ঢাকা ০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

মাঠ গরম না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন: বিএনপিকে নাসিম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভার সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কেঁপে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্তি থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘কোটা থাকার দরকার নেই’ বলে দেয়া বক্তব্যের ১৩ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি বিএনপির আন্দোলনের ‘অক্ষমতা’ এবং ছাত্রদের জোরাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন।

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনে পরিবারের সদস্যদের। এরপর থেকে এই কোটা বাতিলের দাবিতে প্রধানত জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরপন্থীদের ইন্ধনে নানা সময় আন্দোলন হয়েছে।

সেসব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা উল্লেখ না করে কোটা সংস্কারের কথা বলে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা সারা দেশেই ছড়িয় যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। এরদিন দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। এমনকি সরকারি চাকরিতে অনীহা থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও রাজপথে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে আন্দোলনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ে বলে তথ্য আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন ৭ মে অবধি স্থগিতের ঘোষণা আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার কর্মসূচিতে ফেরে শিক্ষার্থীরা। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার না করে একেবারে তুলে দেয়ার পক্ষে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সংস্কার করলে আবারও সংস্কারের দাবি উঠবে। এ বিষয়ে অবশ্য এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেদিন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রতিবেদন আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রদের সেই আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যে আন্দোলন করেছিল, আমি কেঁপে উঠেছিলাম। এটা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের যুক্তি ছিল। শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন।’

ছাত্রদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনে থাকা বিএনপির দাবির কোনো ভিত্তি নেই মন্তব্য করে এখানে সরকার কিছুই করবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘খালেদা জিয়া জেলে গেছে সেখানে আমাদের কী করার আছে? আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা তো কোর্টকে বাধ্য করতে পারি না ওনাকে জামিন দেন। এটা তো আদালত অবমাননা হবে।’

বিএনপিকে মাঠ ‘গরম করারও পরামর্শ দেন নাসিম। আর সে কাজ না করে নেতারা ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন’ সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মারণাস্ত্র নয়, কূটনীতিই হোক সংঘাতের পথ: জাতিসংঘে তারেক রহমান

মাঠ গরম না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন: বিএনপিকে নাসিম

আপডেট সময় ১১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভার সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কেঁপে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্তি থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘কোটা থাকার দরকার নেই’ বলে দেয়া বক্তব্যের ১৩ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি বিএনপির আন্দোলনের ‘অক্ষমতা’ এবং ছাত্রদের জোরাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন।

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনে পরিবারের সদস্যদের। এরপর থেকে এই কোটা বাতিলের দাবিতে প্রধানত জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরপন্থীদের ইন্ধনে নানা সময় আন্দোলন হয়েছে।

সেসব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা উল্লেখ না করে কোটা সংস্কারের কথা বলে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা সারা দেশেই ছড়িয় যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। এরদিন দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। এমনকি সরকারি চাকরিতে অনীহা থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও রাজপথে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে আন্দোলনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ে বলে তথ্য আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন ৭ মে অবধি স্থগিতের ঘোষণা আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার কর্মসূচিতে ফেরে শিক্ষার্থীরা। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার না করে একেবারে তুলে দেয়ার পক্ষে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সংস্কার করলে আবারও সংস্কারের দাবি উঠবে। এ বিষয়ে অবশ্য এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেদিন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রতিবেদন আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রদের সেই আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যে আন্দোলন করেছিল, আমি কেঁপে উঠেছিলাম। এটা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের যুক্তি ছিল। শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন।’

ছাত্রদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনে থাকা বিএনপির দাবির কোনো ভিত্তি নেই মন্তব্য করে এখানে সরকার কিছুই করবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘খালেদা জিয়া জেলে গেছে সেখানে আমাদের কী করার আছে? আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা তো কোর্টকে বাধ্য করতে পারি না ওনাকে জামিন দেন। এটা তো আদালত অবমাননা হবে।’

বিএনপিকে মাঠ ‘গরম করারও পরামর্শ দেন নাসিম। আর সে কাজ না করে নেতারা ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন’ সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।