ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

জরুরি অবস্থার পরও শ্রীলঙ্কায় সহিংসতা অব্যাহত

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জরুরি অবস্থা জারির পরও শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে একটি মসজিদ ও দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সেখানকার মুসলিম বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার বৌদ্ধ ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ সারাদেশে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। এছাড়া সহিংসতাকবলিত ক্যান্ডি শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের কঠোর শাস্তি দেয়ারও ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

কান্ডি শহরের নিকটবর্তী মাদাওয়ালা গ্রামের এক বাসিন্দাকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলছে, জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করার কয়েক ঘণ্টা পরেও মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার সময় একজন মুসলিমের মালিকানাধীন একটি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া বৌদ্ধ সংঘাতকারীরা দাঙ্গাকারীরা কান্ডির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়াত্তেগামা গ্রামের একটি মসজিদেও হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় এক গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।

উল্লেখ্য কয়েকদিন আগে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক বৌদ্ধ নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে সোমবার কান্ডিতে পুলিশ প্রশাসন কারফিউ জারি করেছিল। এরপর অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত একটি ভবন থেকে এক মুসলিম নাগরিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সিরসো ১০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কায় ৭৫ শতাংশ বৌদ্ধ, ১০ শতাংশ মুসলিম ও ১৩ শতাংশ হিন্দুর বসবাস। ২০১৪ সালের জুনে মুসলিমবিদ্বেষী এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় শত শত মুসলমান বাস্তুহারা হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় তাদের অনেক বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বৈরাচার কোনোভাবেই যেন ফিরে আসতে না পারে: ডা. জাহিদ

জরুরি অবস্থার পরও শ্রীলঙ্কায় সহিংসতা অব্যাহত

আপডেট সময় ১১:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

জরুরি অবস্থা জারির পরও শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে একটি মসজিদ ও দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে করে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন সেখানকার মুসলিম বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার বৌদ্ধ ও মুসলিমদের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ সারাদেশে ১০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। এছাড়া সহিংসতাকবলিত ক্যান্ডি শহরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সহিংসতায় ইন্ধনদাতাদের কঠোর শাস্তি দেয়ারও ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ।

কান্ডি শহরের নিকটবর্তী মাদাওয়ালা গ্রামের এক বাসিন্দাকে উদ্ধৃত করে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলছে, জরুরি অবস্থা ও কারফিউ জারি করার কয়েক ঘণ্টা পরেও মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার সময় একজন মুসলিমের মালিকানাধীন একটি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া বৌদ্ধ সংঘাতকারীরা দাঙ্গাকারীরা কান্ডির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওয়াত্তেগামা গ্রামের একটি মসজিদেও হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয় এক গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।

উল্লেখ্য কয়েকদিন আগে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে সংঘর্ষে এক বৌদ্ধ নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে সোমবার কান্ডিতে পুলিশ প্রশাসন কারফিউ জারি করেছিল। এরপর অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত একটি ভবন থেকে এক মুসলিম নাগরিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সিরসো ১০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।

২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার দেশ শ্রীলঙ্কায় ৭৫ শতাংশ বৌদ্ধ, ১০ শতাংশ মুসলিম ও ১৩ শতাংশ হিন্দুর বসবাস। ২০১৪ সালের জুনে মুসলিমবিদ্বেষী এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় শত শত মুসলমান বাস্তুহারা হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় তাদের অনেক বাড়িঘর, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।