ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প জাতীয় সংসদে এক অধিবেশনে এত বেশি বিল পাসের নজির নেই: চিফ হুইপ বিএনপি ‘আত্মঘাতী’ রাজনীতি করছে: মামুনুল হক জুলাই সনদ সরকার ও বিরোধী দলকে মুখোমুখি পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে :পার্থ সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ার শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধার শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেলে ‘প্রত্যেক দেশই ক্ষতিগ্রস্ত’ হবে: শামা ওবায়েদ ইরানকে ‘উপযুক্ত সময়ে’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ‘অ্যালেক্স ইমন’ নিহত তুরস্কের কাছে ‘সবচেয়ে সুন্দরী নারী’ চেয়ে উগান্ডার সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি!

আমি বলেছিলাম ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সংসারে অভাবের কারণে মাধব পালকে পালিয়ে বিয়ে করেন অনিতা। তার পর আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলে অনিককে আনতে গেলে বিচারক সাত বছর পর ছেলেকে পাব বলে জানিয়ে দেন। তখন আমি বলেছিলাম- ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে। আজ ঠিকই ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।’

কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অনিতার প্রথম স্বামী কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে আছড়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগে এক সৎ বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। ছেলেটির নাম অনিক।

সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম জানান, আটক মাধব পাল টংগীবাড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের বলরাম পালের ছেলে।

অনিকের মা অনিতা মণ্ডল জানান, ‘আমার আগের স্বামীর নাম কৃষ্ণ দাস। অনিক ওই ঘরের ছেলে। কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে মাধব পালকে বিয়ে করি। সন্তান অনিককে নিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে থাকছিলাম।’

সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, শ্রীনগর উপজেলার হাসারা গ্রামের মৃত শিবু মণ্ডলের মেয়ে অনিতা মণ্ডলের সঙ্গে দেড় বছর আগে মাধব পালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল।

৭-৮ মাস আগে মাধব পাল স্ত্রী অনিতাকে নিয়ে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকা শুরু করেন। রোববার বিকালে মাধব পাল কাজ শেষে বাড়ি এলে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় কলহ হয়। এ কলহের জের ধরে সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত অনিকের গলায় কালো চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার জিহ্বা বের হয়ে গেছে। শিশুটিকে সিরাজদিখান হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকার লোক পুলিশে খবর দেয়। অনিকের মা অনিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধব পালকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মাধব পালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাইলে এক দিনেই ইরানকে ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

আমি বলেছিলাম ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সংসারে অভাবের কারণে মাধব পালকে পালিয়ে বিয়ে করেন অনিতা। তার পর আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলে অনিককে আনতে গেলে বিচারক সাত বছর পর ছেলেকে পাব বলে জানিয়ে দেন। তখন আমি বলেছিলাম- ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে। আজ ঠিকই ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।’

কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অনিতার প্রথম স্বামী কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে আছড়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগে এক সৎ বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। ছেলেটির নাম অনিক।

সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম জানান, আটক মাধব পাল টংগীবাড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের বলরাম পালের ছেলে।

অনিকের মা অনিতা মণ্ডল জানান, ‘আমার আগের স্বামীর নাম কৃষ্ণ দাস। অনিক ওই ঘরের ছেলে। কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে মাধব পালকে বিয়ে করি। সন্তান অনিককে নিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে থাকছিলাম।’

সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, শ্রীনগর উপজেলার হাসারা গ্রামের মৃত শিবু মণ্ডলের মেয়ে অনিতা মণ্ডলের সঙ্গে দেড় বছর আগে মাধব পালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল।

৭-৮ মাস আগে মাধব পাল স্ত্রী অনিতাকে নিয়ে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকা শুরু করেন। রোববার বিকালে মাধব পাল কাজ শেষে বাড়ি এলে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় কলহ হয়। এ কলহের জের ধরে সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত অনিকের গলায় কালো চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার জিহ্বা বের হয়ে গেছে। শিশুটিকে সিরাজদিখান হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকার লোক পুলিশে খবর দেয়। অনিকের মা অনিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধব পালকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মাধব পালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।