ঢাকা ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন ভিসা চালুর ঘোষণা: স্বাগত জানাল পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ও বিধায়করা ফ্যামিলি কার্ড আপনাকে খুঁজতে হবে না, পৌঁছে যাবে আপনার দোরগোড়ায়’ মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর চট্টগ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ৪ জনের বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলবে: আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেশবাসীকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের শুভেচ্ছা টাঙ্গাইলে ‘জনতার সংযোগ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে সরকার: আমান উল্লাহ আমান

সমঝোতার পর নতুন আন্দোলনে অন্য কিছু: এইচ টি ইমাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে কর্মসূচি শুরুর পেছনে ‘অন্য কিছু’ আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈরতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সভা শেষে এসব কথা সাবেক এই আমলা।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলনে ছিল শিক্ষার্থীরা।

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ব্যানারে আন্দোলনে গত রবিবার শাহবাগ এলাকা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। আর পরদিন ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। আর সেদিন বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে বসে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ২০ নেতা।

বৈঠকে কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দেন কাদের। এরপর ৭ মের অবধি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে।

তবে সেদিনই আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি আসে। কর্মসূচি স্থগিত করা নেতাদেরকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পাল্টা কমিটির ঘোষণা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।

আর মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে কেউ আন্দোলনে, কেউ ক্লাসে ফেরে। কেউ আবার সড়ক অবরোধ করতে যায়। এর মধ্যে যারা সচরাচর সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দেয় না, সেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তা অবরোধ করে রাজধানীতে।

আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, তিনিও কোটা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তবে এই আগামী বাজেটের আগে এটা করা সম্ভব না।

পুরো বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আবার কর্মসূচিতে ফিরে যায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া ঘরে না ফেরার কথাও বলেন নেতারা্

আগের দিন সমঝোতার পরদিনই নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণায় বিস্মিত এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) ছাত্রদের প্রতিনিধিদল আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছেন। সেখানে একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে নতুন কিছু করা হবে। এরপরে আর আন্দোলন করার কিছু নেই। এখানে অন্য কিছু আছে।’

‘কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য উল্লেখ করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘পরিবর্তনশীল জগতে আমাদের বিবর্তন হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার হার বাড়ছে, মেয়েরা শিক্ষায় অনেকেই এসেছে। এসবগুলো নিয়েই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) নির্দেশ দিয়েছেন যে কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখার জন্য।’

‘যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন ছাত্ররা করতেই পারে। এর প্রতি আমাদের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। সরকারের তো একেবারেই নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট মিটিংয়ে গতকালই (সোমবার) বলেছেন এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য। এর আগে জনপ্রশাসন থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের ভবনা ঠিক নয়।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত মার্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে এখন থেকে কোনো পদ খালি রাখা হবে না। আর এই সিদ্ধান্ত গত তিনটি বিসিএসের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মেধা তালিকা থেকে ৪৪ শতাংশের বদলে ৬৭ থেকে ৭৭ শতাংশের বেশি নিয়োগ হয়েছে।

তবে গত ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের ভাষা নিয়েই মূলত সাম্প্রতিক উত্তেজনার শুরু। এই আদেশে বলা হয়, কোনো কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অন্য কোটা থেকে পূরণ করা হবে। আর সেটাও পাওয়া না গেলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে চাকরি পাবে নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কোটা বা কোটা থেকে যদি পূরণ না হয় তাহলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। যেখানে সবাই আসতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এখানে যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি থাকে তাহলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে। সেজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। বলেন, ‘যে হামলা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। অবশ্যই ধিক্কার জানানোর মত।’

‘যারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে তাদের যদি সৎসাহস থাকে তাহলে তারা মুখোশ পরে যাবে কেন? অবশ্যই এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে।’

ভিসির বাড়িতে হামলায় বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন

এদিকে উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় বিএনপি জামায়াতের ইন্ধন ছিলো বলে অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

‘আজকে বিএনপির বিবৃতির মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়েছে যে এতে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে। এখানে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।’

‘যেখানে সরকারের প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেছেন, আলাপ-আলোচনা করেছেন। এরপর ভিসির বাসভবনে হামলা এটাই প্রমাণ করে- ইতিপূর্বে যারা পেট্রল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে পুডিয়ে হত্যা করেছে, মানুষকে আগুন দিয়ে জ্বলিয়ে দিয়েছে তারাই সেখানে ঢুকে এই নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওযায় আগামী ১৫ এপ্রিল দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির পক্ষ থেকে একটি সেমিনার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপ-কমিটির সদস্য আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চীন ও মালয়েশিয়া ঐকমত্য পোষণ করেছে: মাহদী আমিন

