ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

দোকান কর্মচারীকে তুলে নেয়ার অভিযোগ, খোঁজ মেলেনি শিক্ষকের

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা থেকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের পরিচয়ে মুদি দোকানের এক কর্মচারীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ভাই বুধবার চারঘাট থানায় এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে গত শনিবার সকালে কালো মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া শিক্ষকের এখনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরের দিন তার পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষক ও মুদি দোকানের কর্মচারীর বাড়ি একই গ্রামে।

এবার তুলে নিয়ে যাওয়া মুদি দোকানের কর্মচারীর নাম আসাদুজ্জামান (২২)। তার বাবার নাম ইয়াসিন আলী। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার আস্করপুর সরকারপাড়া গ্রামে। আর কলেজ শিক্ষকের বাড়ি আস্করপুর পশ্চিমপাড়া।

আসাদুজ্জামান উপজেলার সরদহ বাজারে নজরুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এবং দুপুরের বিরতির পর বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তার দোকান খোলা থেকে। দোকান খোলা থাকার পুরোটা সময় আসাদুজ্জামান দোকানেই থাকেন। মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে তার সঙ্গেই আসাদুজ্জামান বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের পাশাপাশি বাড়ি। তিনি বাড়িতে ঢুকেছেন। এই মাত্র গোলমাল শুনে বাইরে এসে জানতে পারেন র‌্যাব পরিচয়ে আসাদুজ্জামানকে তিন-চারজন লোক এসে তুলে নিয়ে গেছে। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন। আসাদকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। ওই যুবক তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তখন তারা পরিচয় দিয়েছেন যে, তারা র‌্যাব। তখন যুবক আসাদকে ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে এ ব্যাপারে র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা জানেন না। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই এলাকায় তাদের কোনো অভিযানই চালানো হয়নি।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে আসাদুজ্জামানের ভাই মইনুল ইসলাম থানায় একটি খসড়া অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে র‌্যাব পরিচয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও খোঁজখবর নিয়ে তারা চূড়ান্ত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, এ ব্যাপারে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার অনুপমপুর এলাকা থেকে ডাকরা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শফিকুর রহমান ওরফে উজ্জ্বল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বজরুল ইসলামকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। ওই দিন দুপুরেই বজরুলকে পাবনার দাশুড়িয়া এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি নিরাপদে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনিও বলতে পারেননি যে কারা তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিক্ষক শফিকুর রহমানের কোনো খোঁজ তারা জানতে পারেননি। গত রবিবার সকালে শিক্ষক শফিকুর রহমানের শ্বশুর নজরুল ইসলাম পরিবারের পক্ষ থেকে চারঘাট থানায় একটি জিডি করেছেন।

এতে তিনি বলেছেন, তার জামাই শফিকুর রহমান কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে গত শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর আর ফিরে আসেননি। তিনি ডায়েরিতে শফিকুর রহমানের চেহারা ও পরিহিত পোশাকের বর্ণনা দিয়েছেন।

এদিকে কলেজ থেকে ফেরার পথে দুই শিক্ষককে তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষের মধ্যে এই দুই শিক্ষকের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই শিক্ষককে তুলে নেয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। এতে মানুষ স্বস্তি পাবে। তাছাড়া এ নিয়ে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। এদিকে দোকানের কর্মচারীকে তুলে নেওয়ায় মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দোকান কর্মচারীকে তুলে নেয়ার অভিযোগ, খোঁজ মেলেনি শিক্ষকের

আপডেট সময় ১২:৩০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা থেকে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের পরিচয়ে মুদি দোকানের এক কর্মচারীকে তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ভাই বুধবার চারঘাট থানায় এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে গত শনিবার সকালে কালো মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া শিক্ষকের এখনো খোঁজ মেলেনি। ঘটনার পরের দিন তার পরিবারের পক্ষ থেকেও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষক ও মুদি দোকানের কর্মচারীর বাড়ি একই গ্রামে।

এবার তুলে নিয়ে যাওয়া মুদি দোকানের কর্মচারীর নাম আসাদুজ্জামান (২২)। তার বাবার নাম ইয়াসিন আলী। তার বাড়ি চারঘাট উপজেলার আস্করপুর সরকারপাড়া গ্রামে। আর কলেজ শিক্ষকের বাড়ি আস্করপুর পশ্চিমপাড়া।

আসাদুজ্জামান উপজেলার সরদহ বাজারে নজরুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। দোকানের মালিক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এবং দুপুরের বিরতির পর বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তার দোকান খোলা থেকে। দোকান খোলা থাকার পুরোটা সময় আসাদুজ্জামান দোকানেই থাকেন। মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে তার সঙ্গেই আসাদুজ্জামান বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের পাশাপাশি বাড়ি। তিনি বাড়িতে ঢুকেছেন। এই মাত্র গোলমাল শুনে বাইরে এসে জানতে পারেন র‌্যাব পরিচয়ে আসাদুজ্জামানকে তিন-চারজন লোক এসে তুলে নিয়ে গেছে। তারা মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন। আসাদকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়েছে। ওই যুবক তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তখন তারা পরিচয় দিয়েছেন যে, তারা র‌্যাব। তখন যুবক আসাদকে ছেড়ে দিয়েছেন।

তবে এ ব্যাপারে র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা জানেন না। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ওই এলাকায় তাদের কোনো অভিযানই চালানো হয়নি।

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের দিকে আসাদুজ্জামানের ভাই মইনুল ইসলাম থানায় একটি খসড়া অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাতে র‌্যাব পরিচয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে আরও খোঁজখবর নিয়ে তারা চূড়ান্ত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

ওসি বলেন, এ ব্যাপারে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার অনুপমপুর এলাকা থেকে ডাকরা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক শফিকুর রহমান ওরফে উজ্জ্বল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বজরুল ইসলামকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। ওই দিন দুপুরেই বজরুলকে পাবনার দাশুড়িয়া এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি নিরাপদে বাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনিও বলতে পারেননি যে কারা তাদের তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।

এ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চারঘাট থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত শিক্ষক শফিকুর রহমানের কোনো খোঁজ তারা জানতে পারেননি। গত রবিবার সকালে শিক্ষক শফিকুর রহমানের শ্বশুর নজরুল ইসলাম পরিবারের পক্ষ থেকে চারঘাট থানায় একটি জিডি করেছেন।

এতে তিনি বলেছেন, তার জামাই শফিকুর রহমান কলেজে যাওয়ার উদ্দেশে গত শনিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। তারপর আর ফিরে আসেননি। তিনি ডায়েরিতে শফিকুর রহমানের চেহারা ও পরিহিত পোশাকের বর্ণনা দিয়েছেন।

এদিকে কলেজ থেকে ফেরার পথে দুই শিক্ষককে তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার মানুষের মধ্যে এই দুই শিক্ষকের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এই শিক্ষককে তুলে নেয়, তাহলে বিষয়টি দ্রুত প্রকাশ করা উচিত। এতে মানুষ স্বস্তি পাবে। তাছাড়া এ নিয়ে মানুষের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। এদিকে দোকানের কর্মচারীকে তুলে নেওয়ায় মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।