ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক বিকালে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিকাল সাড়ে চারটায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হবে।

দুপুরে কাদেরের মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়ালিদ গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ওয়ালিদ জানান, এই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে ডাকা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলও। বিকাল চারটায় সচিবালয়ে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ১৪ দলের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

এরপর বিকাল পাঁচটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন পরিদর্শন করবেন। গত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে এই বাসভবনে ব্যাপক হামলা হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোটা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পারিবারের জন্য ৩০ শতাংশ। এর বাইরে ১০ শতাংশ নারী কোটা, পশ্চাদপদ জেলার জন্য ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ কোটা আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য।

বাংলাদেশে নানা সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে সরকারের শেষ বছরে আন্দোলন হয়েছে। শুরুর দিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি সামনে নিয়ে এসেছিল আন্দোলনকারীরা। তবে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর চলতি বছর এই দাবিটির বদলে কোটা সংস্কারের দাবি তুলছে আন্দোলনকারীরা। আর তারা কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসার কথা বলছে।

এতদিন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও ৭ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের তুলে দিতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পর রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রাতেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে কোনো পদ খালি রাখা হবে না। সে ক্ষেত্রে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোটার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর জন্য কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে। এটি চালু থাকবে।

গত ২১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান জানিয়ে দেয়ার পরও অবশ্য বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে নারাজ। তারা তাদের দাবির বিষয়ে সরকার প্রধানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কাদেরের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক বিকালে

আপডেট সময় ০৪:০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিকাল সাড়ে চারটায় সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই বৈঠক হবে।

দুপুরে কাদেরের মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মো. ওয়ালিদ গণমাধ্যমকর্মীদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ওয়ালিদ জানান, এই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে ডাকা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলও। বিকাল চারটায় সচিবালয়ে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ১৪ দলের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

এরপর বিকাল পাঁচটায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন পরিদর্শন করবেন। গত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে এই বাসভবনে ব্যাপক হামলা হয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোটা রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পারিবারের জন্য ৩০ শতাংশ। এর বাইরে ১০ শতাংশ নারী কোটা, পশ্চাদপদ জেলার জন্য ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ কোটা আছে প্রতিবন্ধীদের জন্য।

বাংলাদেশে নানা সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে সরকারের শেষ বছরে আন্দোলন হয়েছে। শুরুর দিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবি সামনে নিয়ে এসেছিল আন্দোলনকারীরা। তবে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর চলতি বছর এই দাবিটির বদলে কোটা সংস্কারের দাবি তুলছে আন্দোলনকারীরা। আর তারা কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসার কথা বলছে।

এতদিন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও ৭ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগ এলাকা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখার পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভকারীদের তুলে দিতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পর রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

রাতেই আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন।

দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে কোনো পদ খালি রাখা হবে না। সে ক্ষেত্রে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কোটার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর জন্য কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে। এটি চালু থাকবে।

গত ২১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থান জানিয়ে দেয়ার পরও অবশ্য বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি থেকে সরে আসতে নারাজ। তারা তাদের দাবির বিষয়ে সরকার প্রধানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা চান।