ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সেই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন রাষ্ট্রপতি জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান সালাহউদ্দিন আহমদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নতুন মোড়, ডাক পেতে পারে বাংলাদেশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ ভোট চুরি ও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে হাসিনার পরিণতি হবে, হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না অন্তর্বর্তী সরকার : জ্বালানি উপদেষ্টা বাড়ি এসে তো দেখবে ছেলে-বউয়ের কবর, এই জামিন দিয়ে কী হবে: সাদ্দামের মা কারাবন্দিদের নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তারেক রহমানের জনসভাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার

মাঠ গরম না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন: বিএনপিকে নাসিম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভার সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কেঁপে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্তি থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘কোটা থাকার দরকার নেই’ বলে দেয়া বক্তব্যের ১৩ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি বিএনপির আন্দোলনের ‘অক্ষমতা’ এবং ছাত্রদের জোরাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন।

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনে পরিবারের সদস্যদের। এরপর থেকে এই কোটা বাতিলের দাবিতে প্রধানত জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরপন্থীদের ইন্ধনে নানা সময় আন্দোলন হয়েছে।

সেসব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা উল্লেখ না করে কোটা সংস্কারের কথা বলে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা সারা দেশেই ছড়িয় যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। এরদিন দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। এমনকি সরকারি চাকরিতে অনীহা থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও রাজপথে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে আন্দোলনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ে বলে তথ্য আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন ৭ মে অবধি স্থগিতের ঘোষণা আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার কর্মসূচিতে ফেরে শিক্ষার্থীরা। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার না করে একেবারে তুলে দেয়ার পক্ষে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সংস্কার করলে আবারও সংস্কারের দাবি উঠবে। এ বিষয়ে অবশ্য এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেদিন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রতিবেদন আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রদের সেই আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যে আন্দোলন করেছিল, আমি কেঁপে উঠেছিলাম। এটা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের যুক্তি ছিল। শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন।’

ছাত্রদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনে থাকা বিএনপির দাবির কোনো ভিত্তি নেই মন্তব্য করে এখানে সরকার কিছুই করবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘খালেদা জিয়া জেলে গেছে সেখানে আমাদের কী করার আছে? আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা তো কোর্টকে বাধ্য করতে পারি না ওনাকে জামিন দেন। এটা তো আদালত অবমাননা হবে।’

বিএনপিকে মাঠ ‘গরম করারও পরামর্শ দেন নাসিম। আর সে কাজ না করে নেতারা ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন’ সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা সেই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

মাঠ গরম না করে নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন: বিএনপিকে নাসিম

আপডেট সময় ১১:০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিসভার সদস্য মোহাম্মদ নাসিম কেঁপে উঠেছিলেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যুক্তি থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর ‘কোটা থাকার দরকার নেই’ বলে দেয়া বক্তব্যের ১৩ দিনের মাথায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বুধবার রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান যোগ দিতে যান মন্ত্রী। সেখানে তিনি বিএনপির আন্দোলনের ‘অক্ষমতা’ এবং ছাত্রদের জোরাল আন্দোলনের প্রসঙ্গ টানেন।

সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সংরক্ষিত ৩০ শতাংশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনে পরিবারের সদস্যদের। এরপর থেকে এই কোটা বাতিলের দাবিতে প্রধানত জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরপন্থীদের ইন্ধনে নানা সময় আন্দোলন হয়েছে।

সেসব আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা উল্লেখ না করে কোটা সংস্কারের কথা বলে আন্দোলন শুরু হয় এবং তা সারা দেশেই ছড়িয় যায়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। এরদিন দেশের বিভিন্ন এলাকাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে নেমে আসে। এমনকি সরকারি চাকরিতে অনীহা থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও রাজপথে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এক পর্যায়ে আন্দোলনে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী জড়িয়ে পড়ে বলে তথ্য আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। ৯ এপ্রিল সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর আন্দোলন ৭ মে অবধি স্থগিতের ঘোষণা আসে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই আবার কর্মসূচিতে ফেরে শিক্ষার্থীরা। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার না করে একেবারে তুলে দেয়ার পক্ষে কথা বলেন। তিনি মনে করেন, সংস্কার করলে আবারও সংস্কারের দাবি উঠবে। এ বিষয়ে অবশ্য এখনও প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী সেদিন জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের প্রতিবেদন আসার পর সিদ্ধান্ত হবে।

ছাত্রদের সেই আন্দোলনের কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা যে আন্দোলন করেছিল, আমি কেঁপে উঠেছিলাম। এটা সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলন। তাদের আন্দোলনের যুক্তি ছিল। শেখ হাসিনা তা মেনে নিয়েছেন।’

ছাত্রদের ‘যৌক্তিক’ দাবি মেনে নিলেও আন্দোলনে থাকা বিএনপির দাবির কোনো ভিত্তি নেই মন্তব্য করে এখানে সরকার কিছুই করবে না বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘খালেদা জিয়া জেলে গেছে সেখানে আমাদের কী করার আছে? আদালত তাকে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা তো কোর্টকে বাধ্য করতে পারি না ওনাকে জামিন দেন। এটা তো আদালত অবমাননা হবে।’

বিএনপিকে মাঠ ‘গরম করারও পরামর্শ দেন নাসিম। আর সে কাজ না করে নেতারা ‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমান কেন’ সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।