ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি গাজীপুরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২৪ লাখ টাকা ছিনতাই ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ভোট দেখতে বিদেশ থেকে আসবে ৫০০ সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক জনগণকে সাবধানে নেতা বাছাই করার পরামর্শ দিলেন রুমিন ফারহানা বাড়ল মুক্তিযোদ্ধা ভাতা এমপিদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি সুবিধা নেওয়া বন্ধ করতে হবে: হাসনাত আব্দুল্লাহ ‘সাকিবকে খেলার জন্য বিবেচনা করা ক্রিকেট বোর্ডের স্টান্টবাজি,’ বললেন আমিনুল হক কোন ষড়যন্ত্র বিএনপির বিজয় ঠেকাতে পারবে না: দুলু ভালুকায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০

হাসিনা ম্যাডামকে জীবিত মুক্তি দেবেন না: গয়েশ্বর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জীবিত মুক্তি দেবেন না। জেলগেটে তার লাশ ফেরত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় গয়েশ্বর এসব কথা বলেন। ইলিয়াস আলী মুক্তি যুবসংগ্রাম পরিষদ ও ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন কম কথা বলার। কিন্তু কী করব, না বললে তো মনে কথা জমা হয়ে যায়। সে কারণেই বলছি- শেখ হাসিনার অধীনে যদি আগামী নির্বাচনে যাই, তাহলে ২০১৪ সালে কেন গেলাম না? বিগত বছরে যে এত নির্যাতন হলো, নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে এখান কী জবাব দেবেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে। বিএনপিও ওই নির্বাচনে আসবে এ কথা সকাল-বিকাল বলে চলেছেন ওবায়দুল কাদের। আমি জেলে থাকা অবস্থায় শুনেছি, এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি গ্রুপ আমাকে ম্যানেজ করার জন্য জেলেও যাবেন।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিকে পাশ কাটিয়ে। আমরা যদি নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা আদায় করতে পারি, তাহলে আমাদের নেত্রীও মুক্তি পাবেন। তখন খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাব, না তাকে ছাড়া যাব, সেই নির্দেশনাও তিনি আমাদের দেবেন।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘নেত্রী যখন জেলে গেলেন, তখন কে কখন কীভাবে প্রতিবাদ করবেন, তাদের ব্যাপার। যিনি কারাগারের ভেতরে আছেন, তিনি বলে দেবেন কোথায় কীভাবে আন্দোলন করবেন? এই সরকারের আচরণ কেমন, তা কি আমরা কেউ বুঝি না? এই সরকারের বিরুদ্ধে কি চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বের করে আনা যাবে?’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা ঐক্য চাই। তবে সেই ঐক্য মান্নান ভূঁইয়ার মতো ঐক্য নয়। খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে বের করে দিয়ে নয়। আমরা আগামী দিনে নির্বাচনে যাব কি যাব না এটা নিয়ে নানা শর্ত আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু, একটাই শর্ত, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অধীনে।’

‘কারাগারে থাকাকালে পত্রপিত্রকার মাধ্যমে যে আন্দোলন, আমাদের দলের যে অবস্থা দেখলাম তা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি। তার মানে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলেও আমরা নির্বাচনে যাব। আবার বলা হচ্ছে, আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। তাহলে কি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পর আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জনগণের কাছে ম্যাসেজ যাচ্ছে বিএনপির কাছে নির্বাচনটা বড়। খালেদা জিয়ার মুক্তি বড় নয়। তাহলে সরকার কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে? তারা অপেক্ষায় আছে যেকোনো কায়দায় বিএনপিকে নির্বাচনে আনার। কারণ বিএনপিকে যদি যেকোনোভাবে নির্বাচনে নামানো যায়, তাহলে আগের নির্বাচন ও আগামী নির্বাচনের বৈধতা আদায় হয়ে যাবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘ইতিহাস বলে আন্দোলনে যারা শিরোপা পায়, তারাই নির্বাচনে জয় লাভ করে। আন্দোলনে জয় হলে নির্বাচনে জয়ের প্রেক্ষাপট এমনিতেই তৈরি হয়ে যায়। সব আসন পেলেই ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তার জন্য আন্দোলন করতে হয়। তাহলে সেই আন্দোলন কি নির্বাচনের পরে করবেন নাকি আগে করবেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। কিন্তু জনগণের আদালতে খালেদা জিয়া নির্দোষ। অতএব, তার মুক্তির আন্দোলনের জন্য জনগণ প্রস্তুত। আগামীতে কৌশল হবে একটাই। তা হলো আন্দোলনে মাঠে নামা। আন্দোলন বাদ দিয়ে যদি আমরা হাসিনার অধীনে যদি নির্বাচনে যাই, তাহলে মানুষ বেইমান বলবে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘নিরামিষ খাওয়া ভালো। তবে সব বয়সীর জন্য ভালো নয়। আমাদের দাবি, একটা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার চাই। হাসিনা-মার্কা কোনো সরকার চাই না। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার হলে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। কারণ মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীসহ যারা সাজাপ্রাপ্ত আছেন, তারা যদি নির্বাচন করতে পারেন তাহলে খালেদা জিয়াও নির্বাচন করতে পারবেন।’

