ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মাস্তান আমি: মন্ত্রী মঞ্জু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতবারের মতো অকাল বন্যায় হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেছেন, এবার বাঁধ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাকার পাশাপাশি ‘মাস্তানও’ দিয়েছেন আর তিনি নিজে হলেন প্রথম মাস্তান।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে এক মত বিনিময় সভায় বাঁধ রক্ষায় কঠোর নজরদারির বিষয়টি বুঝাতে মাস্তানের এই উপমা ব্যবহার করেন মন্ত্রী।

এমনিতে মাস্তান বলতে সন্ত্রাসী বুঝালেও মন্ত্রী বুঝান, তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ করতে এবং যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আছেন।

২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জে হাওরে অকাল বন্যায় হাওরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে হাওর এলাকায় দেয়া বাঁধ উপচে পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ফসলের প্রায় সব। আর এই ক্ষতি আর সামাল দেয়া যায়নি। আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় চালের দাম।

হাওরে বাঁধ আট মিটার উঁচু করা হলেও গতবার পানি এসেছে ১২ থেকে ১৪ মিটার। আবার বাঁধ উপচে আসার আগেই পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙেছে। বাঁধ না ভাঙলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কম হতো। আর এই বাঁধ ভাঙার পর সে সময় বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপার হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে ভবিষ্যতে আরও মজবুত করে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নির্মাণকাজে দুর্নীতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন।

এরই মধ্যে হাওরের ধান কাটার পর্যায়ে চলে এসেছে আর এর আগে বাঁধ নিয়ে গতবারের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী গেলেন সুনামগঞ্জে।

গতবার অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আর বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মঞ্জু ছিলেন পরিবেল ও বন মন্ত্রণালয়ে। তবে গত জানুয়ারিতে তাদের দপ্তর বদল হয়।

হাওরের কৃষক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এই মতবিনিময় করতেই মঞ্জু যান সুনামগঞ্জে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকাও দিয়েছেন, মাস্তানও পাঠিয়েছেন। প্রথম মাস্তান আমি, এরপর সচিব, আর প্রতিমন্ত্রী তো আছেনই।’

‘আমরা সকলে মিলেই চেষ্টা করেছি হাওরের বাঁধগুলো নির্মাণের মাধ্যমে ফসল রক্ষা করার জন্য। আমি আপনাদের বলেছিলাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব, সেটি সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি।’

বাঁধ মেরামতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের পক্ষে যেটুকু করা সম্ভব, সেটুকু করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনিটরিং ও নির্দেশে এবার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য কাজ করা হয়েছে।’

‘কৃষকরা ২০ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে নিতে পারবেন’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় সকলেই বলেছেন বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে এখানকার মানুষের ধারণা ছিল, বর্ষার আগে টাকা দেয়, তিন মাসে সেই টাকা শেষ করে নেয়। এবার সেই দুর্নাম ঘুঁচানোর চেষ্টা হয়েছে।’

হাওরের কৃষকদের বিআর-২৮ সহ যেসব ধান কম সময়ে পাকে, সেগুলো চাল করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। বলেন, তাহলে আগাম বন্যা হলেও ফসল রক্ষা পাবে। বলেন, ‘বেশি ফলন পাবার আশায় বেশি দিনে পাকে এমন জুয়া খেলা থেকে রক্ষা পেতে হবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ হোসেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন তথ্য: অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মাস্তান আমি: মন্ত্রী মঞ্জু

আপডেট সময় ১০:১৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গতবারের মতো অকাল বন্যায় হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি বলেছেন, এবার বাঁধ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টাকার পাশাপাশি ‘মাস্তানও’ দিয়েছেন আর তিনি নিজে হলেন প্রথম মাস্তান।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে এক মত বিনিময় সভায় বাঁধ রক্ষায় কঠোর নজরদারির বিষয়টি বুঝাতে মাস্তানের এই উপমা ব্যবহার করেন মন্ত্রী।

এমনিতে মাস্তান বলতে সন্ত্রাসী বুঝালেও মন্ত্রী বুঝান, তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় শক্তি প্রয়োগ করতে এবং যে কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আছেন।

২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জে হাওরে অকাল বন্যায় হাওরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ঠেকাতে হাওর এলাকায় দেয়া বাঁধ উপচে পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায় ফসলের প্রায় সব। আর এই ক্ষতি আর সামাল দেয়া যায়নি। আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় চালের দাম।

হাওরে বাঁধ আট মিটার উঁচু করা হলেও গতবার পানি এসেছে ১২ থেকে ১৪ মিটার। আবার বাঁধ উপচে আসার আগেই পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙেছে। বাঁধ না ভাঙলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও কম হতো। আর এই বাঁধ ভাঙার পর সে সময় বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তোলপার হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে ভবিষ্যতে আরও মজবুত করে বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নির্মাণকাজে দুর্নীতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অঙ্গীকার করেন।

এরই মধ্যে হাওরের ধান কাটার পর্যায়ে চলে এসেছে আর এর আগে বাঁধ নিয়ে গতবারের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী গেলেন সুনামগঞ্জে।

গতবার অবশ্য এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। আর বর্তমানে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মঞ্জু ছিলেন পরিবেল ও বন মন্ত্রণালয়ে। তবে গত জানুয়ারিতে তাদের দপ্তর বদল হয়।

হাওরের কৃষক ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে বাঁধ নির্মাণ নিয়ে এই মতবিনিময় করতেই মঞ্জু যান সুনামগঞ্জে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য টাকাও দিয়েছেন, মাস্তানও পাঠিয়েছেন। প্রথম মাস্তান আমি, এরপর সচিব, আর প্রতিমন্ত্রী তো আছেনই।’

‘আমরা সকলে মিলেই চেষ্টা করেছি হাওরের বাঁধগুলো নির্মাণের মাধ্যমে ফসল রক্ষা করার জন্য। আমি আপনাদের বলেছিলাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুনামগঞ্জে নিয়ে আসব, সেটি সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি।’

বাঁধ মেরামতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের পক্ষে যেটুকু করা সম্ভব, সেটুকু করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর মনিটরিং ও নির্দেশে এবার হাওর রক্ষা বাঁধের জন্য কাজ করা হয়েছে।’

‘কৃষকরা ২০ এপ্রিলের মধ্যে ধান কেটে ঘরে নিতে পারবেন’ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় সকলেই বলেছেন বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিয়ে এখানকার মানুষের ধারণা ছিল, বর্ষার আগে টাকা দেয়, তিন মাসে সেই টাকা শেষ করে নেয়। এবার সেই দুর্নাম ঘুঁচানোর চেষ্টা হয়েছে।’

হাওরের কৃষকদের বিআর-২৮ সহ যেসব ধান কম সময়ে পাকে, সেগুলো চাল করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী। বলেন, তাহলে আগাম বন্যা হলেও ফসল রক্ষা পাবে। বলেন, ‘বেশি ফলন পাবার আশায় বেশি দিনে পাকে এমন জুয়া খেলা থেকে রক্ষা পেতে হবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময়ে আরও বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব কবির বিন আনোয়ার, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামছুন নাহার বেগম শাহানা, অতিরিক্ত সচিব ইউসুফ হোসেন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আলী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী আবুল কালাম প্রমুখ।