অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
দেশে যে নির্বাচনী হাওয়া বইছে তাতে আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শতভাগ জয় দেখছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, ক্ষমতায় ফিরতে পারলে তারা দেশে আরও উন্নয়ন করবেন।
বুধবার সচিবালয়ে এক প্রাক বাজেট আলোচনায় বক্তব্য রাখছিলেন মুহিত। অর্থনৈতিক বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন ইআরএফের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
২০০৯ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই সময়ে দেশে ব্যাপক উন্নয়নের দাবি করছে সরকার। আর আগামীতে আরও উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েই ভোটের প্রচারে নেমেছে ক্ষমতাসীন দল।
তবে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী দাবি করছে, সরকার স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠেছে, তারা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাত ধসে পড়েছে। এসব কারণে আওয়ামী লীগ এখন জনপ্রিয় নয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন ‘আমার মনে হয় নেক্সট গভর্নমেন্ট যদি আওয়ামী লীগ হয়, আমার ধারণা এখন যে হাওয়া বইছে নেক্সট ইলেকশনে (পরবর্তী নির্বাচন) আওয়ামী লীগ শতভাগ জয়ী হবে। আমরা সাবস্টেনশিয়াললি (ব্যাপক) উন্নয়ন করব। দেয়ার ইজ ইনরমাস পসিবিলিটি (এর সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে)।’
সরকার উন্নয়নের পাশাপাশি জঙ্গি নির্মূলেও ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে বলে মনে করেন মুহিত। বলেন, ‘অনেক গোষ্ঠী এখন নন এগজিসটেন্স (বিরাজ করে না) এবং নন এগজিজটেন্স এর কারণ হলো তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
‘এরা কিছু হলেই কিছু থ্রেট (হুমকি) দিত। সে কারণে আমরা তাদেরকে জঙ্গিবাদী বলে মনে করি। জঙ্গিবাদকে নির্মূল করার জন্যে আমার মনে হয় পৃথিবীর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কার্যকরী সরকার সেটা হল বাংলাদেশ সরকার। নো আদার কানট্রি ক্যান একুয়েল দিস সর্ট অব স্টেপস দিস গভর্নমেন্ট টেইকস এগেইনেস্ট দেম (তাদের বিরুদ্ধে সরকার যে ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, অন্য কোনো দেশ এটা পারেনি)।’
আলোচনায় সময় করপোরেট কর, আয়কর, দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
দেশে এখন বিনিয়োগের জন্য চমৎকার পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
‘২০১৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে হরতাল বিদায় নিয়েছে, জ্বালাও পোড়াও বিদায় নিয়েছে। মানুষের আস্থায় আসতে সময় লাগবে। ২০১৫ তে হয়েছে। ২০১৮- এই তিন বছর। এই তিন বছর স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল। এখন আমি স্পষ্টত দেখতে পাচ্ছি এই বছরে ২০১৮ অর্থাৎ ২০১৭-১৮ দেয়ার ইজ এ বেটার ফ্লো অব প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট (বেসরকারি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছি)। ইনভেস্টমেন্ট রেশিও (বিনিয়োগ অনুপাত) বাড়ছে। সেই কারণে বাংলাদেশে ডাইরেক্ট ফরেন ইনভেস্টমেন্টও (সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ) বাড়ছে।’
‘আমাদের অনেক লোক বিদেশ থেকে আসছে। তারা কাজ করছে। বেশ ভালো পরিবেশ এখন তৈরি হচ্ছে। আমাদের লোকেরাই আসছে। বহু লোক আসছে। অনেকেই এখন দেশে ফিরে আসছে। বিনিয়োগ করছে।’
করপোরেট কর কমবে
আগামী অর্থ বছরের যে বাজেট প্রস্তাব করা হচ্ছে, সেটিই সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ বাজেট। এই বাজেটে কী থাকছে এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘করপোরেট ট্যাক্স কমানোর ব্যবস্থা করা হবে। আর এটা অত্যন্ত হাই (উচ্চ)। এটাকে একটু নিচে নামানোর চেষ্টা থাকবে।’
‘আর এক্সপানশন অব ট্যাক্স সিলিং (করসীমা বৃদ্ধি)। একটা সময় কল্পনা করা যেত না যে দেশের অর্ধেক মানুষ ট্যাক্স দেবে। আমার এখন মনে হয় ২০২০-২১ সালের মধ্যেই দেশের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ ট্যাক্স দেবে। ইটস এ ভেরি গুড ডেভেলপমেন্ট (এটা দারুণ অগ্রগতি)। আমি এটা নিয়ে অত্যন্ত প্রাউড (গর্বিত)।
