অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হটাতে পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং পরে গুলিতে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে পুলিশের সদস্যও রয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখার সময়ও (রাত সাড়ে ১১টা) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ চলছিল। গুলির শব্দ শোনা যায় বলে জানান আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারা চারুকলা থেকে টিএসএসসি পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান নেন।
এদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, শতাধিক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আর পুলিশ বলছে, তারা ৯ জনকে আটক করেছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, শাহবাগ থেকে তাড়িয়ে দিয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। তারা এর বিচার দাবি করে বলছেন, অন্যথায় তারা ফিরে যাবেন না।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাবার বুলেটে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিত (তৃতীয় বর্ষ) নামের একজন শিক্ষার্থী। এর আগে আরও একজনের চোখে গুলি লাগে। তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
আমাদের ঢাবি প্রতিনিধি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহতদের মধ্যে ১১ জনের নাম জানতে পেরেছেন তিনি। তারা হলেন সূর্যসেন হলের রাফি আলামিন (২৫), আকরাম হোসেন (২৬), বঙ্গবন্ধু হলের আবু বকর সিদ্দিক (২২), বিজয় ৭১ হলের মাহিন (২২), আসলাম (২২); জসীম উদ্দীন হলের মো. রফিক (২৪), শহীদ জিয়া হলের মাহফুজুর রহমান (২৭), রাজ (২৪), সোহেল (২৪), জহিরুল হক হলের ওমর ফারুক (২৫) ও খোরশেদ আলম (২৭)।
শাহবাগ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক ইদ্রিস আলী দৈনিক আকাশকে জানান, পুলিশ নয়জনকে আটক করেছে। তবে তাদের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখপাত্র হাসান আল মামুন দৈনিক আকাশকে জানান, পুলিশ তাদের ১০০ জনের মতো সহপাঠীকে আটক করেছে।
রবিবার বিকাল তিনটা ২৫ মিনিট থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা কোটা সংস্কারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। শাহবাগ মোড় অবরোধের কারণে সন্নিহিত বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ আন্দোলনকারীদের সড়ক ছেড়ে দিতে বললে তারা জানায় সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা সরবেন না।
রাত পৌনে আটটার দিকে পুলিশ লাটিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। ছত্রভঙ্গ শিক্ষার্থীরা ঢাবির টিএসসি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















