অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে ৭ মের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান বলছেন, ৯ এপ্রিলের সমঝোতা বৈঠকের সিদ্ধান্ত না মেনে ছেলেরা আবার আন্দোলনে নেমেছে, তাই এই সময়সীমা আর কার্যকর নেই।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জনপ্রশাসন সচিব। তিনি জানান, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা না আসায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।
বাংলাদেশে আন্দোলনের শুরু ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনা হয় তাদের সন্তানদেরকেও। পরে নাতি-নাতনিদেরকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়।
১৯৯৭ সালে জামায়াতপন্থীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তখন ব্যর্থ হলেও নানা সময়ই এই দাবি নিয়ে মাঠে নামে তারা। তবে এবার সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে কোটা আন্দোলনকারীরা কোনো বিশেষ কোটার নাম নেয়নি।
পরিষদ এবার সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামে। আর গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে পরিষদের নেতাদের একটি বৈঠকের পর আন্দোলন ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। তখন কাদের জানান, এর মধ্যে কোটা নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়া হবে।
অবশ্য পরে আন্দোলনকারীরাই এই সমঝোতা ভেঙে পরদিন আবার আন্দোলনে নামে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এমনকি সরকারি চাকরিতে অনীহা থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নামে। আবার এই আন্দোলনে বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ে বলে তথ্য ছিল সরকারের কাছে।
আর ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, ‘কোনো কোটার দরকার নেই’। এরপর ছাত্ররা ক্লাসে ফিরলেও তাদের মধ্যে এ নিয়ে অস্থিরতা রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে দেশে ফিরে করা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন কোটা নিয়ে তিনি যা বলেছেন, সেটা আর পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ নেই।
তবে ছাত্ররা চাইছে দ্রুত প্রজ্ঞাপন। এর মধ্যে ৭ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানান, কোটা নিয়ে প্রজ্ঞাপন কবে হবে, সেটি তিনি জানেন না। আর পরদিন ছাত্রদের পক্ষ থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়েছে। ৯ মে পালিত হবে এই কর্মসূচি।
ছাত্রদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকে ৭ মের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘যখন ছাত্ররা আন্দোলন করছিল তখন সরকারের প্রতিনিধি যখন সেখানে গেলেন তখন তাদেরকে বলা হয়েছিল, ৭ তারিখ (৭ মে) ফাইনাল করা হবে। কিন্তু সে কথা বলার পরেও আন্দোলন থামেনি।’
‘তাই আমার বিবেচনায় বলতে পারি ৭ তারিখের কোন মূল্য থাকল না। সেই তারিখ পর্যন্ত যদি তারা আন্দোলন বন্ধ রাখত তাহলে আজ বলা যেত ৭ তারিখের মধ্যে আমরা কোন সমাধান করতে পেরেছি কি না। কিন্তু এখন তো আর বলতে পারবেন না।’
তাহলে কবে হবে প্রজ্ঞাপন-এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দেয়া কোটা বিষয়ে সংসদে যে ঘোষণা দিয়েছেন তার বিষয়ে আমরা কোন নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনার কাজটা বাকি আছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
কোটা পদ্ধতি বিষয়ে প্রজ্ঞাপনের আগে এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠনের নির্দেশনা আসছে কি না এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘কমিটি গঠনের বিষয়েও চূড়ান্তভাবে কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে যে কোন কাজ করতে আমরা প্রস্তুত। কমিটি দরকার হলে করা হবে। সরকার প্রধান যে পদ্ধতির কথাই নির্দেশনা দেন না কেন সেভাবেই আমরা করব।’
‘সরকারের পক্ষ থেকে যখনই কোন নির্দেশ দেয়া হবে তখন তা বাস্তবায়ন করা হবে।’
বর্তমানে অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সচিব বলেন, ‘এটা তো কোন জীবন নয় যে একটু একটু করে বাড়বে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