‘আমাদের একটা ভীতি ছিল যে একবার ট্যাক্স রিটার্ন দিলে আটকা পড়ব, আর কোনোদিন বের হতে পারব না। এই ভীতিটা এখন নেই। এখন কর প্রদান অলমোস্ট একটা উৎসবের মতো ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিস হ্যাজ আই থিংক আমাদের কর প্রশাসনও যথেষ্ট সাহায্য করেছে।’
‘তাদেরও যে আগের একটা অবস্থান ছিল তারা একটু ডিসটেন্টে (দূরত্বে) থাকত সেটা এখন নেই। আমার মনে হয় এই সরকারের নয়-দশ বছরে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে।’
আয়কর হার কি না-জানতে চাইলে মুহিত বলেন, ‘ইউ আর ট্রাইং টু সর্ট অব রেশনালাইজ দি ইনকাম ট্যাক্স রেট (আয়কর হারকে আরও যৌক্তিক করার চেষ্টা করছি)।’
তামাকের ওপর কর ভিন্ন হচ্ছে
তামাকের ওপর করহার চলতি বছর পাল্টে যাচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তবে এটি চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। বলেন, ‘লাইক আদার কান্ট্রি ইউ সুড হ্যাব (অন্যান্য দেশের মতোই এটা হওয়া উচিত)। এটা নিয়ে অতিসত্ত্বর আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হবে। সেখানে আমাদের ডমিস্টিক ইনভেস্টটাররা (স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা) থাকবে।
খেজুর আমদানিতে কোনো কর না থাকলেও কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে খেজুর আনলে তাকে দুইশ শতাংশ কর দিতে হয় বলে অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয় আলোচনায়। এ সময় তিনি বলেন, ‘এনবিআর শুড নোটেড। এটা দেখতে হবে। কেন এমন হয়। কারণ খেজুরে ট্যাক্স নেই। কেউ ব্যবসায়ী নিয়ে আসলে এক পয়সাও দেয় না। আর কেউ ব্যক্তিগতভাবে আনলে দিতে হবে। এটা দেখতে হবে। ইউ শুড লুক ইন ইট (এনবিআরকেএটা দেখা উচিত)।’
শক্তিশালী স্থানীয় শাসন চান মুহিত
স্থানীয় শাসনকে আরও শক্তিশালী হিসেবে দেখতে চান অর্থমন্ত্রী। বলেন, ‘পৃথিবীতে ৬০ টি দেশ আছে যেখানে লেসার দেন আওয়ার ডিস্ট্রিক্ট, হু হ্যাব স্মলার সাইজেস দেন আওয়ার ডিস্ট্রিকস (পৃথিবীতে ৬০টি দেশ আছে যেগুলোর আয়তন আমাদের জেলাগুলোর চেয়ে ছোট)।’
‘আমাদের ডিস্ট্রিকস গভর্নমেন্ট এর ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বাড়ানো উচিত। যেমন সামাজিক নিরাপত্তা। এখানে সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এর কিছুই করার নেইম বাট ফরমুলেশন পলিসিস (কেন্দ্রীয় সরকারের এখানে নীতিমালা নির্ধারণ ছাড়া কিছু করার নেই।’
‘শিক্ষা সেইম থিংক। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট গেইভ ব্রড এডুকেশন ফরমুলেশন আর ডিস্ট্রিক গভমেন্ট ডান দিস (শিক্ষার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষার কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। আর এর বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার)। এটার এক্সপেরিয়েন্সও যথেষ্ট আছে।’
জেলা বাজেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যে উদ্দেশ্যে জেলা বাজেট প্রচলন করেছি, সেটা সফল হয়েছে। এখন এটা ফরমালিটিজ।’
বর্তমান সরকার অন্তর্ভূক্তিমূলক নীতিতে আগাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ইনক্লুশন (অন্তর্ভুক্তি) এবং এমপাওয়ারমেন্ট (ক্ষমতায়ন) দেয়ার আর নট ইকুয়েভোলেন্ট (সমান)। বাট ইনক্লুশন মানেই হল ইউ আর ইন দ্য প্রোসেস অব এমপাওয়ারমেন্ট (অন্তর্ভুক্তি মানেই আপনি ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন)। যে এখন ইনক্লুশন হলো, সে আস্তে আস্তে এমপাওয়ার্ড হবে। দেয়ার ইজ এ স্লো প্রসেস। তবে সেটা হচ্ছে।’
যানজট এড়াতে স্কুল বাসের ব্যবস্থা করা যায় কি না এমন প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘দিস ইয়ার আই এম গোয়িং টু প্রভাইড স্কুল টু হ্যাব স্কুল বাস (এবার আমি স্কুলগুলোকে বাস দেব।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















