ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি: জ্বালানিমন্ত্রী ক্ষমতায় যেতে তারা জুলাইকে ব্যবহার করতে চায়: বিএনপি মহাসচিব জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পেয়ে নাহিদ এক দফার ঘোষণা করেছিল: রাশেদ খান কামরাঙ্গীরচরে কারখানায় আগুন এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে ইইউ ও জি৭৭’র সমর্থন পুনর্ব্যক্ত দেশকে গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে : এমপি খোকন হরমুজ প্রণালি সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে: আইইএ প্রধান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী রাজধানীতে পুলিশ কনস্টেবলের ‌‘আত্মহত্যা’

খালেদাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে: জয়নুল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। কালবিলম্ব না করে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তি করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেয়ার জন্যও সরকাররের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বারের বিএনপিপন্থি সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে শয্যাশায়ী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

‘আমরা মনে করি, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়াকে এখানে রেখে অসুস্থ বানিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।’

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপিপন্থি এ আইনজীবী নেতা বলেন, ‘আমরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আস্থাশীল। আশা করি আগামী ৮ মে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সবদিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেবেন।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে বিশেষ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমাও রয়েছেন। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়া দুর্নীতির অপর মামলায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে ওই বোর্ডও তিনি অসুস্থ বলে মতামত দিয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরনো কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি: জ্বালানিমন্ত্রী

খালেদাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে: জয়নুল

আপডেট সময় ০৭:১৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাবন্দি রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। কালবিলম্ব না করে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ইউনাইটেডে ভর্তি করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেয়ার জন্যও সরকাররের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ বারের বিএনপিপন্থি সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে শয্যাশায়ী। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আমরা উদ্বিগ্ন।’

‘আমরা মনে করি, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খালেদা জিয়াকে এখানে রেখে অসুস্থ বানিয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক।’

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির বিষয়টি উল্লেখ করে বিএনপিপন্থি এ আইনজীবী নেতা বলেন, ‘আমরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আস্থাশীল। আশা করি আগামী ৮ মে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সবদিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে জামিন দেবেন।’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পরপরই খালেদা জিয়াকে আদালতের পাশে নাজিমউদ্দিন রোডের লালদালানখ্যাত ২২৮ বছরের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে বিশেষ বন্দির মর্যাদা দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে গৃহকর্মী ফাতেমাও রয়েছেন। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়া দুর্নীতির অপর মামলায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আদালতে হাজির করা হচ্ছে না। তার চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে ওই বোর্ডও তিনি অসুস্থ বলে মতামত দিয়েছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।

২০১৬ সালের ২৯ জুন থেকে ছয় হাজার ৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়ার রাজেন্দ্রপুরের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করে পুরনো কারাগার বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই বছর চার মাস ১০ দিন পর দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এই পরিত্যক্ত কারাগারেই দিন পার করছেন খালেদা জিয়া।