ঢাকা ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি এখন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ

লন্ডনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবায়দাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন মাহবুবা জেবিন (অফ হোয়াইট শাড়ি পড়া)

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছিলেন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অন্যতম আস্থাভাজন। এই রাজনৈতিক কর্মীর নাম মাহবুবা নাজরিন জেবিন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২৬ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।

ফজিলাতুন্নেসা হলে থাকা জেবিনকে ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি করে ছাত্রলীগ। সে সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর সিদ্ধান্তে এই দায়িত্ব পান তিনি।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে জেবিন তখন বেশ নজর কাড়তেও সক্ষম হয়েছিলেন।

সে সময় ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর শাখার সভাপতি ছিলেন ইতিহাস বিভাগ ও ভাসানী হলের ২৫ ব্যাচের ছাত্র পারভেজ মল্লিক। পারভেজ মল্লিক আর জেবিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে দুই জন ঘরও বাঁধেন।

পারভেজ মল্লিকের সঙ্গে চলে যান লন্ডন। আর স্বামীর সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশে যান তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালের শুরুতে গ্রেপ্তার তারেক প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পরের বছর সে দেশে গিয়েছিলেন শর্তসাপেক্ষে। কথা ছিল চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে আসবেন।

কিন্তু ১০ বছরেও ফেরেননি তারেক রহমান। আর সম্প্রতি জানা গেছে ২০১৪ সালের ২ জুন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে তিনি সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।

লন্ডনে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী জেবিন এখন তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দেখাশোনা করেন। তিনি জাইমা রহমানের গাড়ি চালান এবং তাকে দেখাশোনাও করেন।

সম্প্রতি তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অফ-হোয়াইট শাড়ি পড়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, এমন একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

২০০২ সালে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হয়ে হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এর আগে জেবিনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না বলে জানিয়েছেন সে সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা।

তৎকালীন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃস্থানীয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জেবিন গান গাইতে পারতেন এবং সে সূত্রে ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলার মুখ’ এর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেছেন, ‘জেবিনের মুভমেন্ট এবং আচরণ দেখে সবসময়ই আমার মনে হতো সে পারভেজ মল্লিকের (ছাত্রদল সভাপতি) এজেন্ট হিসেবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী।’

‘বলতে পারেন, ২০০২ সালে বিরোধী দলে থাকতে অনুপ্রবেশকারী দিয়ে বিএনপির লাভ কী? উত্তরে বলব, এখানেই হাল আমলের ছাত্রলীগের অদূরদর্শিতা। দেখেন এখন জেবিন কী সার্ভিস দিচ্ছে খোদ তারেক রহমানকে।’

মাঠে-ময়দানের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সভাপতি হতে পেরেছিলেন কীভাবে? দৈনিক আকাশ এর এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে বিব্রত সে সময়কার কেন্দ্রীয় নেতারা। কেউ নাম, পরিচয়সহ মন্তব্য করতে পর্যন্ত রাজি হননি।

জেবিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি, তার সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তিনি তাদের পাশে দাঁড়াননি।

জেবিনের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং তার অনুসারীদের ক্যাম্পাসে আসতে দিতেন না জেবিন। তার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিলেন তার প্রেমিক ছিলেন ছাত্রদল নেতা। সে সময়ের অত্যাচারিত ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী এখন তবলীগ জামাতে নাম লিখিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই বা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার এখন আর যোগাযোগ নেই। একটা ফোন নম্বর পাওয়া গেলেও সেই নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি তারেক রহমান ও তার স্ত্রীকে লন্ডনে ভরা মজলিসে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন জেবিন। খালেদা জিয়াকে প্রশংসা করে রচিত একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন এক সময়ের ছাত্রলীগের একটি শাখার সভাপতি জেবিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, জনপ্রিয় তরুণ লেখিকা শাশ্বতি বিপ্লব ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘তারেক জিয়া নাকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হইসেন, খুবই সুখবর!! …এখানে অক্সফোর্ড বা তারেক জিয়া না, ফোকাস হইলো ছাত্রলীগ। খাড়ান, বলতেসি। …এই আনন্দযজ্ঞে বিএনপির যে গর্বিত নারীনেত্রীকে দেখতে পাইতেসেন, ওই যে অফ হোয়াইট শাড়ি গায়ে, জ্বি, জ্বি তিনিই, তিনি হইলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি। ভালো না? ’

ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতির তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়া নিয়ে বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভেতরেও রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ছাত্রদলের একজন সাবেক নেতা দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মল্লিক শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের ২৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ওই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারী নির্যাতনের সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন মানিকের কাছের লোক ছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিলনের সঙ্গে মওলানা ভাসানী হলে একই রুমে থাকতেন তিনি।’

‘১৯৯৮ সালে সালে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে মানিক ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হলে পারভেজকেও হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রদলের ব্যানারে আসেনন তিনি। পরে তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে সখ্য করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে একাধারে দুইবার জাবি ছাত্রদলের সভাপতি বনে যান। ওই সময়ে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাহবুবা নাজনীন জেবিন। চির প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই সংগঠনের সভাপতিই এখন স্বামী-স্ত্রী। তারা উভয়ে এখন লন্ডনে রয়েছেন। পেশাগত জীবনে কারো কোনো কর্ম না থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।’

‘পারভেজ মল্লিকের সঙ্গে জেবিন তারেক রহমানের বাসায় অবাধ যাতায়াত করেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

জাবি ছাত্রলীগ সভাপতি এখন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ

আপডেট সময় ০৩:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ছিলেন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের অন্যতম আস্থাভাজন। এই রাজনৈতিক কর্মীর নাম মাহবুবা নাজরিন জেবিন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ২৬ ব্যাচের ছাত্রী ছিলেন।