ইলিয়াস আলী মুক্তি যুবসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সফু।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

হাসিনা ম্যাডামকে জীবিত মুক্তি দেবেন না: গয়েশ্বর

আপডেট সময় ০৮:১২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘আন্দোলন করে সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে শেখ হাসিনা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে জীবিত মুক্তি দেবেন না। জেলগেটে তার লাশ ফেরত নিতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় গয়েশ্বর এসব কথা বলেন। ইলিয়াস আলী মুক্তি যুবসংগ্রাম পরিষদ ও ইলিয়াস মুক্তি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমি জেল থেকে বের হওয়ার পর অনেকেই পরামর্শ দিয়েছেন কম কথা বলার। কিন্তু কী করব, না বললে তো মনে কথা জমা হয়ে যায়। সে কারণেই বলছি- শেখ হাসিনার অধীনে যদি আগামী নির্বাচনে যাই, তাহলে ২০১৪ সালে কেন গেলাম না? বিগত বছরে যে এত নির্যাতন হলো, নেতাকর্মী ও জনগণের কাছে এখান কী জবাব দেবেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে সব দলের অংশগ্রহণে। বিএনপিও ওই নির্বাচনে আসবে এ কথা সকাল-বিকাল বলে চলেছেন ওবায়দুল কাদের। আমি জেলে থাকা অবস্থায় শুনেছি, এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি গ্রুপ আমাকে ম্যানেজ করার জন্য জেলেও যাবেন।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আজকে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, আমাদের নেত্রীর মুক্তির দাবিকে পাশ কাটিয়ে। আমরা যদি নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা আদায় করতে পারি, তাহলে আমাদের নেত্রীও মুক্তি পাবেন। তখন খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে যাব, না তাকে ছাড়া যাব, সেই নির্দেশনাও তিনি আমাদের দেবেন।’

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘নেত্রী যখন জেলে গেলেন, তখন কে কখন কীভাবে প্রতিবাদ করবেন, তাদের ব্যাপার। যিনি কারাগারের ভেতরে আছেন, তিনি বলে দেবেন কোথায় কীভাবে আন্দোলন করবেন? এই সরকারের আচরণ কেমন, তা কি আমরা কেউ বুঝি না? এই সরকারের বিরুদ্ধে কি চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বের করে আনা যাবে?’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমরা ঐক্য চাই। তবে সেই ঐক্য মান্নান ভূঁইয়ার মতো ঐক্য নয়। খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে বের করে দিয়ে নয়। আমরা আগামী দিনে নির্বাচনে যাব কি যাব না এটা নিয়ে নানা শর্ত আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু, একটাই শর্ত, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার অধীনে।’

‘কারাগারে থাকাকালে পত্রপিত্রকার মাধ্যমে যে আন্দোলন, আমাদের দলের যে অবস্থা দেখলাম তা হলো খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি। তার মানে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলেও আমরা নির্বাচনে যাব। আবার বলা হচ্ছে, আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। তাহলে কি নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার পর আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জনগণের কাছে ম্যাসেজ যাচ্ছে বিএনপির কাছে নির্বাচনটা বড়। খালেদা জিয়ার মুক্তি বড় নয়। তাহলে সরকার কেন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবে? তারা অপেক্ষায় আছে যেকোনো কায়দায় বিএনপিকে নির্বাচনে আনার। কারণ বিএনপিকে যদি যেকোনোভাবে নির্বাচনে নামানো যায়, তাহলে আগের নির্বাচন ও আগামী নির্বাচনের বৈধতা আদায় হয়ে যাবে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, ‘ইতিহাস বলে আন্দোলনে যারা শিরোপা পায়, তারাই নির্বাচনে জয় লাভ করে। আন্দোলনে জয় হলে নির্বাচনে জয়ের প্রেক্ষাপট এমনিতেই তৈরি হয়ে যায়। সব আসন পেলেই ক্ষমতায় যাওয়া যায় না। তার জন্য আন্দোলন করতে হয়। তাহলে সেই আন্দোলন কি নির্বাচনের পরে করবেন নাকি আগে করবেন?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘আদালত খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। কিন্তু জনগণের আদালতে খালেদা জিয়া নির্দোষ। অতএব, তার মুক্তির আন্দোলনের জন্য জনগণ প্রস্তুত। আগামীতে কৌশল হবে একটাই। তা হলো আন্দোলনে মাঠে নামা। আন্দোলন বাদ দিয়ে যদি আমরা হাসিনার অধীনে যদি নির্বাচনে যাই, তাহলে মানুষ বেইমান বলবে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘নিরামিষ খাওয়া ভালো। তবে সব বয়সীর জন্য ভালো নয়। আমাদের দাবি, একটা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার চাই। হাসিনা-মার্কা কোনো সরকার চাই না। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার হলে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন। কারণ মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীসহ যারা সাজাপ্রাপ্ত আছেন, তারা যদি নির্বাচন করতে পারেন তাহলে খালেদা জিয়াও নির্বাচন করতে পারবেন।’

ইলিয়াস আলী মুক্তি যুবসংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবীর খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সফু।