ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না: জি এম কাদের সংবিধানের দুর্বলতা দূর করতেই গণভোট: আলী রীয়াজ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ হলেই কেবল জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন: আসিফ নজরুল ওরা দেশকে ভালোবাসার নামে আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করে: চরমোনাই পীর বিশ্বকাপে বাংলাদেশে বাদকে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নিলো আইসিসি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তিতে সংলাপ জরুরি : শিক্ষা উপদেষ্টা আমার কোনো প্রতিশ্রুতি নেই, যা প্রয়োজন তাই করব: মির্জা আব্বাস নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না : সুজন

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে, এটাই আমাদের স্বপ্ন: পার্থ

ত্রিভুবন ট্র্যাজেডি, ২৩ মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর

আপডেট সময় ০৮:৪৫:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ২৩ বাংলাদেশির জানাজা শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে বিকাল পৌনে ছয়টায় শুরু হয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া।

আগে থেকেই স্বজনদের আহাজারিতে স্টেডিয়ামের পরিবেশ ভারী হয়ে ছিল। মরদেহ হস্তান্তরের সময় রোল ওঠে কান্নার। একেকজনের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কান্নার রোল আরও উচ্চকিত হয়। হৃদয়বিদারক এই পরিবেশ চোখে জল আনে উপস্থিত সবার।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। তারা মরদেহগুলো একে একে বয়ে এনে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে গাড়িতে তুলে দেন।

এর আগে আজ আসরের নামাজের পর ৫টা ২০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে ওই ২৩ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিমানমন্ত্রী শাহজাহান কামালসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি কর্মকর্তা, সেনাকর্মকর্তা, নিহতদের স্বজন-সহকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা জানান। আর জাতীয় সংসদের পক্ষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর স্বজন ও সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিহতদের প্রতি।

এর আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয় ২৩টি মরদেহ। এ সময় স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। সৃষ্টি হয় এক শোকাবহ পরিবেশের।

তারও আগে চারটা ১০ মিনিটের দিকে ২৩টি মরদেহ নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কার্গো বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে মরদেহ গ্রহণ করেন সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিমানমন্ত্রী শাহাজাহান কামাল।

আজ বেলা আড়াইটার দিকে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দর থেকে ২৩ মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় এয়ারক্রাফটটি। এর মধ্যে ছিল আঁখি মনি, বেগম নুরুন্নাহার, শারমিন আক্তার, নাজিয়া আফরিন, এফএইচ প্রিয়ক, উম্মে সালমা, বিলকিস আরা, আখতারা বেগম, মো. রকিবুল হাসান, মো. হাসান ইমাম, মিনহাজ বিন নাসির, তামারা প্রিয়ন্ময়ী, মো. মতিউর রহমান, এস এম মাহমুদুর রহমান, তাহারা তানভীন শশী রেজা, অনিরুদ্ধ জামান, রফিক উজ জামান, পাইলট আবিদ সুলতান, কো-পাইলট পৃথুলা রশিদ, খাজা সাইফুল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, সানজিদা ও নুরুজ্জামানের মরদেহ।

গত ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। বিমানের ৭১ আরোহীর মধ্যে চার ক্রুসহ ৫১ জন মারা যান। তাদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। ২৩ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অন্য তিনজনকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।