ফজিলাতুন্নেসা হলে থাকা জেবিনকে ২০০২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সভাপতি করে ছাত্রলীগ। সে সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদার এবং সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুর সিদ্ধান্তে এই দায়িত্ব পান তিনি।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির প্রথম নারী সভাপতি হিসেবে জেবিন তখন বেশ নজর কাড়তেও সক্ষম হয়েছিলেন।

সে সময় ক্ষমতাসীন ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর শাখার সভাপতি ছিলেন ইতিহাস বিভাগ ও ভাসানী হলের ২৫ ব্যাচের ছাত্র পারভেজ মল্লিক। পারভেজ মল্লিক আর জেবিনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে দুই জন ঘরও বাঁধেন।

পারভেজ মল্লিকের সঙ্গে চলে যান লন্ডন। আর স্বামীর সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশে যান তারেক রহমানের পরিবারের সঙ্গে।

২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ২০০৭ সালের শুরুতে গ্রেপ্তার তারেক প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পরের বছর সে দেশে গিয়েছিলেন শর্তসাপেক্ষে। কথা ছিল চিকিৎসা শেষে তিনি ফিরে আসবেন।

কিন্তু ১০ বছরেও ফেরেননি তারেক রহমান। আর সম্প্রতি জানা গেছে ২০১৪ সালের ২ জুন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দিয়ে তিনি সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।

লন্ডনে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী জেবিন এখন তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের দেখাশোনা করেন। তিনি জাইমা রহমানের গাড়ি চালান এবং তাকে দেখাশোনাও করেন।

সম্প্রতি তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অফ-হোয়াইট শাড়ি পড়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, এমন একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

২০০২ সালে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হয়ে হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও এর আগে জেবিনের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না বলে জানিয়েছেন সে সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা।

তৎকালীন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃস্থানীয়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের একটি বিভাগের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, জেবিন গান গাইতে পারতেন এবং সে সূত্রে ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলার মুখ’ এর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল।

সাবেক ওই ছাত্রলীগ নেতা বলেছেন, ‘জেবিনের মুভমেন্ট এবং আচরণ দেখে সবসময়ই আমার মনে হতো সে পারভেজ মল্লিকের (ছাত্রদল সভাপতি) এজেন্ট হিসেবে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী।’

‘বলতে পারেন, ২০০২ সালে বিরোধী দলে থাকতে অনুপ্রবেশকারী দিয়ে বিএনপির লাভ কী? উত্তরে বলব, এখানেই হাল আমলের ছাত্রলীগের অদূরদর্শিতা। দেখেন এখন জেবিন কী সার্ভিস দিচ্ছে খোদ তারেক রহমানকে।’

মাঠে-ময়দানের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের সভাপতি হতে পেরেছিলেন কীভাবে? দৈনিক আকাশ এর এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে বিব্রত সে সময়কার কেন্দ্রীয় নেতারা। কেউ নাম, পরিচয়সহ মন্তব্য করতে পর্যন্ত রাজি হননি।

জেবিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ তিনি, তার সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং তিনি তাদের পাশে দাঁড়াননি।

জেবিনের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী এবং তার অনুসারীদের ক্যাম্পাসে আসতে দিতেন না জেবিন। তার সবচেয়ে বড় সুবিধা ছিলেন তার প্রেমিক ছিলেন ছাত্রদল নেতা। সে সময়ের অত্যাচারিত ছাত্রলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী এখন তবলীগ জামাতে নাম লিখিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই বা অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার এখন আর যোগাযোগ নেই। একটা ফোন নম্বর পাওয়া গেলেও সেই নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি তারেক রহমান ও তার স্ত্রীকে লন্ডনে ভরা মজলিসে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর সামনে ফুলের তোড়া দিয়ে আলোচনায় এসেছেন জেবিন। খালেদা জিয়াকে প্রশংসা করে রচিত একটি গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন এক সময়ের ছাত্রলীগের একটি শাখার সভাপতি জেবিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, জনপ্রিয় তরুণ লেখিকা শাশ্বতি বিপ্লব ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, ‘তারেক জিয়া নাকি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হইসেন, খুবই সুখবর!! …এখানে অক্সফোর্ড বা তারেক জিয়া না, ফোকাস হইলো ছাত্রলীগ। খাড়ান, বলতেসি। …এই আনন্দযজ্ঞে বিএনপির যে গর্বিত নারীনেত্রীকে দেখতে পাইতেসেন, ওই যে অফ হোয়াইট শাড়ি গায়ে, জ্বি, জ্বি তিনিই, তিনি হইলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি। ভালো না? ’

ছাত্রলীগের একজন সাবেক সভাপতির তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়া নিয়ে বিএনপি এবং ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ভেতরেও রয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ছাত্রদলের একজন সাবেক নেতা দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পারভেজ মল্লিক শুরুতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষের ২৫তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। ওই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ও নারী নির্যাতনের সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন মানিকের কাছের লোক ছিলেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিলনের সঙ্গে মওলানা ভাসানী হলে একই রুমে থাকতেন তিনি।’

‘১৯৯৮ সালে সালে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে মানিক ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত হলে পারভেজকেও হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রদলের ব্যানারে আসেনন তিনি। পরে তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতির সঙ্গে সখ্য করে ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডিঙিয়ে একাধারে দুইবার জাবি ছাত্রদলের সভাপতি বনে যান। ওই সময়ে জাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন মাহবুবা নাজনীন জেবিন। চির প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই সংগঠনের সভাপতিই এখন স্বামী-স্ত্রী। তারা উভয়ে এখন লন্ডনে রয়েছেন। পেশাগত জীবনে কারো কোনো কর্ম না থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।’

‘পারভেজ মল্লিকের সঙ্গে জেবিন তারেক রহমানের বাসায় অবাধ যাতায়াত করেন।’