ঢাকা ০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে : ড্যান মজিনা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ‘অনিবার্য কারণে’ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু

আমি বলেছিলাম ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সংসারে অভাবের কারণে মাধব পালকে পালিয়ে বিয়ে করেন অনিতা। তার পর আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলে অনিককে আনতে গেলে বিচারক সাত বছর পর ছেলেকে পাব বলে জানিয়ে দেন। তখন আমি বলেছিলাম- ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে। আজ ঠিকই ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।’

কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অনিতার প্রথম স্বামী কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে আছড়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগে এক সৎ বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। ছেলেটির নাম অনিক।

সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম জানান, আটক মাধব পাল টংগীবাড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের বলরাম পালের ছেলে।

অনিকের মা অনিতা মণ্ডল জানান, ‘আমার আগের স্বামীর নাম কৃষ্ণ দাস। অনিক ওই ঘরের ছেলে। কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে মাধব পালকে বিয়ে করি। সন্তান অনিককে নিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে থাকছিলাম।’

সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, শ্রীনগর উপজেলার হাসারা গ্রামের মৃত শিবু মণ্ডলের মেয়ে অনিতা মণ্ডলের সঙ্গে দেড় বছর আগে মাধব পালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল।

৭-৮ মাস আগে মাধব পাল স্ত্রী অনিতাকে নিয়ে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকা শুরু করেন। রোববার বিকালে মাধব পাল কাজ শেষে বাড়ি এলে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় কলহ হয়। এ কলহের জের ধরে সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত অনিকের গলায় কালো চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার জিহ্বা বের হয়ে গেছে। শিশুটিকে সিরাজদিখান হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকার লোক পুলিশে খবর দেয়। অনিকের মা অনিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধব পালকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মাধব পালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস

আমি বলেছিলাম ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে

আপডেট সময় ১০:৫৩:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘সংসারে অভাবের কারণে মাধব পালকে পালিয়ে বিয়ে করেন অনিতা। তার পর আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলে অনিককে আনতে গেলে বিচারক সাত বছর পর ছেলেকে পাব বলে জানিয়ে দেন। তখন আমি বলেছিলাম- ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলবে। আজ ঠিকই ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল।’

কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অনিতার প্রথম স্বামী কৃষ্ণ দাস। তিনি বলেন, আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।

শনিবার বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সাড়ে তিন বছরের ছেলেকে আছড়ে ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগে এক সৎ বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। ছেলেটির নাম অনিক।

সিরাজদিখান থানার পরিদর্শক মো. আবুল কালাম জানান, আটক মাধব পাল টংগীবাড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের বলরাম পালের ছেলে।

অনিকের মা অনিতা মণ্ডল জানান, ‘আমার আগের স্বামীর নাম কৃষ্ণ দাস। অনিক ওই ঘরের ছেলে। কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরে মাধব পালকে বিয়ে করি। সন্তান অনিককে নিয়ে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে থাকছিলাম।’

সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুর আহম্মেদ বলেন, শ্রীনগর উপজেলার হাসারা গ্রামের মৃত শিবু মণ্ডলের মেয়ে অনিতা মণ্ডলের সঙ্গে দেড় বছর আগে মাধব পালের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল।

৭-৮ মাস আগে মাধব পাল স্ত্রী অনিতাকে নিয়ে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম শিয়ালদী গ্রামে শাহ আলমের বাড়িতে ভাড়া থাকা শুরু করেন। রোববার বিকালে মাধব পাল কাজ শেষে বাড়ি এলে ভাত দিতে দেরি হওয়ায় কলহ হয়। এ কলহের জের ধরে সন্তান হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত অনিকের গলায় কালো চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং তার জিহ্বা বের হয়ে গেছে। শিশুটিকে সিরাজদিখান হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এলাকার লোক পুলিশে খবর দেয়। অনিকের মা অনিতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাধব পালকে আটক করা হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ওসি আবুল কালাম জানান, মাধব পালের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।