সমঝোতার পর নতুন আন্দোলনে অন্য কিছু: এইচ টি ইমাম

আপডেট সময় ১১:৫৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিতের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে কর্মসূচি শুরুর পেছনে ‘অন্য কিছু’ আছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈরতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সভা শেষে এসব কথা সাবেক এই আমলা।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলনে ছিল শিক্ষার্থীরা।

‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ব্যানারে আন্দোলনে গত রবিবার শাহবাগ এলাকা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এরপর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারীদের। আর পরদিন ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। আর সেদিন বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকে বসে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ ২০ নেতা।

বৈঠকে কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস দেন কাদের। এরপর ৭ মের অবধি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আসে।

তবে সেদিনই আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভক্তি আসে। কর্মসূচি স্থগিত করা নেতাদেরকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে পাল্টা কমিটির ঘোষণা দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো।

আর মঙ্গলবার থেকে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে কেউ আন্দোলনে, কেউ ক্লাসে ফেরে। কেউ আবার সড়ক অবরোধ করতে যায়। এর মধ্যে যারা সচরাচর সরকারি চাকরির জন্য পরীক্ষা দেয় না, সেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাস্তা অবরোধ করে রাজধানীতে।

আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, তিনিও কোটা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে। তবে এই আগামী বাজেটের আগে এটা করা সম্ভব না।

পুরো বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আবার কর্মসূচিতে ফিরে যায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া ঘরে না ফেরার কথাও বলেন নেতারা্

আগের দিন সমঝোতার পরদিনই নতুন করে আন্দোলনের ঘোষণায় বিস্মিত এইচ টি ইমাম। তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) ছাত্রদের প্রতিনিধিদল আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছেন। সেখানে একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে নতুন কিছু করা হবে। এরপরে আর আন্দোলন করার কিছু নেই। এখানে অন্য কিছু আছে।’

‘কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য উল্লেখ করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘পরিবর্তনশীল জগতে আমাদের বিবর্তন হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার হার বাড়ছে, মেয়েরা শিক্ষায় অনেকেই এসেছে। এসবগুলো নিয়েই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল (সোমবার) নির্দেশ দিয়েছেন যে কোটা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখার জন্য।’

‘যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন ছাত্ররা করতেই পারে। এর প্রতি আমাদের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। সরকারের তো একেবারেই নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট মিটিংয়ে গতকালই (সোমবার) বলেছেন এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য। এর আগে জনপ্রশাসন থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তা নিয়েও শিক্ষার্থীদের ভবনা ঠিক নয়।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত মার্চে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে এখন থেকে কোনো পদ খালি রাখা হবে না। আর এই সিদ্ধান্ত গত তিনটি বিসিএসের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ায় সাধারণ মেধা তালিকা থেকে ৪৪ শতাংশের বদলে ৬৭ থেকে ৭৭ শতাংশের বেশি নিয়োগ হয়েছে।

তবে গত ৫ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের এক আদেশের ভাষা নিয়েই মূলত সাম্প্রতিক উত্তেজনার শুরু। এই আদেশে বলা হয়, কোনো কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অন্য কোটা থেকে পূরণ করা হবে। আর সেটাও পাওয়া না গেলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে চাকরি পাবে নিয়োগপ্রত্যাশীরা।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কোটা বা কোটা থেকে যদি পূরণ না হয় তাহলে সাধারণ মেধা তালিকা থেকে পূরণ করা হবে। যেখানে সবাই আসতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এখানে যদি কোনো ভুল-ভ্রান্তি থাকে তাহলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে। সেজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।’

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। বলেন, ‘যে হামলা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্ট। অবশ্যই ধিক্কার জানানোর মত।’

‘যারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে তাদের যদি সৎসাহস থাকে তাহলে তারা মুখোশ পরে যাবে কেন? অবশ্যই এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে।’

ভিসির বাড়িতে হামলায় বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন

এদিকে উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় বিএনপি জামায়াতের ইন্ধন ছিলো বলে অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

‘আজকে বিএনপির বিবৃতির মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়েছে যে এতে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে। এখানে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।’

‘যেখানে সরকারের প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেছেন, আলাপ-আলোচনা করেছেন। এরপর ভিসির বাসভবনে হামলা এটাই প্রমাণ করে- ইতিপূর্বে যারা পেট্রল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষকে পুডিয়ে হত্যা করেছে, মানুষকে আগুন দিয়ে জ্বলিয়ে দিয়েছে তারাই সেখানে ঢুকে এই নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওযায় আগামী ১৫ এপ্রিল দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির পক্ষ থেকে একটি সেমিনার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপ-কমিটির সদস্য আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।