ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজোর হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সোনালী যুগের জনপ্রিয় অভিনেতা জাভেদ আর নেই শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিয়ে স্ত্রীর আবেগঘন পোস্ট ফুটবল প্রতীক পেলেন তাসনিম জারা শত বছরের দিকনির্দেশনা দেবে গণভোট: আদিলুর রহমান খান ‘মন্ত্রী হলে পরে হব, নির্বাচন ছাড়ব না’ জিয়াউর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার মাধ্যমে বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল: খন্দকার মোশাররফ ৮ জেলায় ডিজিটাল জামিননামা (ই-বেইলবন্ড) উদ্বোধন করলেন আইন উপদেষ্টা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আইসিসিকে নতুন বার্তা পিসিবির ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় খনন হচ্ছে পাঁচ খাল

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরনো খালগুলো দখলমুক্ত করতে না পারলেও পাঁচটি খাল খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মালিকানা জমিও অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর খাল খননে ভেঙে ফেলা হবে বহুতল স্থাপনাও। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি টাকার কিছু বেশি, যার বাস্তবায়ন হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের সভায় এ বিষয়ে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। চলতি বছরেই এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এসব খাল খননে আবকাঠামোর (ঘরবাড়ি/ভবন ইত্যাদি) জন্যও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে সেটি বুঝাতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ নিয়েছেন প্রকল্প এলাকায় কারও ১০ তলা ভবন পড়লে তাও ভেঙে ফেলার।’

২০১৭ সালে বছরজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতার সমস্যা তীব্র হয়। পানি নিষ্কাষণ ক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি বৃষ্টির পানি সরতে না পাড়ায় সড়ক এবং লোকালায় পানি জমে পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করে। এতে সরকারকে ব্যাপক চাপে পড়তে হয়।

আর ওই বছরই চলতি ২০১৮ সালে এই ধরনের পরিস্থিতি হবে না বলে অঙ্গীকার করা হয়। আর এ সময়ের মধ্যে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় একটি বড় খাল খননের কাজ করছে সেনাবাহিনী। এর বাইরে এখন অবধি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫৮টি খাল চিহ্নিত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩৭টি খালের অংশবিশেষ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) তিনটি সরকারি ও সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং ২৪৮ জন ব্যক্তি দখল করে নিয়েছে। ফলে খালগুলোর প্রবাহ আর স্বাভাবিক নেই।

এই খালগুলো দখলমুক্ত করতে গত অক্টোবরে নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এই অভিযানের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। এর মধ্যেই নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হলো।

যে পাঁচ খাল খনন হবে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত মান্ডা, সবুজবাগ, বাসাবো ও হাজারীবাগ এবং উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) মিরপুর, পল্লবী, বাড্ডা ও রামপুরা থানা এলাকায় খনন করা হবে খালগুলো।

‘হাজারিবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মান্ডা ও বেগুনবাড়ী খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন/ পুন:খনন’ নামে নেয়া প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা ওয়াসা এটি বাস্তবায়িত করবে। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৮ থেকে চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

এসব খাল খননে সরকারি জমির বাইরে ৩০ দশমিক ৫৬২ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও অধিগ্রগণ করতে হবে। এর মধ্যে হাজারিবাগ খাল খননে ৪ দশমিক ৩৫৫ একর; বাইশটেকী এবং সাংবাদিক কলোনি খাল খননে ৬ দশমিক ৩৮৫ একর; কুর্মিটোলা খাল ৪ খননে দশমিক ৬১৩ একর, বেগুনবাড়ী খাল খননে ১ দশমিক ৯০৫ একর এবং মান্ডা খাল খননে ১৩ দশমিক ৩০৪ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

প্রকল্পের পটভূমি

প্রকল্পের পটভুমিতে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪৪টি খাল, ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট ও বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাষণ হয় মহানগরে।

‘কিছু খাল বর্তমানে নগরবাসীর ব্যক্তিগত জমির মাধ্যমেও প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে ঢাকা ওয়াসার আইনগত কোন কর্তৃত্ব নেই। এতে করে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা যে কোন সময় তাদের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছামাফিক ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নগরীর সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুর্মিটোলা এলাকা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য বিমানবাহিনী ঢাকা ওয়াসাকে অনুরোধ জানায় বলেও প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়।

এতে বলা হয়, হাজারীবাগ খাল, বাইশটেকি খাল, মান্ডা খাল এবং বেগুনবাড়ি খালগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহন করে সংস্কার করা জরুরি প্রয়োজন।

বর্জ্য পানি এবং বৃষ্টির পানি যাতে এসব খাল দিয়ে সহজে নেমে যেতে পারে, সেজন্য বাইশটেকি খালের ভাটিতে সাংবাদিক কলোনি খালের পরে একটি খাল এবং মান্ডা ও বেগুনবাড়ি খাল চওড়া করা প্রয়োজন।

