ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।