অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
পুরুষের তুলনায় নারীরা কম দুর্নীতিপরায়ন বলে এক গবেষণাকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
রবিবার ধানমন্ডিতে দুদক কার্যালয়ে ‘দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত আয় ও সম্পদের পারিবারিক দায়: নারীর ভূমিকা, ঝুঁকি ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময়ে এ কথা জানান দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থার বাংলাদেশ শাখার প্রধান।
আলোচনায় জানানো হয়, দুর্নীতিবাজ পুরুষদের কারণে তাদের নির্দোষ স্ত্রীও ফাঁসছেন। এ বিষয়ে স্ত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়।
টিআইবি প্রধান একটি গবেষণা প্রতিবেদন উল্লেখ করে বলেন, ‘নারীরা পুরুষের তুলনায় কম দুর্নীতিপ্রবণ। দুর্নীতির কারণে নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিদ্যমান সমাজে নারীকে দুর্নীতির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’
‘অনেক সময় নারীরা বাধ্য হয়ে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন। আবার দেখা যায় তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেও দুর্নীতি করছে কেউ কেউ।’
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শও দেন দুদকের নির্বাহী পরিচালক। বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন হলে এ দুর্নীতি কমানো সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বেশ কিছু উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, নিজে বাঁচার জন্য স্ত্রীর নামে অবৈধ সম্পদ গড়ছেন স্বামী।
দুদক প্রধান জানান, ১১৮ টি অভিযোগের তদন্ত করে দেখা গেছে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই স্ত্রী জানেন না তাদের নামে অবৈধ সম্পদের ব্যাপারে। তারা শুধু সই করেছেন। গত দুই বছরে তারা কেবল একজন নারীকে পেয়েছেন যিনি স্বামীর দুর্নীতির ব্যাপার জানতেন।
আলোচনায় মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেন, ‘নারীরা যে বেশিরভাগ সময় পুরুষের দুর্নীতির বোঝা বহন করেন সেটা আমরা বুঝতে পারি।’
নারী প্রগতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা রোকেয়া কবির বলেন, ‘নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা নেই। নারীর ক্ষমতায়ন করলে সে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবে।’
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, ‘নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের যায়গা দুর্বল। সমাজে এখনও নারীর প্রতি ধারণা সে অন্যর উপর নির্ভরশীল। এটা পরিবর্তন করতে হবে। তার অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়র অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘সমাজে একটা কথা প্রচলিত হয়ে গেছে যে, স্ত্রীর ডিমান্ডের (চাহিদা) কারণে স্বামী বাধ্য হয় অবৈধ পথে উপার্জন করতে। কিন্তু এটা ভুল কথা।’
‘দেখা যায় স্বামী একটা বড় টিভি নিয়ে আসলো স্ত্রী যদি প্রশ্ন করে এই তুমি এত টাকা পেলে কোথায়? স্বামী সঙ্গে সঙ্গে তাকে ধমক দেয় তুমি চুপ করো। এখানে অনেক সময় নারী অসহায় হয়ে পড়ে।’
দুর্নীতি রোধে স্ত্রীর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। বলেন, ‘স্ত্রী চাইলে তার স্বামীর দুর্নীতি করা বন্ধ করতে পারেন। আমি যদি একটা দামি গাড়ি কিনি। আমর স্ত্রী তো জিজ্ঞাসা করবে তুমি টাকা এত টাকা পেলে কোথায়? জবাব দিতে না পারলে আমার গলা টিপে ধরবে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