এছাড়া হাজারীবাগ খালের উজানে ও ভাটিতে কুর্মিটোলা নামে একটি নতুন খাল খননের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় খনন হচ্ছে পাঁচ খাল

আপডেট সময় ১১:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরনো খালগুলো দখলমুক্ত করতে না পারলেও পাঁচটি খাল খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য মালিকানা জমিও অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর খাল খননে ভেঙে ফেলা হবে বহুতল স্থাপনাও। প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি টাকার কিছু বেশি, যার বাস্তবায়ন হবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকের সভায় এ বিষয়ে একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। চলতি বছরেই এই প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এসব খাল খননে আবকাঠামোর (ঘরবাড়ি/ভবন ইত্যাদি) জন্যও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে সেটি বুঝাতে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ নিয়েছেন প্রকল্প এলাকায় কারও ১০ তলা ভবন পড়লে তাও ভেঙে ফেলার।’

২০১৭ সালে বছরজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতার সমস্যা তীব্র হয়। পানি নিষ্কাষণ ক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি বৃষ্টির পানি সরতে না পাড়ায় সড়ক এবং লোকালায় পানি জমে পরিস্থিতি শোচনীয় আকার ধারণ করে। এতে সরকারকে ব্যাপক চাপে পড়তে হয়।

আর ওই বছরই চলতি ২০১৮ সালে এই ধরনের পরিস্থিতি হবে না বলে অঙ্গীকার করা হয়। আর এ সময়ের মধ্যে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় একটি বড় খাল খননের কাজ করছে সেনাবাহিনী। এর বাইরে এখন অবধি দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫৮টি খাল চিহ্নিত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ৩৭টি খালের অংশবিশেষ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) তিনটি সরকারি ও সাতটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং ২৪৮ জন ব্যক্তি দখল করে নিয়েছে। ফলে খালগুলোর প্রবাহ আর স্বাভাবিক নেই।

এই খালগুলো দখলমুক্ত করতে গত অক্টোবরে নির্দেশ দিয়েছিল উচ্চ আদালত। এই অভিযানের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। এর মধ্যেই নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হলো।

যে পাঁচ খাল খনন হবে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত মান্ডা, সবুজবাগ, বাসাবো ও হাজারীবাগ এবং উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) মিরপুর, পল্লবী, বাড্ডা ও রামপুরা থানা এলাকায় খনন করা হবে খালগুলো।

‘হাজারিবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মান্ডা ও বেগুনবাড়ী খালে ভূমি অধিগ্রহণ এবং খনন/ পুন:খনন’ নামে নেয়া প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা ওয়াসা এটি বাস্তবায়িত করবে। প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৮ থেকে চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

এসব খাল খননে সরকারি জমির বাইরে ৩০ দশমিক ৫৬২ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও অধিগ্রগণ করতে হবে। এর মধ্যে হাজারিবাগ খাল খননে ৪ দশমিক ৩৫৫ একর; বাইশটেকী এবং সাংবাদিক কলোনি খাল খননে ৬ দশমিক ৩৮৫ একর; কুর্মিটোলা খাল ৪ খননে দশমিক ৬১৩ একর, বেগুনবাড়ী খাল খননে ১ দশমিক ৯০৫ একর এবং মান্ডা খাল খননে ১৩ দশমিক ৩০৪ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

প্রকল্পের পটভূমি

প্রকল্পের পটভুমিতে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৪৪টি খাল, ১০ কিলোমিটার বক্স কালভার্ট ও বিভিন্ন সংস্থার কয়েক হাজার কিলোমিটার পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাষণ হয় মহানগরে।

‘কিছু খাল বর্তমানে নগরবাসীর ব্যক্তিগত জমির মাধ্যমেও প্রবাহিত হচ্ছে, যেখানে ঢাকা ওয়াসার আইনগত কোন কর্তৃত্ব নেই। এতে করে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা যে কোন সময় তাদের জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেদের ইচ্ছামাফিক ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রে নগরীর সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।’

কুর্মিটোলা এলাকা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য বিমানবাহিনী ঢাকা ওয়াসাকে অনুরোধ জানায় বলেও প্রকল্পের পটভূমিতে বলা হয়।

এতে বলা হয়, হাজারীবাগ খাল, বাইশটেকি খাল, মান্ডা খাল এবং বেগুনবাড়ি খালগুলোর জন্য জমি অধিগ্রহন করে সংস্কার করা জরুরি প্রয়োজন।

বর্জ্য পানি এবং বৃষ্টির পানি যাতে এসব খাল দিয়ে সহজে নেমে যেতে পারে, সেজন্য বাইশটেকি খালের ভাটিতে সাংবাদিক কলোনি খালের পরে একটি খাল এবং মান্ডা ও বেগুনবাড়ি খাল চওড়া করা প্রয়োজন।

এছাড়া হাজারীবাগ খালের উজানে ও ভাটিতে কুর্মিটোলা নামে একটি নতুন খাল খননের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করার প্রয়োজন।