রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট।’

এই সফরের মূল উদ্যোক্তা হলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল, একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা ভারতকে বোঝানো।’ মিন্টু বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা ভারতকে বোঝাতে পেরেছি যে বাংলাদেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রয়োজন।’ বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশে ২০১৪ এর মতো নির্বাচন দেখতে চায়না।’

তবে, একাধিক সূত্র বলছে ভারতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির তিন নেতা আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০০১-০৬ এর ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়েছে। তাঁরা স্বীকার করেছেন, ‘এ সময় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে বিএনপি সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেনি।’

সূত্রমতে, ভারত তিনটি বিষয়ে বিএনপির স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে, প্রথমত, বিএনপির সঙ্গে ভারতীয় বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর যোগাযোগ। আবার ক্ষমতায় এলে বিএনপি বাংলাদেশকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে কিনা।

দ্বিতীয়ত, জামাতসহ উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক। এই সম্পর্ক বিএনপি ত্যাগ করবে কিনা।

তৃতীয়ত, তারেক জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মত কী।

জানা গেছে, প্রথম দুটি বিষয়ে বিএনপি তাৎক্ষণিক জবাব দিলেও তারেক জিয়ার ব্যাপারে কোনো মতামত দেয়নি। তবে, অন্তত: দুটি বৈঠকে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আপাতত সরাসরি রাজনীতিতে তারেক থাকবেন না।

তবে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পক্ষে ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাইলেও আগামীতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না – এমন প্রতিশ্রুতির গ্যারান্টি চায় ভারত।

কিন্তু বিএনপির নেতারা ঢাকায় এসে তাদের সতীর্থদের সঙ্গেই এই বৈঠক নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখছেন। বিএনপির একাধিক নেতা বলেছে, বিএনপির রাজনীতির প্রধান শক্তিই হলো ভারত বিরোধিতা। আর এই শক্তি যদি তোষামোদে পরিণত হয়, তাহলে আর বিএনপি থাকলো কীভাবে?