ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

অবশেষে মারা গেলেন পাইলট মরহুম আবিদের স্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কতটুকু ভালবাসলে স্বামীর লাশের সামনে পৌঁছানোর পূর্বেই নিজেকে পরকালের সাথী করে এই পৃথিবীকে বিদায় জানানো যায়! বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট মরহুম আবিদ বিন সুলতান এর স্ত্রী মরহুমা পপি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। (ইন্নানিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজেউন)।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদের লাশ দেশে এসেছে সোমবার দুপুরে। কিন্তু তার আগেই হাসপাতালের বিছানায় মুত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ে আছেন পপি। হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আবিদের স্ত্রী মূলত ক্লিনিক্যালি ডেড।

আবিদের স্ত্রী আফসানা খানমের ভাই বর্তমানে নেপাল আছেন। তিনি মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরলে আফসানা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা। ধারণা করা হচ্ছে, তখনই তাকে অফিসিয়ালি মৃত ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, রোববার নিহত আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম উত্তরার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হবার পর আফসানা খানমের মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তিনি দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করেন।

হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সিরাজি শাফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার ভর্তি হবার পর আফসানা খানমের মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছিলো। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আমরা পরিবারকে ব্রিফ করেছিলাম।

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, আমরা শুনেছিলাম ওনার অবস্থা ভাল ছিলো না তাই হাসপাতাল থেকে স্বজনদের ডাকা হয়েছিলো। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিলো।

রোববার হাসপাতাল সূত্র জানায়, আফসানা খানমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। তিনি অধ্যাপক ডা. বদরুল আলমের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভর্তির পরপরই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তার মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট আবিদ সুলতান গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ক্যাপ্টেন আবিদকে কাঠমান্ডুর নরভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৩ মার্চ তিনি মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে মারা গেলেন পাইলট মরহুম আবিদের স্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৩৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কতটুকু ভালবাসলে স্বামীর লাশের সামনে পৌঁছানোর পূর্বেই নিজেকে পরকালের সাথী করে এই পৃথিবীকে বিদায় জানানো যায়! বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট মরহুম আবিদ বিন সুলতান এর স্ত্রী মরহুমা পপি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। (ইন্নানিল্লাহে ওয়া ইন্নাইলাইহে রাজেউন)।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাইলট আবিদের লাশ দেশে এসেছে সোমবার দুপুরে। কিন্তু তার আগেই হাসপাতালের বিছানায় মুত্যুপথযাত্রী হয়ে পড়ে আছেন পপি। হাসাপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আবিদের স্ত্রী মূলত ক্লিনিক্যালি ডেড।

আবিদের স্ত্রী আফসানা খানমের ভাই বর্তমানে নেপাল আছেন। তিনি মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরলে আফসানা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাবেন চিকিৎসকরা। ধারণা করা হচ্ছে, তখনই তাকে অফিসিয়ালি মৃত ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, রোববার নিহত আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম উত্তরার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হবার পর আফসানা খানমের মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়।

পরে হাসপাতালে থাকা অবস্থাতেই তিনি দ্বিতীয়বার স্ট্রোক করেন।

হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সিরাজি শাফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার ভর্তি হবার পর আফসানা খানমের মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছিলো। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আমরা পরিবারকে ব্রিফ করেছিলাম।

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, আমরা শুনেছিলাম ওনার অবস্থা ভাল ছিলো না তাই হাসপাতাল থেকে স্বজনদের ডাকা হয়েছিলো। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিলো।

রোববার হাসপাতাল সূত্র জানায়, আফসানা খানমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। তিনি অধ্যাপক ডা. বদরুল আলমের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভর্তির পরপরই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তার মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালে ইউএস বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট আবিদ সুলতান গুরুতর আহত হন। তার শরীরের বেশিরভাগ অংশই পুড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর ক্যাপ্টেন আবিদকে কাঠমান্ডুর নরভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৩ মার্চ তিনি মারা যান।