ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশে ফেরা মাত্রই শেখ হাসিনা কারাগারে যাবেন: চিফ প্রসিকিউটর খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরানি গণমাধ্যমে ১৩ বিদেশি নেতার ছবি প্রকাশ হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে মানসম্মত পাঠ্যবই তৈরির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: স্পিকার ‘বন্যা কবলিত মানুষের পুনর্বাসনে রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে’:গাজী আতাউর রহমান ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত সরকারের মোট ঋণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন চারটি নতুন বই: মাহদী আমিন

পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

বাংলাদেশ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত রসায়ন ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম।

যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে পানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পানি, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে দেশের টেক্সটাইল খাত আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে দাবি অধ্যাপক তৌফিক আলম ও তার গবেষণা সহযোগীদের।

উদ্ভাবিত নতুন এই প্রযুক্তি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও মেশিনারিজ প্রদর্শনীতে (ডিটিজি-২০১৮) প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া দেশের বেশ কয়েকটি টেক্সটাইল শিল্প কারখানায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও উপস্থাপন করা হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

ড. তৌফিক আলম বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে- ঢাকা শহরে বসবাসরত মানুষ যত পানি ব্যবহার করে, তার দ্বিগুণ পানি ব্যবহৃত হয় টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিগুলোতে। যা মূলত টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

আমরা যে প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছি, তা প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে শতকরা ৪৫ ভাগ পানি সাশ্রয় করবে এবং পরিবেশ দূষণ সর্বনিু পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি জানান, গ্রেইজ ফেব্রিকগুলো প্রথমেই ডাইংয়ের উপযোগী থাকে না।

এসব কাপড়ে তেল, চর্বি, মোম, গ্রিজ, প্রোটিন, প্রাকৃতিক রঙ, হেয়ারি ফাইবার ও অন্যান্য অপদ্রব্য লেগে থাকে। ডাইং করার আগে এসব অপদ্রব্য দূর করে নেয়া হল প্রি-ট্রিটমেন্টের প্রধান কাজ।

এর জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রথমটি প্রচলিত কস্টিক সোডা-পারঅক্সাইড পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহৃত হলেও ফেব্রিক ডাইংয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ফলে এই প্রক্রিয়াটি অধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দ্বিতীয়টি উৎসেচক (এনজাইমেটিক) পদ্ধতি। যা পরিবেশবান্ধব ও পানি সাশ্রয়ী। কিন্তু আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণে এর ব্যবহার সীমিত।

এই ক্ষেত্রে তারা একটি সক্রিয়ক (অ্যাক্টিভেটর) ব্যবহার করে উৎসেচক (পদ্ধতি) গতানুগতিক ফলকে অতিক্রম করে প্রচলিত পদ্ধতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রচলিত উৎসেচক পদ্ধতিতে প্রি-ট্রিটমেন্ট ৪ থেকে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি এক ধাপে সংঘটিত হবে। ফলে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পানির পাশাপাশি সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।

জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অর্থায়নে পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা কাজ করে আসছে।

ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম আহসান, দু’জন পিএইচডি গবেষক, পাঁচজন এমএসসি গবেষকসহ আটজন পরিশ্রমী গবেষকের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে পরিবেশবান্ধব এই টেক্সটাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম।

যা দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কারখানার বর্জ্য, রঙের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া কমিয়ে পরিবেশ ঠিক রাখার উপযোগী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

পরিবেশবান্ধব টেক্সটাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন

আপডেট সময় ০৭:৫৩:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ মার্চ ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

বাংলাদেশ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত রসায়ন ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম।

যা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে পানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পানি, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে দেশের টেক্সটাইল খাত আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে দাবি অধ্যাপক তৌফিক আলম ও তার গবেষণা সহযোগীদের।

উদ্ভাবিত নতুন এই প্রযুক্তি সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক টেক্সটাইল ও মেশিনারিজ প্রদর্শনীতে (ডিটিজি-২০১৮) প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া দেশের বেশ কয়েকটি টেক্সটাইল শিল্প কারখানায় উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও উপস্থাপন করা হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

ড. তৌফিক আলম বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে- ঢাকা শহরে বসবাসরত মানুষ যত পানি ব্যবহার করে, তার দ্বিগুণ পানি ব্যবহৃত হয় টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিগুলোতে। যা মূলত টেক্সটাইল প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

আমরা যে প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছি, তা প্রি-ট্রিটমেন্টের ক্ষেত্রে শতকরা ৪৫ ভাগ পানি সাশ্রয় করবে এবং পরিবেশ দূষণ সর্বনিু পর্যায়ে নিয়ে যাবে।’ তিনি জানান, গ্রেইজ ফেব্রিকগুলো প্রথমেই ডাইংয়ের উপযোগী থাকে না।

এসব কাপড়ে তেল, চর্বি, মোম, গ্রিজ, প্রোটিন, প্রাকৃতিক রঙ, হেয়ারি ফাইবার ও অন্যান্য অপদ্রব্য লেগে থাকে। ডাইং করার আগে এসব অপদ্রব্য দূর করে নেয়া হল প্রি-ট্রিটমেন্টের প্রধান কাজ।

এর জন্য মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। প্রথমটি প্রচলিত কস্টিক সোডা-পারঅক্সাইড পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ও অতিরিক্ত পানি ব্যবহৃত হলেও ফেব্রিক ডাইংয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ফলে এই প্রক্রিয়াটি অধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দ্বিতীয়টি উৎসেচক (এনজাইমেটিক) পদ্ধতি। যা পরিবেশবান্ধব ও পানি সাশ্রয়ী। কিন্তু আশানুরূপ ফল না পাওয়ার কারণে এর ব্যবহার সীমিত।

এই ক্ষেত্রে তারা একটি সক্রিয়ক (অ্যাক্টিভেটর) ব্যবহার করে উৎসেচক (পদ্ধতি) গতানুগতিক ফলকে অতিক্রম করে প্রচলিত পদ্ধতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। প্রচলিত উৎসেচক পদ্ধতিতে প্রি-ট্রিটমেন্ট ৪ থেকে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

কিন্তু তাদের উদ্ভাবিত পদ্ধতি এক ধাপে সংঘটিত হবে। ফলে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পানির পাশাপাশি সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে।

জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) অর্থায়নে পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা কাজ করে আসছে।

ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম আহসান, দু’জন পিএইচডি গবেষক, পাঁচজন এমএসসি গবেষকসহ আটজন পরিশ্রমী গবেষকের একনিষ্ঠ পরিশ্রমে পরিবেশবান্ধব এই টেক্সটাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম।

যা দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কারখানার বর্জ্য, রঙের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া কমিয়ে পরিবেশ ঠিক রাখার উপযোগী।