ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রম বরং অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিন দিন অব্যাহতভাবে শিশুশ্রম বেড়েই চলছে। দেশের বিভিন্ন কলকারখানা, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায়ই এখনও বেআইনিভাবে শিশুদের নিয়োগ দেয়া হয়। শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্টদের।

ওয়েল্ডিং কারখানা, গাড়ির গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, বিভিন্ন পরিবহনসহ ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বড় বড় কলকারখানা, পোশাকশিল্প থেকে সবখানেই শিশুশ্রমিক চোখে পড়ে।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজার এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে রুবেল নামে ১০ বছরের এক শিশু। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল, পেটের দায়ে অল্প বয়সেই তাকে কাজে নামতে হয়েছে। বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও তার মা তাকে ওয়ার্কশপে কাজের জন্য পাঠিয়েছেন।

মালিক ঠিকমতো বেতন দেয় কিনা জানতে চাইলে রুবেল জানায়, সে আপাতত কাজ শিখছে। কাজ শেখা হলে তাকে বেতন দেয়া হবে। তবে তাকে খাবার ও হাত খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা দেয়া হয়।

রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শিশুদের হেলপার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অল্প টাকায় বাসমালিকরা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় নিয়োজিত করছে।

আল আমিন নামে ১৩ বছরের এক শিশু তুরাগ পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। থাকে গাজীপুরর টঙ্গী এলাকায়। এত ছোট বয়সে কেন গাড়ির হেলপারি করছ জিজ্ঞাসা করতেই হেসে দিয়ে বলল- ‘আমি আরও আগে থেকেই গাড়িতে কাজ করি।’

আল আমিন জানায়, তার বাবা নেই। মা অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। তাই নিজেই কাজে নেমে পড়েছে। আল আমিন আর রুবেলের মতো লাখ লাখ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত।

জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে দেখা গেছে, দেশে শ্রমের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৭ লাখ শিশু। যাদের ১২ লাখই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ৩৮টি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী এসব খাতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজে নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধের নির্দেশনাও রয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সামাজিক সংগঠন সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করলেও আজও শিশুশ্রম বন্ধ হয়নি।

শিশুদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ী ও কর্তাব্যক্তিরা। এরা অল্প পারিশ্রমিক দিয়েই একজন শিশুশ্রমিককে দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করাতে পারেন।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে বেশির ভাগ শিশুই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অনিয়ন্ত্রিত পতিতাবৃত্তির কারণে পথ শিশু, টোকাই এর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ইউনিসেফের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার ফাতেমা খাইরুন্নাহার দৈনিক আকাশকে বলেন, সমাজ ও পরিবারে শিশুদের অবহেলার মাত্রা বেড়েছে। যে কারণে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং তারা বেঁচে থাকার জন্য শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে শিশুশ্রম বন্ধ বা হ্রাস করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের যে ভূমিকা রাখা দরকার তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। শিশুশ্রম বন্ধে মন্ত্রণালয়ের কোনো মনিটরিং সেল নেই বলেও জানান ফাতেমা খাইরুন্নাহার।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

বন্ধ হচ্ছে না শিশুশ্রম বরং অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে

আপডেট সময় ১১:৪৫:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দিন দিন অব্যাহতভাবে শিশুশ্রম বেড়েই চলছে। দেশের বিভিন্ন কলকারখানা, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায়ই এখনও বেআইনিভাবে শিশুদের নিয়োগ দেয়া হয়। শিশুশ্রম বন্ধে কঠোর আইন থাকলেও তা বন্ধ করা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমেও এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হলেও টনক নড়ছে না সংশ্লিষ্টদের।

ওয়েল্ডিং কারখানা, গাড়ির গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ, বিভিন্ন পরিবহনসহ ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন কাজে শিশুদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বড় বড় কলকারখানা, পোশাকশিল্প থেকে সবখানেই শিশুশ্রমিক চোখে পড়ে।

রাজধানীর খিলক্ষেত বাজার এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করে রুবেল নামে ১০ বছরের এক শিশু। তার সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা গেল, পেটের দায়ে অল্প বয়সেই তাকে কাজে নামতে হয়েছে। বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে। লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকলেও তার মা তাকে ওয়ার্কশপে কাজের জন্য পাঠিয়েছেন।

মালিক ঠিকমতো বেতন দেয় কিনা জানতে চাইলে রুবেল জানায়, সে আপাতত কাজ শিখছে। কাজ শেখা হলে তাকে বেতন দেয়া হবে। তবে তাকে খাবার ও হাত খরচের জন্য সামান্য কিছু টাকা দেয়া হয়।

রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শিশুদের হেলপার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অল্প টাকায় বাসমালিকরা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় নিয়োজিত করছে।

আল আমিন নামে ১৩ বছরের এক শিশু তুরাগ পরিবহনে হেলপার হিসেবে কাজ করে। তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে। থাকে গাজীপুরর টঙ্গী এলাকায়। এত ছোট বয়সে কেন গাড়ির হেলপারি করছ জিজ্ঞাসা করতেই হেসে দিয়ে বলল- ‘আমি আরও আগে থেকেই গাড়িতে কাজ করি।’

আল আমিন জানায়, তার বাবা নেই। মা অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। তাই নিজেই কাজে নেমে পড়েছে। আল আমিন আর রুবেলের মতো লাখ লাখ শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িত।

জাতীয় শিশুশ্রম জরিপে দেখা গেছে, দেশে শ্রমের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৭ লাখ শিশু। যাদের ১২ লাখই ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ৩৮টি খাতকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে।

শ্রম আইন অনুযায়ী এসব খাতে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাজে নেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে সব ধরনের শিশুশ্রম বন্ধের নির্দেশনাও রয়েছে।

শিশুশ্রম বন্ধে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সামাজিক সংগঠন সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন করলেও আজও শিশুশ্রম বন্ধ হয়নি।

শিশুদের কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ী ও কর্তাব্যক্তিরা। এরা অল্প পারিশ্রমিক দিয়েই একজন শিশুশ্রমিককে দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় কাজ করাতে পারেন।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে বেশির ভাগ শিশুই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অনিয়ন্ত্রিত পতিতাবৃত্তির কারণে পথ শিশু, টোকাই এর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

ইউনিসেফের চাইল্ড প্রোটেকশন অফিসার ফাতেমা খাইরুন্নাহার দৈনিক আকাশকে বলেন, সমাজ ও পরিবারে শিশুদের অবহেলার মাত্রা বেড়েছে। যে কারণে শিশুরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং তারা বেঁচে থাকার জন্য শ্রমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।

তবে শিশুশ্রম বন্ধ বা হ্রাস করতে শ্রম মন্ত্রণালয়ের যে ভূমিকা রাখা দরকার তা যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন তিনি। শিশুশ্রম বন্ধে মন্ত্রণালয়ের কোনো মনিটরিং সেল নেই বলেও জানান ফাতেমা খাইরুন্নাহার।