ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল দলিল পেশ করলো তুরস্ক সাইবার আইনে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকিতে ফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির সহকারী পরিচালক আটক: যুব উন্নয়নের ৪৫তম বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ: অনিশ্চিত জীবনে ৫৬ মেধাবী

বর্ণিল শোভাযাত্রা মিশল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া অত্যন্ত আনন্দদায়ক বিষয়। এই স্বীকৃতিতে আমরা জাতি হিসেবে গর্বিত বোধ করছি’- বলছিলেন জাতীয় কাবাডি দলের প্রশিক্ষক সুবিমল চন্দ্র দাস।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতির উৎসবে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার বর্ণিল শোভাযাত্রায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উৎসবে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকেই সচিবালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান লেখা সংবলিত রং-বেরঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে আসেন।

আনন্দ-উল্লাসে সর্বস্তরের মানুষ শোভাযাত্রায় এ অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছে লাখো মানুষ। ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ লেখা সবুজ-লাল টিশার্ট এবং একেক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ একেক রংয়ের টুপি পরে শোভাযাত্রায় যোগ দেন তারা। প্রায় সব দলের সামনে ছিল বাদকের দল।

কোনো কোনো দল এগিয়েছে বর্ণিল সাজে নেচে, গেয়ে। কোনো কোনো দলে ছিল হাতি, ঘোড়া, বিশাল আকৃতির নৌকা।

বেলা তিনটার দিকে মৎস্য ভবন ও শিল্পকলা একাডেমিসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের উৎসবমুখর পদচারণ। অনেকে খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রা নিয়ে এখানে আসছেন। ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্য বাজনায় উৎসবের আমেজ ছিল এই এলাকায়।

শোভাযাত্রায় জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দলের প্রশিক্ষকও যাচ্ছিলেন। এক ফাঁকে দৈনিক আকাশকে সুবিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে অবহেলিত ছিলাম, সেটা কাটিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নির্দেশনায় আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘শুধু অর্থনৈতিক দিক দিয়েই নয়, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, খেলাধুলায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতার স্বাক্ষর রাখছে, এ জন্য আমরা অবশ্যই গর্ব বোধ করি।’

মাথাপিছু আয়, মানবউন্নয়ন সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পরপর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের আবেদন পর্যালোচনা করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। একটি দেশের মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১২৩০ ডলার, মানবউন্নয়ন সূচকে স্কোর ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ৩২ বা তার কম হলে সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির যোগ্য বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১ ডলার, মানবউন্নয়ন সূচকের স্কোর ৭২.৯ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ২৪.৮ হওয়ায় বাংলাদেশ এ স্বীকৃতিপত্র পেয়েছে। তবে এই উত্তরণ পূর্ণাঙ্গ হবে ২০২৪ সালে।

আর বিশ্বব্যাংকের এই স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার আনন্দে বিকালে নগরীর নয়টি এলাকা থেকে শোভযাত্রা বের হয়। সবগুলো মিছিল গিয়ে মেশে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেখানে হয় আনন্দ আয়োজন।

মৎস্য ভবনের সামনে দেখা যায়, বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের শিশু-কিশোরদের, তাদের আনন্দ শোভাযাত্রায় সবার নজর কেড়েছে। তারা লাল-সবুজের বর্ণিল পোশাকে স্কেটিং করে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের মাহজাবীন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমাদের দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ, আগে আমরা স্বল্পোন্নত ছিলাম। এখন আর কেউ আর আমাদের ভিখারির জাতি বলতে পারবে না।’

শিক্ষা ভবনের পেছনে ও হাইকোর্টের মাজার সংলগ্ন গেটের সামনের মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, দোয়েল চত্বরের দিক থেকে হাজারো মানুষের স্রোত আসছে। এ

ই পথ দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারা অধিদপ্তর শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যায়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাজ্যে মানব পাচারকারী চক্রের ২১ সদস্যের কারাদণ্ড

বর্ণিল শোভাযাত্রা মিশল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে

আপডেট সময় ০৯:৪৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়া অত্যন্ত আনন্দদায়ক বিষয়। এই স্বীকৃতিতে আমরা জাতি হিসেবে গর্বিত বোধ করছি’- বলছিলেন জাতীয় কাবাডি দলের প্রশিক্ষক সুবিমল চন্দ্র দাস।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতির উৎসবে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার বর্ণিল শোভাযাত্রায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যোগ দেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উৎসবে যোগ দিতে দুপুরের পর থেকেই সচিবালয়সহ ঢাকার বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রা করে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারা উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন স্লোগান লেখা সংবলিত রং-বেরঙের টি-শার্ট ও টুপি পরে আসেন।

আনন্দ-উল্লাসে সর্বস্তরের মানুষ শোভাযাত্রায় এ অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছে লাখো মানুষ। ‘অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ লেখা সবুজ-লাল টিশার্ট এবং একেক মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ একেক রংয়ের টুপি পরে শোভাযাত্রায় যোগ দেন তারা। প্রায় সব দলের সামনে ছিল বাদকের দল।

কোনো কোনো দল এগিয়েছে বর্ণিল সাজে নেচে, গেয়ে। কোনো কোনো দলে ছিল হাতি, ঘোড়া, বিশাল আকৃতির নৌকা।

বেলা তিনটার দিকে মৎস্য ভবন ও শিল্পকলা একাডেমিসহ আশপাশের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের উৎসবমুখর পদচারণ। অনেকে খণ্ড খণ্ড শোভাযাত্রা নিয়ে এখানে আসছেন। ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্য বাজনায় উৎসবের আমেজ ছিল এই এলাকায়।

শোভাযাত্রায় জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে দলের প্রশিক্ষকও যাচ্ছিলেন। এক ফাঁকে দৈনিক আকাশকে সুবিমল চন্দ্র দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে অবহেলিত ছিলাম, সেটা কাটিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সঠিক নির্দেশনায় আমাদের দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘শুধু অর্থনৈতিক দিক দিয়েই নয়, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে, খেলাধুলায় এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফলতার স্বাক্ষর রাখছে, এ জন্য আমরা অবশ্যই গর্ব বোধ করি।’

মাথাপিছু আয়, মানবউন্নয়ন সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পরপর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের আবেদন পর্যালোচনা করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। একটি দেশের মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১২৩০ ডলার, মানবউন্নয়ন সূচকে স্কোর ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ৩২ বা তার কম হলে সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির যোগ্য বিবেচনা করা হয়।

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১ ডলার, মানবউন্নয়ন সূচকের স্কোর ৭২.৯ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ২৪.৮ হওয়ায় বাংলাদেশ এ স্বীকৃতিপত্র পেয়েছে। তবে এই উত্তরণ পূর্ণাঙ্গ হবে ২০২৪ সালে।

আর বিশ্বব্যাংকের এই স্বীকৃতিপত্র পাওয়ার আনন্দে বিকালে নগরীর নয়টি এলাকা থেকে শোভযাত্রা বের হয়। সবগুলো মিছিল গিয়ে মেশে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেখানে হয় আনন্দ আয়োজন।

মৎস্য ভবনের সামনে দেখা যায়, বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের শিশু-কিশোরদের, তাদের আনন্দ শোভাযাত্রায় সবার নজর কেড়েছে। তারা লাল-সবুজের বর্ণিল পোশাকে স্কেটিং করে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের মাহজাবীন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে দৈনিক আকাশকে বলেন, ‘আমাদের দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ, আগে আমরা স্বল্পোন্নত ছিলাম। এখন আর কেউ আর আমাদের ভিখারির জাতি বলতে পারবে না।’

শিক্ষা ভবনের পেছনে ও হাইকোর্টের মাজার সংলগ্ন গেটের সামনের মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, দোয়েল চত্বরের দিক থেকে হাজারো মানুষের স্রোত আসছে। এ

ই পথ দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‌্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারা অধিদপ্তর শোভাযাত্রা নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যায়।